ফিচার ছবি: জগদীশ চন্দ্র বসু, ১৮৯৭ সালের ছবি (Wikimedia Commons)।
জগদীশ চন্দ্র বসু (Jagadish Chandra Bose) ছিলেন বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী আর উদ্ভিদ শারীরবিজ্ঞানী, যিনি বেতার তরঙ্গের পরীক্ষা আর উদ্ভিদের সাড়া মাপার যন্ত্র, দুই ক্ষেত্রেই পথ দেখিয়েছেন। তিনি ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন আর ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর ৭৮ বছর বয়সে গিরিডিতে মারা যান। তাঁর পারিবারিক বাড়ি ছিল রাঢ়িখাল, বিক্রমপুরে। জন্মস্থান নিয়ে সূত্রে মতভেদ আছে, কোনো কোনো সূত্র ময়মনসিংহ বলে, কোনোটি বিক্রমপুর, তাই এই লেখায় জন্মস্থান হিসেবে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি (বর্তমান বাংলাদেশ) লেখা হয়েছে, আর পারিবারিক বাড়ির কথা আলাদা করে বলা হয়েছে।
নোট: এই জীবনীর তারিখ আর পরীক্ষার বিবরণ ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ব্রিটানিকা আর আইইইই মাইলস্টোনের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে। রাঢ়িখাল জাদুঘরের খোলার সময় আর প্রবেশ নিয়ম বদলাতে পারে, তাই যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন। পরে কিছু বদলালে শুধু এই নোটটি আপডেট করা হবে।
জগদীশ চন্দ্র বসু কে ছিলেন
জগদীশ চন্দ্র বসু ছিলেন একাধারে পদার্থবিজ্ঞানী, উদ্ভিদবিজ্ঞানী আর লেখক। পদার্থবিজ্ঞানে তিনি মিলিমিটার তরঙ্গ নিয়ে পরীক্ষা করেছেন, উদ্ভিদবিজ্ঞানে তিনি দেখিয়েছেন উদ্ভিদ বাহ্যিক উদ্দীপনায় বৈদ্যুতিক আর যান্ত্রিক সাড়া দেয়। তিনি বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা ভারতের প্রাচীনতম আন্তঃশাস্ত্রীয় গবেষণা কেন্দ্রগুলোর একটি। তাঁকে বাংলা কল্পবিজ্ঞানের জনক বলা হয়, আর চাঁদের একটি গর্তের নাম তাঁর নামে রাখা হয়েছে। তাঁর জীবনের বিশেষত্ব হলো, তিনি দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ক্ষেত্রে গভীর কাজ করেছেন, প্রথমে পদার্থবিজ্ঞানে, পরে উদ্ভিদবিজ্ঞানে, আর দুই ক্ষেত্রেই তিনি নিজের হাতে যন্ত্র বানিয়ে পরীক্ষা করেছেন। তাঁর জীবনী পড়লে বোঝা যায়, একজন বিজ্ঞানী একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান আর সাহিত্য, তিন ক্ষেত্রেই অবদান রাখতে পারেন।
জন্ম ও শৈশব
জগদীশ চন্দ্র বসুর বাবা ভগবান চন্দ্র বসু ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আর ব্রাহ্ম সমাজের সদস্য। বাবা তাঁকে প্রথমে ফরিদপুরে বাংলা মাধ্যমের স্কুলে পড়িয়েছেন, যাতে মাতৃভাষায় শিক্ষার ভিত্তি তৈরি হয়। পরে তিনি কলকাতায় পড়াশোনা করেন। পারিবারিক বাড়ি রাঢ়িখালে ছিল তাঁর শিকড়ের জায়গা, পরে সেখানে স্মৃতি জাদুঘর তৈরি হয়েছে। শৈশবের এই বাংলা মাধ্যমের শিক্ষা তাঁর জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছিল, কারণ তিনি সারাজীবন বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার পক্ষে ছিলেন। বাবার আদর্শও তাঁর জীবনে কাজ করেছে, কারণ ভগবান চন্দ্র বসু নিজে শিক্ষা আর সমাজসেবায় বিশ্বাস করতেন, আর ছেলের পড়াশোনায় কোনো আপস করেননি।
পড়াশোনা: কলকাতা থেকে কেমব্রিজ
জগদীশ চন্দ্র বসু ১৮৭৫ সাল থেকে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়েন। কলকাতায় ডিগ্রি নেওয়ার বছর নিয়ে সূত্রে মতভেদ আছে, ১৮৭৭, ১৮৭৯ আর ১৮৮০, তিনটি বছরই পাওয়া যায়, তাই এই লেখায় কলকাতার ডিগ্রির নির্দিষ্ট বছর লেখা হয়নি। তিনি লন্ডনে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে গিয়েছিলেন, কিন্তু স্বাস্থ্যের কারণে ১৮৮০ সালে তা ছেড়ে দেন। ১৮৮১ সাল থেকে তিনি কেমব্রিজের ক্রাইস্টস কলেজে পড়েন, আর ১৮৮৪ সালে ন্যাচারাল সায়েন্সেস ট্রাইপসে বিএ ডিগ্রি পান।
প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক ও বেতন ছাড়া তিন বছর
১৮৮৫ সাল থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত জগদীশ চন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। শুরুতে তাঁকে ইউরোপীয় অধ্যাপকদের চেয়ে কম বেতন দেওয়া হয়েছিল, এর প্রতিবাদে তিনি তিন বছর বেতন ছাড়া পড়িয়েছেন। পরে তাঁকে পূর্ণ বকেয়া বেতন দেওয়া হয়। এই ঘটনা তাঁর আত্মমর্যাদা আর ন্যায়বোধের পরিচয় দেয়, আর ছাত্রদের কাছে তিনি শুধু শিক্ষক নন, নীতির মানুষ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। প্রেসিডেন্সি কলেজেই তিনি তাঁর বিখ্যাত বেতার তরঙ্গের পরীক্ষা করেছেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই পরে বড় বিজ্ঞানী হয়েছেন, কারণ তিনি পরীক্ষা করে দেখানোয় বিশ্বাস করতেন, শুধু বই পড়ানোয় নয়।
বেতার তরঙ্গের পরীক্ষা: ১৮৯৫ সালের প্রদর্শনী
১৮৯৫ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে জগদীশ চন্দ্র বসু এক ঐতিহাসিক প্রদর্শনী করেন। তিনি ৬০ গিগাহার্জ মিলিমিটার তরঙ্গ প্রায় ২৩ মিটার দূরে পাঠান, দুটি দেওয়ালের ভেতর দিয়ে, আর দূরে থাকা ঘণ্টা বাজিয়ে আর গানপাউডার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেখান। এই পরীক্ষায় তিনি স্পার্ক ট্রান্সমিটার, কোহেরার, ডাইইলেকট্রিক লেন্স, পোলারাইজার, হর্ন অ্যান্টেনা আর সিলিন্ড্রিক্যাল ডিফ্র্যাকশন গ্রেটিং ব্যবহার করেন। আইইইই এই পরীক্ষাকে মাইলস্টোন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এই মাইলস্টোন উৎসর্গ করা হয়।
কোহেরার ও পেটেন্ট: মার্কনির সঙ্গে সম্পর্ক
জগদীশ চন্দ্র বসু রেডিও আবিষ্কার করেছেন, এই সরল দাবিটি সত্য নয়, আর এই লেখায় তা লেখা হয়নি। সত্য হলো, তিনি মার্কনির আগেই মিলিমিটার তরঙ্গের পরীক্ষা দেখিয়েছেন, কিন্তু তিনি সাধারণত পেটেন্ট ব্যবস্থা থেকে দূরে থেকেছেন, তাই বাণিজ্যিক রেডিওর কৃতিত্ব মার্কনির কাছে গেছে। মার্কনি ১৯০১ সালে প্রথম আটলান্টিক পেরিয়ে সংকেত পাঠাতে বসুর পারদ কোহেরার ব্যবহার করেছেন বলে ব্রিটানিকায় বলা হয়েছে। বসুর প্রথম পেটেন্ট ছিল গ্যালেনা স্ফটিক দিয়ে তৈরি সলিড-স্টেট ডায়োড ডিটেক্টর, মার্কিন পেটেন্ট ৭৫৫৮৪০, ১৯০৪ সালের ২৯ মার্চ মঞ্জুর হয়। আইইইই তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের অন্যতম জনক বলে। তাঁর এই কাজ আধুনিক মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরি করেছে, যা আজকের বেতার যোগাযোগ, রাডার আর উপগ্রহ যোগাযোগের পেছনে আছে। তিনি যদি পেটেন্টের দিকে মন দিতেন, তাহলে হয়তো বাণিজ্যিক কৃতিত্বও তাঁর কাছে আসত, কিন্তু তিনি জ্ঞানকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে চেয়েছিলেন।

উদ্ভিদের সাড়া ও ক্রেসকোগ্রাফ
পরের জীবনে জগদীশ চন্দ্র বসু উদ্ভিদের দিকে মন দেন। তিনি দেখান, উদ্ভিদ আলো, তাপমাত্রা, রাসায়নিক আর চেতনানাশকের মতো উদ্দীপনায় বৈদ্যুতিক আর যান্ত্রিক সাড়া দেয়, যার মধ্যে ক্লান্তি, উত্তেজনা আর মৃত্যুর সময়ের খিঁচুনিও আছে। উদ্ভিদ মানুষের মতো ব্যথা বা আনন্দ অনুভব করে, এই দাবি সত্য নয়, সঠিক কথা হলো উদ্ভিদ উদ্দীপনায় প্রাণীর স্নায়ু সংকেতের সঙ্গে তুলনীয় বৈদ্যুতিক সংকেত দেয়। এই সাড়া মাপার জন্য তিনি ক্রেসকোগ্রাফ বানান, যেখানে ঘড়ির কাঁটার মতো গিয়ার আর ধোঁয়াটে কাচের প্লেট দিয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এক ইঞ্চির এক লক্ষ ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত মাপা যেত। তাঁর বই দুটি হলো রেসপন্স ইন দ্য লিভিং অ্যান্ড নন-লিভিং (১৯০২) আর দ্য নার্ভাস মেকানিজম অব প্ল্যান্টস (১৯২৬)। এই কাজের জন্য তাঁকে প্রথমে সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছিল, কারণ উদ্ভিদের স্নায়ুতন্ত্রের ধারণা তখন নতুন ছিল, কিন্তু তাঁর যন্ত্রের মাপজোখ এত নিখুঁত ছিল যে ধীরে ধীরে তাঁর কাজ স্বীকৃতি পায়।
লেখক বসু: নিরুদ্দেশের কাহিনী
জগদীশ চন্দ্র বসু শুধু বিজ্ঞানী নন, লেখকও ছিলেন। ১৮৯৬ সালে তিনি নিরুদ্দেশের কাহিনী লেখেন, যা পরে পলাতক তুফান নামে পরিচিত হয়। তাঁকে বাংলা কল্পবিজ্ঞানের জনক বলা হয়, কারণ এই গল্পে বিজ্ঞানের কল্পনা বাংলা সাহিত্যে নতুন পথ খুলেছিল। বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি বাংলায় লেখার পক্ষে ছিলেন, আর তাঁর এই লেখা সেই বিশ্বাসেরই প্রমাণ। এই গল্পে তিনি বিজ্ঞানের ধারণাকে গল্পের ভেতরে এনেছেন, যাতে সাধারণ পাঠকও বিজ্ঞানের আনন্দ পান। বাংলা সাহিত্যে বিজ্ঞানভিত্তিক গল্পের ধারা তাঁর হাত ধরেই শুরু হয়, পরে অনেক লেখক এই পথে হেঁটেছেন।
বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা
১৯১৭ সালের ৩০ নভেম্বর, তাঁর ৬০তম জন্মদিনে, বসু বিজ্ঞান মন্দির জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়। তিনি মৃত্যু পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম পরিচালক ছিলেন। বসু বিজ্ঞান মন্দির ছিল এশিয়ার প্রথম আন্তঃশাস্ত্রীয় গবেষণা কেন্দ্রগুলোর একটি, যেখানে পদার্থবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান আর অন্যান্য শাস্ত্র একসঙ্গে গবেষণা হতো। তাঁর স্ত্রী অবলা বসু ছিলেন সমাজকর্মী, তিনি স্বামীর ইচ্ছা অনুযায়ী মৃত্যুর পর গবেষণা বৃত্তির জন্য অর্থ দান করেন। বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁর একটি বড় স্বপ্ন ছিল, ভারতের মাটিতে বিশ্বমানের গবেষণা হবে, আর ভারতীয় বিজ্ঞানীরা বিদেশে না গিয়েও দেশে গবেষণা করতে পারবেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে পরবর্তী প্রজন্মের অনেক বিজ্ঞানী তৈরি হয়েছেন।
সম্মান ও স্বীকৃতি
জগদীশ চন্দ্র বসু অনেক সম্মান পেয়েছেন। তিনি ১৯০৩ সালে সিআইই, ১৯১১ সালে সিএসআই পান, ১৯১৭ সালে নাইট উপাধি পান, আর ১৯২০ সালে রয়েল সোসাইটির ফেলো হন। আইইইই তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের জনকদের একজন বলে, আর চাঁদের একটি গর্তের নাম তাঁর নামে রাখা হয়েছে। তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি, এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট করে দেওয়া ভালো, কারণ অনেকেই ভাবেন তিনি নোবেল পেয়েছিলেন। বোস অডিও কোম্পানির নাম তাঁর নামে নয়, সেই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা অমর বোস, এই ভুল ধারণাটিও ভেঙে দেওয়া দরকার। তাঁর সম্মানের তালিকা দেখলে বোঝা যায়, ব্রিটিশ সরকার আর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মহল, দুই জায়গাতেই তাঁর কাজ স্বীকৃতি পেয়েছিল, যদিও তিনি নিজে কখনো সম্মানের পেছনে ছোটেননি।
| বছর | ঘটনা |
|---|---|
| ১৮৫৮ | ৩০ নভেম্বর জন্ম |
| ১৮৮৪ | কেমব্রিজে ন্যাচারাল সায়েন্সেস ট্রাইপসে বিএ |
| ১৮৮৫ | প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান |
| ১৮৯৫ | মিলিমিটার তরঙ্গের প্রদর্শনী |
| ১৮৯৬ | নিরুদ্দেশের কাহিনী প্রকাশ |
| ১৯০৪ | গ্যালেনা ডিটেক্টরের পেটেন্ট মঞ্জুর |
| ১৯১৭ | বসু বিজ্ঞান মন্দির উৎসর্গ, নাইট উপাধি |
| ১৯২০ | রয়েল সোসাইটির ফেলো |
| ১৯৩৭ | ২৩ নভেম্বর গিরিডিতে মৃত্যু |
রাঢ়িখালের স্মৃতি জাদুঘর ও উত্তরাধিকার
রাঢ়িখালে জগদীশ চন্দ্র বসুর পারিবারিক বাড়িতে স্মৃতি জাদুঘর আছে, যেখানে তাঁর জীবন আর কাজের স্মৃতি দেখা যায়। জাদুঘরে গেলে খোলার সময় আর প্রবেশ নিয়ম আগে থেকে যাচাই করে নিন, কারণ এগুলো বদলাতে পারে। তাঁর উত্তরাধিকার আজও বেঁচে আছে বসু বিজ্ঞান মন্দিরে, তাঁর যন্ত্রগুলোতে, আর বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যে। তিনি দেখিয়েছেন, বিজ্ঞান শুধু পরীক্ষাগারের কাজ নয়, ভাষা, সাহিত্য আর জাতির আত্মমর্যাদার সঙ্গেও জড়িত। আজকের ছাত্ররা তাঁর জীবন থেকে দুটি শিক্ষা নিতে পারেন, প্রথমটি হলো নিজের হাতে পরীক্ষা করে দেখা, দ্বিতীয়টি হলো অন্যায়ের সামনে মাথা না নোয়ানো। তাঁর নামে আজও স্কুল, কলেজ আর গবেষণা প্রতিষ্ঠান আছে।
সচরাচর প্রশ্ন
জগদীশ চন্দ্র বসু কে ছিলেন? তিনি ছিলেন বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী আর উদ্ভিদ শারীরবিজ্ঞানী, বেতার তরঙ্গের পরীক্ষা, ক্রেসকোগ্রাফ আর বসু বিজ্ঞান মন্দিরের জন্য পরিচিত।
তিনি কি রেডিও আবিষ্কার করেছেন? না, তিনি রেডিও আবিষ্কার করেননি। তিনি মার্কনির আগেই মিলিমিটার তরঙ্গের পরীক্ষা দেখিয়েছেন, কিন্তু পেটেন্ট থেকে দূরে থাকায় বাণিজ্যিক রেডিওর কৃতিত্ব মার্কনির কাছে গেছে।
ক্রেসকোগ্রাফ কীসের যন্ত্র? ক্রেসকোগ্রাফ উদ্ভিদের বৃদ্ধি আর সাড়া মাপার যন্ত্র, যা এক ইঞ্চির এক লক্ষ ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি মাপতে পারত।
তিনি কি প্রমাণ করেছেন উদ্ভিদের প্রাণ আছে? তিনি দেখিয়েছেন উদ্ভিদ উদ্দীপনায় বৈদ্যুতিক আর যান্ত্রিক সাড়া দেয়, যা প্রাণীর স্নায়ু সংকেতের সঙ্গে তুলনীয়। উদ্ভিদ মানুষের মতো ব্যথা বা আনন্দ অনুভব করে, এই দাবি সঠিক নয়।
বসু বিজ্ঞান মন্দির কোথায় আর কে প্রতিষ্ঠা করেছেন? বসু বিজ্ঞান মন্দির কলকাতায়, জগদীশ চন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠা করেছেন, ১৯১৭ সালের ৩০ নভেম্বর এটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়।
তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন? তিনি বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁর পারিবারিক বাড়ি ছিল রাঢ়িখাল, বিক্রমপুরে। জন্মস্থান নিয়ে সূত্রে মতভেদ আছে, তাই কোনো একটি গ্রামকে জন্মস্থান হিসেবে দাবি করা হয়নি।
তিনি কি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? না, তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি, যদিও তিনি রয়েল সোসাইটির ফেলো আর নাইট উপাধি পেয়েছিলেন।
রাঢ়িখাল জাদুঘরে কী দেখা যায়? তাঁর জীবন আর কাজের স্মৃতি, যন্ত্র আর পারিবারিক বাড়ির পরিবেশ। যাওয়ার আগে খোলার সময় আর প্রবেশ নিয়ম যাচাই করে নিন।
তথ্যসূত্র: জগদীশ চন্দ্র বসুর জীবনী https://www.britannica.com/biography/Jagadish-Chandra-Bose, মিলিমিটার তরঙ্গ পরীক্ষার আইইইই মাইলস্টোন https://ethw.org/Milestones:First_Millimeter-wave_Communication_Experiments_by_J.C._Bose,_1894-96, বসু বিজ্ঞান মন্দিরের ইতিহাস https://jcbose.ac.in/history।
