দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু থাকলে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জানলেও অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না। সাইন-ইনের সময় আপনার ফোনে আসা নিশ্চিতকরণ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপ পার হওয়া যায় না। পুরো সেটআপে সময় লাগবে পাঁচ মিনিটের মতো, আর করা যায় ফোন বা কম্পিউটার যেকোনোটি দিয়েই।
দুই ধাপের যাচাইকরণ (Two-Step Verification) হলো Google অ্যাকাউন্টের একটি নিরাপত্তা সুবিধা। প্রথম ধাপে আপনি দেন পাসওয়ার্ড, দ্বিতীয় ধাপে ফোনে আসা প্রম্পট, কোড বা পাসকি দিয়ে নিশ্চিত করেন যে সাইন-ইনটি আপনিই করছেন। এই সুবিধা Gmail এর জন্য আলাদা করে চালু করতে হয় না। আপনার Google অ্যাকাউন্টে চালু করলেই Gmail, Drive, YouTube সহ সব Google সেবায় তা কাজ করে। কারণ জিমেইল অ্যাকাউন্ট মানেই একটি Google অ্যাকাউন্ট।
যা যা লাগবে
- আপনার Google অ্যাকাউন্টের ইমেইল ঠিকানা ও পাসওয়ার্ড
- নিজের ব্যবহারের একটি মোবাইল ফোন, যাতে সিম সচল আছে
- ফোন বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ
- দুই মিনিটের মতো নিরবচ্ছিন্ন সময়
ফোনে Gmail অ্যাপ থাকলে ভালো হয়, কারণ দ্বিতীয় ধাপের প্রম্পট অনেক সময় অ্যাপেই আসে। অ্যাপ না থাকলেও SMS বা ফোন কলের মাধ্যমে কোড নেওয়া যায়।
ধাপ ১: Google অ্যাকাউন্টের পেজে যান
ফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে myaccount.google.com ঠিকানাটি খুলুন। Gmail অ্যাপ থেকে গেলে প্রোফাইল ছবিতে চাপ দিয়ে Google অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করার অপশনটি বেছে নিন। যে অ্যাকাউন্টটি সুরক্ষিত করতে চান, ঠিক সেই অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন করা আছে কিনা দেখে নিন। অনেকের ফোনে একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকে, ভুল অ্যাকাউন্টে সেটআপ করে ফেলাটা একটি সাধারণ ভুল।
ধাপ ২: নিরাপত্তা ও সাইন-ইন অংশটি খুলুন
অ্যাকাউন্ট পেজে নিরাপত্তা ও সাইন-ইন নামের অংশটিতে যান। কম্পিউটারে এটি সাধারণত বাম পাশের তালিকায় থাকে, ফোনে ওপরের দিকে বা মেনুর ভেতরে থাকে। ডিভাইস ভেদে নাম ও অবস্থান সামান্য বদলাতে পারে, তবে খুঁজতে হবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অংশটিই। এই পেজেই পাসওয়ার্ড, সাইন-ইনের পদ্ধতি আর অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা যাচাইয়ের সব অপশন সাজানো থাকে।
ধাপ ৩: দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করার অপশন বেছে নিন
নিরাপত্তা পেজে Google এ কীভাবে সাইন-ইন করবেন শিরোনামের অংশটি খুঁজুন। সেখানে দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করুন লেখা অপশনটি পাবেন। সেটিতে চাপ দিন। এগোনোর আগে Google আবার পাসওয়ার্ড চাইতে পারে, এটি স্বাভাবিক। পাসওয়ার্ড দিয়ে নিশ্চিত করুন যে সেটআপটি আপনিই করছেন। তারপর পর্দায় দেখানো নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে যান।
ধাপ ৪: ফোন দিয়ে দ্বিতীয় ধাপটি যাচাই করুন
এই ধাপে Google আপনার ফোনে একটি যাচাইকরণ পাঠাবে। Android ফোনে সাধারণত প্রম্পট আসে, যেখানে আপনি নিজের সাইন-ইন হলে হ্যাঁ চাপ দেন। অনেক ক্ষেত্রে ছয় সংখ্যার কোড SMS এ বা ফোন কলে আসে, সেই কোডটি পর্দায় বসাতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যামেরা দিয়ে QR কোড স্ক্যান করেও নম্বর যাচাই করা যায়।
প্রম্পট এলে তাড়াহুড়া করে হ্যাঁ চাপবেন না। প্রম্পটে সাধারণত কোন ডিভাইস থেকে এবং কোন এলাকা থেকে সাইন-ইনের চেষ্টা হচ্ছে তা দেখা যায়। তথ্য দুটি নিজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। সাইন-ইনটি আপনার না হলে না চাপ দিন, তাহলে চেষ্টাটি সেখানেই আটকে যাবে। অচেনা প্রম্পট বারবার এলে বুঝতে হবে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জেনে গেছে, সেক্ষেত্রে দ্রুত পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন।
একটি বিষয় সবসময় মনে রাখবেন। যাচাইকরণ কোড কখনো কারো সঙ্গে ভাগ করবেন না। Google কখনো ফোন করে বা বার্তা পাঠিয়ে আপনার কোড জানতে চায় না। কেউ কোড চাইলে বুঝবেন তিনি প্রতারক।
ধাপ ৫: চালু করা নিশ্চিত করুন
যাচাই শেষ হলে চালু করুন বোতামে চাপ দিতে হতে পারে। এরপর পেজের ওপরে দেখা যাবে, দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু আছে। এখানেই কাজ শেষ ভাবলে ভুল হবে। পরের অংশের বাড়তি সুরক্ষাগুলো সাজিয়ে রাখলেই সেটআপটি সম্পূর্ণ হয়, বিশেষ করে ফোন হারিয়ে গেলে এগুলোই কাজে আসে।
চালু করার পর যে বিষয়গুলো সাজিয়ে রাখবেন
Google প্রম্পট ব্যবহার করুন। দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে প্রম্পট সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। কোড টাইপ করার ঝামেলা নেই, ফোনে আসা বার্তায় হ্যাঁ বা না চাপলেই কাজ হয়। Google নিজেও কোডের বদলে প্রম্পট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, কারণ এটি সিম বদলের মতো ফোন নম্বরভিত্তিক প্রতারণা থেকে তুলনামূলক বেশি সুরক্ষা দেয়।
ব্যাকআপ কোড সংগ্রহ করে রাখুন। দুই ধাপের যাচাইকরণ পেজ থেকেই ব্যাকআপ কোড পাওয়া যায়। এগুলো আট সংখ্যার একবার ব্যবহারযোগ্য কোড। ফোন হারিয়ে গেলে বা কোড না এলে এই কোড দিয়ে সাইন-ইন করা যায়। কোডগুলো ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে নিরাপদ কোনো জায়গায় রাখুন। ফোনের গ্যালারিতে স্ক্রিনশট হিসেবে রাখা নিরাপদ নয়।
Authenticator অ্যাপ যুক্ত করুন। Google Authenticator বা এমন অন্য অ্যাপ ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই কোড তৈরি করে। বিদেশ ভ্রমণে বা নেটওয়ার্ক না থাকলে এই পদ্ধতি সবচেয়ে কাজে আসে। অ্যাপটি সেটআপ করার সময় পর্দায় দেখানো নির্দেশনা ধাপে ধাপে অনুসরণ করলেই হয়।
পারলে পাসকি তৈরি করে রাখুন। পাসকি (Passkey) হলো পাসওয়ার্ডের আধুনিক বিকল্প, যেখানে আঙুলের ছাপ, মুখের স্ক্যান বা ফোনের পিন দিয়েই সাইন-ইন করা যায়। পাসকি শুধু আপনার নিজের ডিভাইসেই থাকে, লিখে রাখা যায় না বা ভুল করে কারো হাতে দেওয়াও যায় না। তাই প্রতারক সাইটে পাসওয়ার্ড লিখে ফেলার মতো ঝুঁকি এতে থাকে না। সমর্থিত ফোন বা কম্পিউটার থাকলে দুই ধাপের যাচাইকরণ পেজ থেকেই পাসকি তৈরি করা যায়।
কোন দ্বিতীয় ধাপটি আপনার জন্য ভালো
| পদ্ধতি | সুবিধা | সীমাবদ্ধতা |
|---|---|---|
| Google প্রম্পট | কোড টাইপ করতে হয় না, এক চাপেই নিশ্চিত করা যায় | ফোনে ইন্টারনেট ও সাইন-ইন করা অ্যাপ লাগে |
| SMS বা কলের কোড | যেকোনো মোবাইল ফোনেই কাজ করে | সিমভিত্তিক প্রতারণার ঝুঁকি থাকে, নেটওয়ার্ক না থাকলে কোড আসে না |
| Authenticator অ্যাপ | ইন্টারনেট ছাড়াই কোড মেলে, তুলনামূলক নিরাপদ | ফোন বদলালে অ্যাপ আবার সাজাতে হয় |
| ব্যাকআপ কোড | ফোন হারিয়ে গেলেও সাইন-ইন করা যায় | নিরাপদ জায়গায় রাখতে হয়, একবার ব্যবহারেই শেষ |
| পাসকি বা সিকিউরিটি কি | প্রতারণা থেকে সবচেয়ে শক্ত সুরক্ষা দেয় | সব ডিভাইসে সমর্থন নাও থাকতে পারে |
বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য প্রম্পট প্রধান পদ্ধতি হিসেবে রেখে ব্যাকআপ কোড সংরক্ষণ করাই যথেষ্ট। যাঁরা প্রায়ই ভ্রমণ করেন বা নেটওয়ার্কের বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য Authenticator অ্যাপ অতিরিক্ত সুবিধা দেবে।
সেটআপ শেষে পরীক্ষা করে নিন
কাজ শেষ হয়েছে কিনা নিশ্চিত হতে একটি ছোট পরীক্ষা করুন। ব্রাউজারের গোপন উইন্ডো (Incognito) খুলে নিজের অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন করার চেষ্টা করুন। পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপ চাওয়া হলে বুঝবেন সুরক্ষা কাজ করছে। ফোনে প্রম্পট বা কোড এলে তা দিয়ে সাইন-ইন সম্পূর্ণ করুন। এরপর আবার দুই ধাপের যাচাইকরণ পেজে গিয়ে দেখুন, চালু অবস্থা দেখাচ্ছে কিনা। পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে ভয় পাবেন না, স্বাভাবিক উইন্ডোতে আপনার পুরনো সাইন-ইন সাধারণত থেকেই যায়।
বিশ্বস্ত ডিভাইসে বারবার যাচাই এড়ানো
নিজের কম্পিউটার বা ফোনে সাইন-ইনের সময় এই ডিভাইসে আর জিজ্ঞাসা করবেন না লেখা ঘরটিতে টিক দিলে সেই ডিভাইসে বারবার দ্বিতীয় ধাপ লাগবে না। তবে এই সুবিধা শুধু নিজের ব্যক্তিগত ডিভাইসেই ব্যবহার করবেন। অফিসের যৌথ কম্পিউটার, সাইবার ক্যাফে বা অন্যের ফোনে কখনো এই ঘরে টিক দেবেন না। দিলে আপনার পরে অন্য কেউ দ্বিতীয় ধাপ ছাড়াই অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে।
সাধারণ ভুল ও সমস্যার সমাধান
কোড আসছে না। প্রথমে ফোনের নেটওয়ার্ক ও সিম সচল আছে কিনা দেখুন। SMS না এলে কল করে কোড নেওয়ার অপশনটি বেছে নিন। কয়েকবার চেষ্টার পরও না এলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করুন। ভুল নম্বর দেওয়া আছে কিনা সেটিও যাচাই করুন।
প্রম্পট আসছে না। প্রম্পট পেতে ফোনে ইন্টারনেট চালু থাকতে হয় এবং সেই ফোনে একই Google অ্যাকাউন্ট সাইন-ইন করা থাকতে হয়। ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ থাকলেও প্রম্পট দেখা নাও যেতে পারে। এসব ঠিক থাকলে Gmail বা Google অ্যাপটি খুলে রাখুন, অনেক সময় প্রম্পট সেখানেই আসে। তাতেও না এলে কোড দিয়ে যাচাই করার বিকল্প পথটি বেছে নিন।
কেউ ফোন করে কোড চাইছে। সঙ্গে সঙ্গে ফোন রেখে দিন। ব্যাংক, Google বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম করে কোড চাওয়া মানেই প্রতারণা। আসল কোড শুধু সাইন-ইনের পর্দায় বসানোর জন্য, মুখে বলার জন্য নয়।
ফোন হারিয়ে গেছে। অন্য কোনো ডিভাইসে সাইন-ইন করে ব্যাকআপ কোড ব্যবহার করুন। ব্যাকআপ কোড না থাকলে আগে সাজানো অন্য দ্বিতীয় ধাপ, যেমন Authenticator অ্যাপ বা অন্য ফোনের প্রম্পট কাজে লাগান। কোনোটিই না থাকলে Google এর অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, যেখানে সময় বেশি লাগতে পারে। এই ঝামেলা এড়াতেই ব্যাকআপ কোড আগে থেকে রাখা জরুরি।
নতুন ফোন নম্বর যোগ করার পর সমস্যা হচ্ছে। নতুন যোগ করা ফোন নম্বরকে Google পুরোপুরি বিশ্বাস করতে সর্বোচ্চ সাত দিন পর্যন্ত সময় নিতে পারে। এই সময়ে কিছু সাইন-ইনে বাড়তি যাচাই হতে পারে। পাসকি বা সিকিউরিটি কি থাকলে এই প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
অফিস বা স্কুলের অ্যাকাউন্টে অপশনটি পাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে এই সুবিধা অনেক সময় অ্যাডমিন নিয়ন্ত্রণ করেন। অপশন না পেলে বা চালু করা না গেলে নিজে বারবার চেষ্টা না করে প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগ বা অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
পুরনো রিকভারি তথ্য রয়ে গেছে। অনেকের অ্যাকাউন্টে বহু আগের ফোন নম্বর বা ইমেইল রিকভারি হিসেবে থাকে, যেগুলো এখন আর ব্যবহারে নেই। দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করার সময় রিকভারি ফোন ও রিকভারি ইমেইল দুটোই হালনাগাদ করে নিন। অ্যাকাউন্টে ঢুকতে না পারলে এগুলো দিয়েই পরিচয় প্রমাণ করতে হয়।
সাধারণ প্রশ্নের উত্তর
দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করলে কি প্রতিবার সাইন-ইনে কোড দিতে হবে?
না। নতুন ডিভাইসে বা নতুন করে সাইন-ইনের সময় দ্বিতীয় ধাপ লাগে। নিজের বিশ্বস্ত ডিভাইসে আর জিজ্ঞাসা করবেন না অপশনটি চালু রাখলে প্রতিদিনের ব্যবহারে বারবার কোড দেওয়ার দরকার হয় না।
দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করতে কোনো টাকা লাগে কি?
না। এটি Google অ্যাকাউন্টের বিনামূল্যের সুবিধা। SMS বা কলে কোড এলে আপনার মোবাইল অপারেটরের স্বাভাবিক নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে, তবে Google এর জন্য আলাদা কোনো ফি নেই।
SMS কোড আর Authenticator অ্যাপের মধ্যে কোনটি বেশি নিরাপদ?
Authenticator অ্যাপ ও প্রম্পট তুলনামূলক বেশি নিরাপদ। SMS কোড ফোন নম্বরভিত্তিক প্রতারণার মুখে পড়তে পারে, যেমন অনুমতি ছাড়া সিম বদলে নেওয়া। তবে কোনো দ্বিতীয় ধাপ না রাখার চেয়ে SMS কোডও অনেক ভালো সুরক্ষা দেয়।
পরে বন্ধ করা যাবে কি?
যাবে। একই নিরাপত্তা পেজে গিয়ে দুই ধাপের যাচাইকরণ বন্ধ করার অপশন পাবেন। তবে নিরাপত্তার কথা ভেবে বন্ধ না করাই ভালো। ফোন বদলালে শুধু নতুন ফোনে দ্বিতীয় ধাপগুলো আবার সাজিয়ে নিন।
পাসওয়ার্ড একা অ্যাকাউন্টকে আর যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে পারে না, কারণ পাসওয়ার্ড চুরি বা ফাঁস হওয়া এখন খুবই সাধারণ ঘটনা। পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করে রাখলে আপনার জিমেইলসহ পুরো Google অ্যাকাউন্ট একটি বাড়তি প্রাচীর পেয়ে যায়। সঙ্গে রিকভারি ফোন নম্বর ও ইমেইলটিও আজই হালনাগাদ করে রাখুন, বিপদের দিনে এগুলোই প্রথম কাজে আসবে।