পাইওনিয়ার হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ

জনপ্রিয় লেখা

মেটা প্রোডাক্ট ব্রাউজিং: বিজ্ঞাপনে ট্যাপ করলে এখন কী হয়, আর কীভাবে বন্ধ করবেন

সূচিপত্র

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

মেটা প্রোডাক্ট ব্রাউজিং (Product browsing) চালু থাকলে বিজ্ঞাপনে ট্যাপ করলে ক্রেতা প্রথমে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের ভেতরেই পণ্যের তথ্য আর সাজেশন দেখতে পান, তারপর ওয়েবসাইটে গিয়ে কেনেন। ২৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে মেটা চলমান বিজ্ঞাপনগুলোতে এই সুবিধা নিজে থেকে চালু করে দিয়েছে, তাই আপনার চলমান বিজ্ঞাপনেও এটা চালু থাকতে পারে, আপনি নিজে চালু না করলেও।

এই লেখায় আপনি জানবেন প্রোডাক্ট ব্রাউজিং আসলে কী, ২৮ অক্টোবর কী বদলেছে, নিজের বিজ্ঞাপনে আছে কিনা কীভাবে যাচাই করবেন, বন্ধ করার ধাপ, আর রাখবেন না বন্ধ করবেন সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে নেবেন।

মেটা প্রোডাক্ট ব্রাউজিং কী

প্রোডাক্ট ব্রাউজিং হলো মেটার বিজ্ঞাপনের একটি সুবিধা, যা অ্যাডভান্টেজ প্লাস ক্রিয়েটিভ (Advantage+ Creative) এর আওতায় আসে। এটি একটি পার্সোনালাইজড ডেস্টিনেশন, অর্থাৎ বিজ্ঞাপনে ট্যাপ করার পর ক্রেতা প্রথমে যেখানে পৌঁছান, সেই জায়গাটি।

চালু থাকলে কেউ বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিওতে ট্যাপ করলে প্রথমে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের ভেতরে একটি পেজ দেখতে পান। সেই পেজে পণ্যের তথ্য, অফার আর তাঁর জন্য বাছা সাজেশন থাকে। তারপর তিনি ওয়েবসাইটে যান, আর কেনাকাটা ওয়েবসাইটেই হয়।

একটি শব্দ মনে রাখুন। নোটিশের ভাষায় ক্রেতা এই পেজটি দেখতে পারেন, অর্থাৎ প্রতিটি ট্যাপেই এই পথে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নোটিশ দেয়নি। আর কোন ট্যাপ কোন পথে গেল, তা বিজ্ঞাপনদাতাকে আলাদা করে জানায় না অ্যাডস ম্যানেজার।

পেজটি ক্যাটালগের পণ্য থেকে তথ্য নেয়, যেখানে ক্যাটালগ যুক্ত আছে। ক্যাটালগ না থাকলে আপনার বিজ্ঞাপনে পেজটি কেমন দেখাবে, তা নিজের অ্যাকাউন্টে যাচাই করে দেখুন, অনুমান করে নয়।

২৮ অক্টোবর আসলে কী বদলেছে

এটা নতুন ফিচার আসার খবর নয়, ডিফল্ট বদলের খবর। প্রোডাক্ট ব্রাউজিং আগেও ছিল, বিজ্ঞাপনদাতা চাইলে বিজ্ঞাপন ধরে ধরে চালু করতে পারতেন। ২৮ অক্টোবর থেকে মেটা চলমান বিজ্ঞাপনগুলোতে নিজে থেকে এটি যোগ করে দিয়েছে, যদি বিজ্ঞাপনদাতা আগেভাগে বন্ধ না করে থাকেন।

বিজ্ঞাপনের ছবি, লেখা বা বাজেট বদলায়নি। শুধু ট্যাপের পরের প্রথম স্ক্রিন বদলেছে। আগে ট্যাপ করলে ক্রেতা সরাসরি ওয়েবসাইটে যেতেন, এখন মাঝখানে ইন-অ্যাপ পেজ আসতে পারে।

একটি সতর্কতা পরিষ্কার করে রাখি। এই সুইচ নিয়ে মেটার কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা পাওয়া যায়নি। খবরটি এসেছে বিজ্ঞাপনদাতাদের পাঠানো মেটার নোটিশ থেকে, যার অনুলিপি ট্রেড প্রেসে প্রকাশিত হয়েছে। তাই এই লেখার তথ্য সেই নোটিশের ভিত্তিতে লেখা, আর আপনার অ্যাডস ম্যানেজারে দেখানো সেটিংই চূড়ান্ত ধরুন।

নোটিশটি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল ১৩ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ এর দিকে, আর অনুলিপিটি প্রকাশিত হয় ১৫ অক্টোবর ২০২৬। নোটিশে বলা হয়েছিল, ২৮ অক্টোবর থেকে চলমান বিজ্ঞাপনে প্রোডাক্ট ব্রাউজিং যোগ করা হবে।

বিজ্ঞাপনে ট্যাপ করলে এখন কী হয়

ট্যাপের যাত্রাটি ধাপে ধাপে বুঝে নিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। নিচের টেবিলে আগের আর এখনকার যাত্রা পাশাপাশি দেওয়া হলো।

ট্যাপের যাত্রা: আগে আর এখন

ধাপ ২৮ অক্টোবরের আগে ২৮ অক্টোবরের পরে
ট্যাপ ক্রেতা বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিওতে ট্যাপ করেন একই, ক্রেতা বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিওতে ট্যাপ করেন
প্রথম স্ক্রিন ক্রেতা সরাসরি বিজ্ঞাপনদাতার ওয়েবসাইটে পৌঁছান ক্রেতা প্রথমে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের ভেতরে পণ্যের পেজ দেখতে পারেন
সাজেশন ওয়েবসাইটের নিজের সাজেশনই দেখা যেত ইন-অ্যাপ পেজে পণ্যের তথ্য, অফার আর ব্যক্তিগত সাজেশন দেখা যায়
ওয়েবসাইটে পৌঁছানো কেনাকাটা ওয়েবসাইটে হয় কেনাকাটা এখনো ওয়েবসাইটেই হয়, পেজ থেকে ক্রেতা ওয়েবসাইটে যান

মনে রাখবেন, দ্বিতীয় ধাপের ইন-অ্যাপ পেজ সব ট্যাপে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নোটিশের ভাষায় ক্রেতা এই পেজ দেখতে পারেন, অর্থাৎ কিছু ট্যাপ সরাসরি ওয়েবসাইটেও যেতে পারে।

ক্রেতার দিক থেকে ভাবুন। ইন-অ্যাপ পেজে তিনি একাধিক পণ্য দেখতে পান, তাই একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে তিনি অন্য পণ্যে যেতে পারেন। এটি কারও জন্য ভালো, আবার যিনি শুধু একটি পণ্যের পেজে পাঠাতে চান, তাঁর জন্য অসুবিধা হতে পারে।

আপনার চলমান বিজ্ঞাপনে আছে কিনা যাচাই

যাচাইয়ের কাজটি বিজ্ঞাপন ধরে ধরে করতে হবে, কারণ সেটিংটি প্রতিটি বিজ্ঞাপনের নিজের। ক্যাম্পেইন বা অ্যাড সেটের একটি সিদ্ধান্তে সব বিজ্ঞাপন বদলাবে না।

  1. অ্যাডস ম্যানেজার (Ads Manager) খুলুন আর Ads ট্যাবে যান।
  2. সবচেয়ে বেশি খরচের বিজ্ঞাপনগুলো আগে দেখুন, কারণ সেগুলোতেই বদলের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে।
  3. একটি বিজ্ঞাপন খুলে Edit চাপুন।
  4. দুটি জায়গায় খুঁজুন: Advantage+ ক্রিয়েটিভ এনহ্যান্সমেন্টের ভেতরে, আর Destination বা Personalized destinations এর ভেতরে। খুঁজতে হবে Product browsing বা Add product browsing লেখাটি।
  5. লেখাটি চালু আছে না বন্ধ, তা লিখে রাখুন, বিজ্ঞাপনের নামসহ। এভাবে প্রতিটি চলমান বিজ্ঞাপন দেখুন।

সেটিংটি না পেলে ঘাবড়াবেন না। অ্যাকাউন্ট ভেদে লেখা আর জায়গা বদলায়। একটি জায়গায় না পেলে অন্য জায়গায় দেখুন, আর একটি বিজ্ঞাপনে না পেলে আরেকটি বিজ্ঞাপন খুলে দেখুন।

অনেক অ্যাকাউন্ট চালালে একই কাজ প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা করে করুন। একটি অ্যাকাউন্টে দেখা সেটিং অন্য অ্যাকাউন্টের প্রমাণ নয়।

তালিকা হাতে পেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। কোন বিজ্ঞাপনে চালু আছে, কোনটিতে বন্ধ, তা এক জায়গায় লিখে রাখুন, যাতে পরে রিপোর্টের সঙ্গে মেলাতে পারেন।

এই লেখার সুইচের তারিখ আর সেটিংয়ের তথ্য অক্টোবর ২০২৬-এ মেটার বিজ্ঞাপনদাতাদের নোটিশ (ট্রেড প্রেসে প্রকাশিত অনুলিপি থেকে যাচাই করা) থেকে যাচাই করা। মেটা এই সুইচ নিয়ে কোনো পাবলিক ঘোষণা দেয়নি, তাই আপনার Ads Manager-এ দেখানো সেটিংই চূড়ান্ত ধরুন।

নোটবুক, ফোন আর চায়ের কাপসহ বিজ্ঞাপন যাচাইয়ের ডেস্ক

বন্ধ করার ধাপ

বন্ধ করতে চাইলে সেটিংটি বিজ্ঞাপন ধরে ধরে বন্ধ করতে হবে। একবার বন্ধ করলেই সব বিজ্ঞাপন বন্ধ হবে, এমন কোনো একক বোতাম নোটিশে বলা হয়নি।

  1. অ্যাডস ম্যানেজারে বিজ্ঞাপনটি খুলে Edit চাপুন।
  2. যেখানে Product browsing বা Add product browsing লেখাটি পেয়েছিলেন, সেখানে গিয়ে টগলটি বন্ধ করুন।
  3. এডিট করা বিজ্ঞাপনটি পাবলিশ বা সেভ করুন, যাতে বদলটি কার্যকর হয়।
  4. আবার বিজ্ঞাপনটি খুলে দেখুন টগলটি বন্ধই আছে কিনা।

নোটিশের ভেতরে একটি Opt out বোতাম ছিল, কিন্তু তা শুধু ২৮ অক্টোবরের আগে কাজ করত। এখন সেই বোতাম দিয়ে বন্ধ করা যাবে না, তাই পুরনো নির্দেশনা দেখে সেই বোতাম খুঁজবেন না।

বন্ধ করলে বিজ্ঞাপন বন্ধ হবে না, ছবি বা বাজেটও বদলাবে না। শুধু ট্যাপের পরের যাত্রা আগের মতো হবে, ক্রেতা সরাসরি ওয়েবসাইটে যাবেন। আর নোটিশের ভাষায় টগলটি যেকোনো সময় বদলানো যায়, তাই পরে চাইলে আবার চালু করাও যাবে।

অনেক বিজ্ঞাপন থাকলে এক দিনে সব বদলাতে হবে না। বেশি খরচের বিজ্ঞাপন আগে করুন, বাকিগুলো পরের দিন করুন, তবে প্রতিটি বদলের তারিখ লিখে রাখুন।

নতুন আর ডুপ্লিকেট বিজ্ঞাপনে কী দেখবেন

নতুন বিজ্ঞাপনের কথা নোটিশে আলাদা করে বলা হয়নি। ২৮ অক্টোবরের পর বানানো বিজ্ঞাপন নতুন ডিফল্ট পাবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তাই প্রতিটি নতুন বিজ্ঞাপন চালু করার সময় সেটিংটি দেখে নিন, ধরে নেবেন না।

ডুপ্লিকেট বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনদাতাদের অভিজ্ঞতা থেকে একটি সতর্কতা এসেছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, বন্ধ করা বিজ্ঞাপন ডুপ্লিকেট করলে নতুন কপিতে প্রোডাক্ট ব্রাউজিং আবার চালু দেখা গেছে। এটি মেটার ঘোষণা নয়, বিজ্ঞাপনদাতাদের রিপোর্ট। তবু নিয়ম হিসেবে প্রতিটি ডুপ্লিকেট চালু করার আগে সেটিংটি দেখে নিন।

নোটিশের Opt out বোতাম একটি অ্যাকাউন্টের জন্য ছিল না পুরো ব্যবসার জন্য, তাও নোটিশে বলা হয়নি। এই অনিশ্চয়তার কারণেই বিজ্ঞাপন ধরে ধরে যাচাইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

চালু বিজ্ঞাপন এডিট করলে মেটা কখনো কখনো রিভিউয়ে পাঠায়। তাই টগল বদলানোর পর বিজ্ঞাপনের স্ট্যাটাস দেখে নিন। রিভিউয়ে আটকে থাকলে অপেক্ষা করুন, আবার এডিট করে জটিলতা বাড়াবেন না।

রাখবেন না বন্ধ করবেন: সিদ্ধান্তের গাইড

এই সিদ্ধান্তের কোনো সর্বজনীন সঠিক উত্তর নেই। কোনো ক্যাম্পেইনে চালু রাখা ভালো, কোনোটিতে বন্ধ করা ভালো, আর বিচারক আপনার নিজের বিক্রির ডেটা। নিচের টেবিলটি ধরন অনুযায়ী ভাবতে সাহায্য করবে।

কোন ধরনের বিজ্ঞাপনে কী করবেন

বিজ্ঞাপনের ধরন চালু রাখুন যদি বন্ধ করুন যদি
ক্যাটালগ বিক্রির বিজ্ঞাপন ক্যাটালগের পণ্য দেখিয়ে ক্রেতাকে বাছতে সাহায্য করতে চান ক্রেতাকে সরাসরি নির্দিষ্ট পণ্যের পেজে পাঠাতে চান
ব্র্যান্ড বা ল্যান্ডিং পেজ নির্ভর বিজ্ঞাপন পণ্য ঘুরে দেখা আপনার লক্ষ্যের অংশ প্রথম স্ক্রিনেই আপনার নিজের পেজের গল্প দেখাতে চান
নির্দিষ্ট ফর্ম পেজের লিড বিজ্ঞাপন ফর্মের আগে পণ্য দেখানো সাহায্য করে ক্রেতা যাতে সরাসরি ফর্মের পেজে পৌঁছান, সেটাই অগ্রাধিকার
ক্যাটালগ ছাড়া বিজ্ঞাপন ইন-অ্যাপ পেজে কী দেখাবে, তা আগে নিজের অ্যাকাউন্টে দেখে নিন পেজের চেহারা নিশ্চিত না হলে সরাসরি ওয়েবসাইটের পথই নিরাপদ

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভালো উপায় হলো ছোট পরীক্ষা। কিছু বিজ্ঞাপনে চালু রেখে আর কিছুতে বন্ধ করে একই সময়ের ফল মিলিয়ে দেখুন। তবে শুধু ক্লিক দেখে নয়, আসল বিক্রি আর লিড দেখে বিচার করুন।

পরীক্ষার সময় বাজেট আর টার্গেটিং দুই দলে এক রাখুন, নইলে ফলের পার্থক্য টগলের না অন্য কিছুর, তা বোঝা যাবে না।

থ্রেডসে বিজ্ঞাপন চালালে সেখানকার সেটআপ আলাদা, এই লেখায় তা শেখানো হচ্ছে না। থ্রেডসের বিজ্ঞাপন নিয়ে বিস্তারিত আছে থ্রেডস বিজ্ঞাপন নিয়ে আগের গাইডে।

মেটার ৩% দাবির আসল মানে

নোটিশে মেটা একটি পরীক্ষার ফল জানিয়েছে। তাদের হিসাবে, ইন-অ্যাপ প্রোডাক্ট ব্রাউজিং থাকা ক্যাম্পেইনে গড়ে ৩% বেশি কনভার্সন এসেছে, তা ছাড়া ক্যাম্পেইনের তুলনায়।

পরীক্ষাটি চলেছিল ৬ থেকে ২১ আগস্ট ২০২৬, প্রায় ১,১৭,৭০০ জন বিজ্ঞাপনদাতার ওপর, বিশ্বজুড়ে। এর মধ্যে ই-কমার্স, দৈনন্দিন পণ্য আর খুচরা বিক্রির মতো একাধিক খাত ছিল।

কিন্তু তিনটি জিনিস নোটিশ বলেনি। কনভার্সন হিসেবে কী ধরা হয়েছে, তার খরচ কেমন ছিল, আর ফল কীভাবে মাপা হয়েছে। তাই ৩% কে আপনার বিজ্ঞাপনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে ধরা যাবে না।

সঠিক বিচার আপনার নিজের ডেটা। ২৮ অক্টোবরের আগে আর পরের ফল মিলিয়ে দেখুন, আর টগল চালু আর বন্ধ অবস্থার ফলও আলাদা করে দেখুন। একই সময়ে আরও অনেক কিছু বদলায়, তাই একদিনের ফল দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

ট্র্যাকিং আর রিপোর্টে কী বদলায়

ট্র্যাকিংয়ের একটি ব্যবহারিক দিক মনে রাখুন। আপনার নিজের ওয়েবসাইটের অ্যানালিটিকস ক্রেতাকে দেখতে পায় তিনি ওয়েবসাইটে পৌঁছানোর পর। ইন-অ্যাপ পেজে তিনি কী দেখলেন, কতক্ষণ থাকলেন, তা আপনার সাইটের অ্যানালিটিকসে আসে না। সেই অংশের ছবি পাবেন অ্যাডস ম্যানেজারে।

এটি মেটার ঘোষণা হিসেবে বলা হচ্ছে না, এটি ব্যবহারিক যুক্তি। আপনার পিক্সেল আর ওয়েবসাইটের টুল চলে আপনার সাইটে, মেটার ইন-অ্যাপ পেজে নয়। তাই রিপোর্ট পড়ার সময় দুটি জায়গার ডেটা আলাদা করে দেখুন।

রিপোর্টে ২৮ অক্টোবর তারিখটি চিহ্নিত করে রাখুন। এই তারিখের আগে আর পরের ফল একসঙ্গে মেলালে বদলের কারণ বোঝা কঠিন হবে। তারিখটি চিহ্নিত থাকলে পরে কারণ খুঁজতে সুবিধা হবে।

রিপোর্টে টগলের অবস্থাও লিখে রাখুন। কোন বিজ্ঞাপনে টগল কবে বদলেছেন, তা না লিখলে পরে ফলের ওঠানামার কারণ বোঝা যাবে না।

৩০ অক্টোবরের শর্তাবলির সঙ্গে সম্পর্ক

একই সময়ে আরেকটি বদল এসেছে, তবে এটি আলাদা বিষয়। ৩০ অক্টোবর ২০২৬ থেকে মেটার সংশোধিত কমার্শিয়াল টার্মস আর সেলফ-সার্ভ অ্যাড টার্মস কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞাপন চালিয়ে গেলেই নতুন শর্ত মানা হয়েছে বলে ধরা হয়।

নতুন শর্তে বিজ্ঞাপনদাতাকেই নিজের বিজ্ঞাপনের জন্য সম্পূর্ণ দায়ী করা হয়েছে, মেটার স্বয়ংক্রিয় সুবিধা যা বানিয়েছে বা বেছেছে, তার ক্ষেত্রেও। এই অংশটি এখানে শুধু প্রসঙ্গ হিসেবে দেওয়া হলো, এটি আইনি পরামর্শ নয়। শর্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকলে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

সাবস্ক্রিপশন আর পেজের লিংক সীমা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়, তা নিয়ে বিস্তারিত আছে মেটা ওয়ান নিয়ে আগের গাইডে। দুটি বিষয় গুলিয়ে ফেললে সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে।

বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য বিশেষ কথা

বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো তালিকা বা তারিখ মেটার নোটিশে নেই। তাই বাংলাদেশের সব অ্যাকাউন্টে সুইচ পৌঁছেছে, এমন দাবি করা যাবে না।

আপনার অ্যাকাউন্টে সেটিংটি দেখা গেলেই সেটি আপনার জন্য প্রযোজ্য, এটাই সঠিক যাচাই। সেটিংটি না পেলে ধরে নেবেন না আপনার অ্যাকাউন্টে সমস্যা আছে। লেবেল বদলায়, চালু ধীরে ধীরে হয়, তাই কিছুদিন পর আবার দেখুন।

টাকার কোনো অঙ্ক এই লেখায় দেওয়া হয়নি, কারণ নোটিশে কোনো টাকার হিসাব নেই। খরচের বিচার আপনার নিজের অ্যাকাউন্টের ডেটা দিয়েই করুন।

এজেন্সি হয়ে ক্লায়েন্টের অ্যাকাউন্ট চালালে বদলের আগে ক্লায়েন্টকে জানিয়ে রাখুন। ট্যাপের যাত্রা বদলেছে, এই কথাটি আগেই জানানো থাকলে রিপোর্টের ফলের ওঠানামা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হবে না।

সচরাচর প্রশ্ন

আমার চলমান বিজ্ঞাপনে কি এটা চালু হয়েছে?

আপনি যদি ২৮ অক্টোবরের আগে Opt out না করে থাকেন, তাহলে চালু থাকার সম্ভাবনা বেশি। তবে নিশ্চিত হতে প্রতিটি বিজ্ঞাপনের সেটিং দেখুন, কারণ অ্যাকাউন্ট ভেদে পার্থক্য থাকতে পারে।

নোটিশের Opt out বোতাম কি এখনো কাজ করবে?

না। সেই বোতাম শুধু ২৮ অক্টোবরের আগে কাজ করত। এখন বন্ধ করতে চাইলে প্রতিটি বিজ্ঞাপনের টগল ব্যবহার করুন।

নতুন বিজ্ঞাপন বানালে কি এটা চালু থাকবে?

নোটিশে এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তাই নতুন বিজ্ঞাপন চালু করার সময় সেটিংটি দেখে নিন, চালু আছে ধরে নেবেন না।

ডুপ্লিকেট করলে কী হয়?

বিজ্ঞাপনদাতাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডুপ্লিকেট কপিতে সেটিংটি আবার চালু দেখা গেছে। এটি মেটার ঘোষণা নয়, তবু প্রতিটি ডুপ্লিকেট চালু করার আগে সেটিংটি দেখে নেওয়াই নিরাপদ।

বন্ধ করলে কি বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যাবে?

না। বন্ধ করলে শুধু ট্যাপের পরের যাত্রা বদলাবে, ক্রেতা সরাসরি ওয়েবসাইটে যাবেন। বিজ্ঞাপন, ছবি আর বাজেট আগের মতোই চলবে।

মেটার ৩% দাবি কি আমার জন্যও সত্যি?

৩% হলো মেটার নিজের পরীক্ষার গড় ফল, আপনার প্রতিশ্রুতি নয়। পরীক্ষায় কী ধরা হয়েছে, তা নোটিশ বলেনি। আপনার ফল আপনার ডেটাই বলবে।

ক্যাটালগ না থাকলে কী হবে?

ইন-অ্যাপ পেজ ক্যাটালগের পণ্য থেকে তথ্য নেয়, যেখানে ক্যাটালগ যুক্ত আছে। ক্যাটালগ না থাকলে পেজটি কেমন দেখাবে, তা নোটিশে পরিষ্কার নয়। তাই নিজের অ্যাকাউন্টে দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

তথ্যসূত্র

নিচের লিংকটি মেটার পাবলিক পোস্ট নয়, মেটার বিজ্ঞাপনদাতাদের নোটিশের অনুলিপি। PPC Land: Meta will turn on product browsing in existing ads on October 28

Jante Hobe

জানতে হবে একটি বাংলা জ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট। এখানে দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রশ্নের সহজ, স্পষ্ট ও ব্যবহারিক উত্তর দেওয়া হয়, যাতে পাঠকেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং আরও ভালো জীবন গড়তে পারেন।

https://jantehobe.com

সাম্প্রতিক লেখা

আলোচিত লেখা

সম্পাদকের পছন্দ

কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, আসল ছবি

বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫ এর ইতিহাস: কারণ, স্বদেশী আন্দোলন ও ১৯১১ সালে রদ

ভালো লাগলে শেয়ার করুনবঙ্গভঙ্গ ছিল ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশকে দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত, যা ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর কার্যকর হয়। এই ভাগের বিরুদ্ধে স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন শুরু হয়, আর ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। বঙ্গভঙ্গ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছিল না, এটি বাংলা ও ভারতের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এই...
দুজন মানুষ কথা বলছেন, আসল ছবি

Empathy Meaning in Bengali: সমানুভূতি অর্থ, উচ্চারণ, উদাহরণ ও Sympathy-র সঙ্গে পার্থক্য

ভালো লাগলে শেয়ার করুনEmpathy শব্দের বাংলা অর্থ সমানুভূতি, অর্থাৎ অন্য মানুষের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে তার অনুভূতি বোঝা আর তার দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি দেখা। দৈনন্দিন কথায় একে অনেক সময় সহানুভূতি বলা হয়, কিন্তু সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে, সহানুভূতি হলো দূর থেকে কারো দুঃখে সমবেদনা জানানো, আর সমানুভূতি হলো তার ভেতরের অবস্থান থেকে অনুভব করা। নোট: এই লেখার...
নীল আকাশে সাদা মেঘ, আসল ছবি

আকাশ কেন নীল দেখায়: র‍্যালে বিক্ষেপণ, লাল সূর্যাস্ত আর সাদা মেঘের সহজ ব্যাখ্যা

ভালো লাগলে শেয়ার করুনআকাশ নীল দেখায় কারণ বাতাসে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র কণা সূর্যের আলোর নীল রঙকে অন্য রঙের চেয়ে অনেক বেশি ছড়িয়ে দেয়, আর সেই ছড়ানো নীল আলোই চারদিক থেকে আমাদের চোখে আসে। সূর্যের আলো দেখতে সাদা লাগলেও তার ভেতরে সাত রঙ মিশে আছে, বাতাস সেই মিশেল থেকে নীলকে বেছে নিয়ে ছড়িয়ে দেয় বলেই দিনের...
জগদীশ চন্দ্র বসুর আসল ছবি

জগদীশ চন্দ্র বসুর জীবনী: বেতার তরঙ্গ, ক্রেসকোগ্রাফ ও বসু বিজ্ঞান মন্দিরের জনক

ভালো লাগলে শেয়ার করুনফিচার ছবি: জগদীশ চন্দ্র বসু, ১৮৯৭ সালের ছবি (Wikimedia Commons)। জগদীশ চন্দ্র বসু (Jagadish Chandra Bose) ছিলেন বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী আর উদ্ভিদ শারীরবিজ্ঞানী, যিনি বেতার তরঙ্গের পরীক্ষা আর উদ্ভিদের সাড়া মাপার যন্ত্র, দুই ক্ষেত্রেই পথ দেখিয়েছেন। তিনি ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন আর ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর ৭৮ বছর বয়সে গিরিডিতে মারা...
সিলেটের সবুজ চা বাগান, আসল ছবি

সিলেট ভ্রমণ গাইড: জাফলং, রাতারগুল, লালাখাল আর চা বাগান ঘোরার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা

ভালো লাগলে শেয়ার করুনসিলেট ভ্রমণ মানে পাহাড়, নদী, জলাভূমির বন আর চা বাগান, সব একসঙ্গে, এক জেলা থেকে আরেক জেলায় না ছুটে। সিলেট শহরকে ভিত্তি করে প্রতিদিন একেকটি রুট ঘোরা যায়, জাফলং একদিন, রাতারগুল আর বিছানাকান্দি আরেকদিন, সাদাপাথর আরেকদিন। এই গাইডে মৌসুম ধরে কোন জায়গা কখন ভালো লাগবে, যেকোনো জেলা থেকে সিলেট শহরে পৌঁছানোর উপায়,...

জানতে হবে একটি বাংলা জ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট। এখানে দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রশ্নের সহজ, স্পষ্ট ও ব্যবহারিক উত্তর দেওয়া হয়।

অবশ্যই পড়ুন

© ২০২৬ জানতে হবে (jantehobe.com) — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট: Raozan IT