পাইওনিয়ার হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ

জনপ্রিয় লেখা

ফেসবুক ইয়োর অ্যালগরিদম: ফিড আর রিলসে নিজের কথায় যা দেখতে চান তা বলার সম্পূর্ণ গাইড

সূচিপত্র

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ফেসবুক ইয়োর অ্যালগরিদম (Your Algorithm) হলো ফেসবুকের নতুন টুল, যার মাধ্যমে আপনি নিজের কথায় ফেসবুককে জানাতে পারেন ফিড (Feed) আর রিলসে (Reels) কী বেশি দেখতে চান আর কী কম। টুলটি চালু হলে আপনার লেখা টপিকের ভিত্তিতে ফেসবুকের সাজেশন সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে।

এই লেখায় আপনি জানবেন টুলটি কী, তিনটি নতুন সুবিধা কীভাবে কাজ করে, ধাপে ধাপে টপিক যোগ করার নিয়ম, টুলটি না পেলে কী করবেন, আর পেজ মালিকদের জন্য এর মানে কী।

ফেসবুক ইয়োর অ্যালগরিদম কী

ইয়োর অ্যালগরিদম একটি আলাদা জায়গা, যেখানে আপনি ফিড আর রিলসের জন্য নিজের পছন্দের টপিক যোগ করতে আর ম্যানেজ করতে পারেন। জায়গাটি পাওয়া যায় যেকোনো পোস্টের থ্রি-ডট মেনু থেকে। মেটার ভাষায়, এটি এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি ঠিকঠাক জানাতে পারেন আপনি আসলে কীসে আগ্রহী।

আগের ব্যবস্থায় ফেসবুক শুধু আপনার কাজ দেখে অনুমান করত। আপনি কী লাইক করেছেন, কোন পোস্টে কমেন্ট করেছেন, কী দেখেছেন। সেই অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই ফিড সাজত। নতুন টুলে অনুমানের পাশাপাশি আপনার নিজের লেখা কথাও যোগ হলো। অর্থাৎ এখন আপনি নিজে বলতে পারেন, কোন বিষয় আপনার ভালো লাগে আর কোন বিষয় কম দেখতে চান।

একটি কথা শুরুতেই পরিষ্কার রাখা দরকার। লেখা টপিক পুরনো সংকেতের জায়গা নেয় না। লাইক, কমেন্ট, দেখার অভ্যাস, এগুলো আগের মতোই কাজ করবে। নতুন টপিক সেগুলোর সঙ্গে যোগ হয়, ফলে ফেসবুক আপনার আগ্রহ আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে।

এই টুল কেন এলো

ফিডে যা আসে, তার বড় অংশই সাজেশন, অর্থাৎ ফেসবুক নিজে থেকে বেছে দেওয়া পোস্ট। অনেক ব্যবহারকারীর অভিযোগ, ফিডে অপ্রাসঙ্গিক পোস্ট আসে, আবার পছন্দের বিষয় খুঁজে পাওয়া যায় না। এতদিন সেই অভিযোগ জানানোর উপায় ছিল সীমিত, পোস্ট লাইক করা, হাইড করা, কিংবা ইন্টারেস্টেড বা নট ইন্টারেস্টেড ট্যাপ করা। কিন্তু নিজের ভাষায় পুরো কথাটা বলার উপায় ছিল না।

নতুন টুল সেই ফাঁকটি পূরণ করে। আপনি এখন লিখে জানাতে পারেন, ঠিক কোন ধরনের কনটেন্ট চান। যেমন, ক্রিকেট ভালো লাগে কিন্তু একই ধরনের খবর বারবার আসা বিরক্তিকর, এমন ক্ষেত্রে আপনি লিখে জানাতে পারেন কোন ধরনের ক্রিকেট কনটেন্ট বেশি দেখতে চান আর কোন ধরনের কম।

মেটার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (large language model) আপনার লেখা কথার পেছনের আগ্রহ, প্রসঙ্গ আর উদ্দেশ্য বোঝে। তাই এক শব্দের ট্যাপের চেয়ে লেখা কথা বেশি তথ্য দেয়। আর সেই তথ্যের ভিত্তিতে সাজেশন একই সেশনের মধ্যেই বদলাতে শুরু করে।

তিনটি নতুন টুল এক নজরে

ঘোষণায় তিনটি জিনিস এসেছে। তিনটি আলাদা আলাদা মনে হলেও আসলে একসঙ্গে কাজ করে, একটিতে টপিক যোগ করবেন, আরেকটিতে পোস্ট দেখার সময় মতামত জানাবেন, আর তৃতীয়টি সেগুলোতে পৌঁছানো সহজ করেছে।

তিনটি টুল আর তাদের কাজ

টুল কী করে কোথায় পাবেন
ইয়োর অ্যালগরিদম স্পেস ফিড আর রিলসের জন্য পছন্দের টপিক সরাসরি যোগ করা আর ম্যানেজ করা যায় যেকোনো পোস্টের থ্রি-ডট মেনু থেকে
ইন্টারেস্টেড / নট ইন্টারেস্টেডের পরের প্রশ্ন পোস্টে ইন্টারেস্টেড বা নট ইন্টারেস্টেড ট্যাপ করলে ফেসবুক কখনো কখনো বাড়তি প্রশ্ন করে, যেখানে নিজের কথায় লেখা যায় কী বেশি বা কম দেখতে চান ফিড বা রিলসের পোস্টে মতামত জানানোর সময়
আপডেট হওয়া থ্রি-ডট মেনু প্রতিটি পোস্টের থ্রি-ডট মেনুতে কাস্টমাইজ করার টুলগুলো সহজে পৌঁছানো যায় প্রতিটি পোস্টের থ্রি-ডট মেনুতে

টেবিলটি মনে রাখলে পুরো ব্যবস্থাটি সহজ লাগবে। স্পেসটি হলো মূল জায়গা, পরের প্রশ্নটি হলো পোস্ট দেখার সময় মতামত জানানোর পথ, আর আপডেট মেনুটি হলো সেই জায়গাগুলোতে পৌঁছানোর দরজা।

নোটবুক, ফোন আর চায়ের কাপসহ ফিড পরিকল্পনার ডেস্ক

ধাপে ধাপে: টপিক যোগ করা আর ম্যানেজ করা

টপিক যোগ করার ধাপগুলো সরল, তবে প্রতিটি ধাপে কী হবে তা আগে জেনে রাখলে ভুল কম হবে। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

প্রথমে ফিড বা রিলসে যেকোনো একটি পোস্ট খুঁজুন আর তার থ্রি-ডট মেনু খুলুন। মেনুতে ইয়োর অ্যালগরিদমের জায়গাটি খুঁজে সেখানে যান। অপশনের নাম আপনার অ্যাপে কিছুটা ভিন্ন দেখাতে পারে, তাই মেনুতে অ্যালগরিদম বা পছন্দ সংক্রান্ত লেখা খুঁজুন।

এরপর নিজের কথায় টপিক লিখুন। টপিক মানে এমন বিষয়, যা আপনি ফিডে বেশি দেখতে চান। উদাহরণ হিসেবে লেখা যায়, স্থানীয় খবর, রান্নার ভিডিও, ক্রিকেট। এগুলো শুধু উদাহরণ, মেটার দেওয়া শব্দ নয়। আপনার নিজের আগ্রহের কথা নিজের ভাষায় লিখুন, যতটা সুনির্দিষ্ট করে লেখা যায় তত ভালো।

টপিক যোগ করার পর ফিডে ফিরে দেখুন সাজেশন বদলাচ্ছে কিনা। মেটার কথা অনুযায়ী, সাজেশন একই সেশনের মধ্যেই বদলাতে শুরু করে। অর্থাৎ সঙ্গে সঙ্গে পুরো ফিড বদলে যাবে এমন নয়, তবে ধীরে ধীরে নতুন টপিকের সঙ্গে মিলে যাওয়া পোস্ট বেশি আসতে শুরু করবে।

পরে টপিক বদলাতে চাইলে একই জায়গায় ফিরে যান। মেটা বলেছে টপিক যোগ করা আর ম্যানেজ করা যায়। তাই একই স্পেস থেকে টপিক দেখে বদলাতে পারবেন। আগ্রহ বদলালে টপিকও বদলান, তাহলে ফিড আপনার বর্তমান আগ্রহের সঙ্গে মিলে থাকবে।

ইন্টারেস্টেড / নট ইন্টারেস্টেডের পরের প্রশ্নে কী লিখবেন

কোনো পোস্টে ইন্টারেস্টেড (Interested) বা নট ইন্টারেস্টেড (Not interested) ট্যাপ করলে ফেসবুক কখনো কখনো বাড়তি প্রশ্ন করতে পারে, কী ভালো লেগেছে বা কী ভালো লাগেনি, সে সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চাইতে পারে। মনে রাখবেন, প্রশ্ন আসবেই এমন গ্যারান্টি নেই। মেটা বলেছে ফেসবুক “প্রশ্ন করতে পারে”, অর্থাৎ কখনো প্রশ্ন আসবে, কখনো আসবে না।

প্রশ্ন এলে সংক্ষেপে কিন্তু সুনির্দিষ্ট করে লিখুন। শুধু “ভালো লেগেছে” লিখলে ফেসবুক বুঝবে না কোন অংশটি ভালো লেগেছে। বরং লিখুন কোন বিষয়টি ভালো লেগেছে বা কোন ধরনের পোস্ট কম দেখতে চান। যেমন, রান্নার ভিডিও ভালো লাগলে লিখতে পারেন আপনি কী ধরনের রান্নার ভিডিও বেশি দেখতে চান। আবার কোনো বিষয় বিরক্তিকর লাগলে পরিষ্কার করে লিখুন সেই ধরনের পোস্ট কম দেখতে চান।

যা লিখবেন না, তাও জানা দরকার। অস্পষ্ট এক শব্দের উত্তর, ব্যক্তিগত তথ্য, বা অন্য কারো নামে অভিযোগ, এগুলো লিখে লাভ নেই। টপিকের জায়গাটি আপনার আগ্রহ জানানোর জায়গা, অভিযোগ জানানোর জায়গা নয়। কোনো পোস্টে আপত্তি থাকলে তার জন্য আলাদা রিপোর্ট করার উপায় আছে।

একটি মনে রাখার কথা: লেখা টপিক আপনার আগ্রহের তথ্য, যা ফেসবুক আপনার অন্যান্য কার্যকলাপের সঙ্গে মিলিয়ে র‍্যাংকিংয়ে ব্যবহার করে বলে মেটা জানিয়েছে। তাই শুধু তাই লিখুন, যা ফেসবুকের সঙ্গে শেয়ার করতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটি সতর্কতা হিসেবে মনে রাখুন, মেটার কোনো উদ্ধৃতি হিসেবে নয়।

আপনার অ্যাকাউন্টে টুলটি আছে কিনা যাচাই

মেটা বলেছে তারা টুলটি ধীরে ধীরে চালু করছে। অর্থাৎ সবার অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে আসেনি। আপনার অ্যাকাউন্টে পোস্টের থ্রি-ডট মেনুতে ইয়োর অ্যালগরিদমের অপশন দেখা গেলেই বুঝবেন টুলটি আপনার কাছে পৌঁছেছে। অপশন না থাকলে বুঝবেন আপনার অ্যাকাউন্টে এখনো পৌঁছায়নি।

অপশন না থাকলে প্রথমে অ্যাপ আপডেট করে দেখুন, তারপর কিছুদিন পর আবার মেনুতে খুঁজুন। অপশন না থাকা মানে আপনার অ্যাকাউন্টে কোনো সমস্যা হয়েছে, এমন নয়। ধীরে ধীরে চালু হওয়ার সময় এমনটাই স্বাভাবিক। কোনো তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ বা সেটিং দিয়ে টুলটি চালু করার চেষ্টা করবেন না, তাতে অ্যাকাউন্টের ঝুঁকি হতে পারে।

এই লেখার টুলের নিয়ম আর ধাপের তথ্য অক্টোবর ২০২৬-এ মেটার অফিসিয়াল ঘোষণা (১৩ অক্টোবর ২০২৬) থেকে যাচাই করা। মেটা ধীরে ধীরে টুলটি চালু করছে, তাই আপনার অ্যাপে দেখানো অপশনই চূড়ান্ত ধরুন।

টপিক লিখলেই কি ফিড পুরো বদলে যাবে?

সরাসরি উত্তর: না, পুরো বদলে যাবে না। লেখা টপিক একটি নতুন সংকেত মাত্র। আপনার লাইক, কমেন্ট, দেখার অভ্যাস, এই পুরনো সংকেতগুলো আগের মতোই ফিড সাজাতে কাজ করবে। নতুন টপিক সেগুলোর সঙ্গে মিলে ফিডকে আরও আপনার পছন্দের দিকে ঠেলে দেবে, কিন্তু একদিনে পুরো ফিড নতুন করে সাজাবে না।

তাই টপিক লেখার পর ধৈর্য ধরুন। কয়েকদিন ফিড ব্যবহার করলে বোঝা যাবে সাজেশন কোন দিকে যাচ্ছে। একদিনে ফল না দেখে টপিক বারবার বদলালে ফেসবুক আপনার আসল আগ্রহ বুঝতে পারবে না। একটি টপিক কিছুদিন রেখে দেখুন, তারপর প্রয়োজনে বদলান।

যা বদলায় আর যা বদলায় না

বিষয় আসল কথা
সাজেশন লেখা টপিকের সঙ্গে মিলে যাওয়া পোস্ট বেশি আসতে শুরু করে, একই সেশনের মধ্যেই বদল শুরু হয়
পুরনো সংকেত লাইক, কমেন্ট, দেখার অভ্যাস আগের মতোই কাজ করে; টপিক সেগুলোর জায়গা নেয় না
বিজ্ঞাপন এই টুলের ঘোষণায় বিজ্ঞাপনের কথা নেই; বিজ্ঞাপনের আলাদা সেটিং আছে
অপছন্দের টপিক কম দেখতে চাওয়া বিষয় পুরোপুরি মুছে যাবে, এমন গ্যারান্টি ঘোষণায় নেই
রিচ বা আয় এই টুল কারো রিচ বা আয় বাড়াবে, এমন কোনো কথা মেটা বলেনি

টেবিলটি দেখলেই বোঝা যায়, টুলটি দর্শকের ফিড নিয়ন্ত্রণের টুল। কোনো জাদুর কাঠি নয়। প্রত্যাশা বাস্তব রাখলে টুলটি থেকে সত্যিকারের উপকার পাওয়া যাবে।

যা ভুল বোঝা যাবে না

প্রথম ভুল বোঝাবুঝি: এটি রিচ বাড়ানোর টুল নয়। টপিক লিখলে আপনার পেজের পোস্ট বেশি লোকের কাছে পৌঁছাবে, এমন কোনো কথা মেটা বলেনি। এটি দর্শকের ফিড সাজানোর টুল, ক্রিয়েটরের প্রচারের টুল নয়। রিচ বাড়ানোর কৌশল আলাদা বিষয়, সে নিয়ে আলাদা গাইড আছে।

দ্বিতীয় ভুল বোঝাবুঝি: এটি বিজ্ঞাপনের সেটিং নয়। টপিক লিখলে বিজ্ঞাপন বদলাবে, এমন দাবি ঘোষণায় নেই। বিজ্ঞাপন দেখানোর নিয়ম আলাদা, তার সেটিংও আলাদা জায়গায়। ফিডের টপিক আর বিজ্ঞাপনের পছন্দ গুলিয়ে ফেলবেন না।

তৃতীয় ভুল বোঝাবুঝি: টপিক লিখলেই পছন্দের বাইরে কিছু আর দেখবেন না, এমন গ্যারান্টি নেই। ফিডে বন্ধুদের পোস্ট, ফলো করা পেজের পোস্ট আর সাজেশন, সব মিলিয়ে সাজে। টপিক শুধু সাজেশনের দিকটি প্রভাবিত করে। তাই মাঝে মাঝে পছন্দের বাইরের পোস্ট আসা স্বাভাবিক।

আর একটি সীমানা মনে রাখুন: এই টুলের সঙ্গে সাবস্ক্রিপশন বা পেজের লিংক সীমার কোনো সম্পর্ক নেই। সে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা, আর তা নিয়ে বিস্তারিত আছে মেটা ওয়ান নিয়ে আগের গাইডে। দুটি বিষয় গুলিয়ে ফেললে সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে।

পেজ মালিক আর ক্রিয়েটরদের জন্য এর মানে কী

শুরুতেই সীমানাটি পরিষ্কার করি: ক্রিয়েটর বা পেজ মালিকদের জন্য মেটা আলাদা কোনো নির্দেশনা দেয়নি। নিচের কথাগুলো ব্যবহারিক চিন্তা, মেটার প্রতিশ্রুতি নয়। রিচ, ফলোয়ার বা ভিউ বাড়বে, এমন কোনো দাবি এখানে করা হচ্ছে না।

দর্শক এখন নিজের কথায় আগ্রহ জানাতে পারবেন। এর মানে, বিষয় পরিষ্কার আর ধারাবাহিক কনটেন্টের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। দর্শক যদি লিখে জানান তিনি কোন বিষয় চান, তাহলে সেই বিষয়ে নিয়মিত ভালো কনটেন্ট দেওয়া পেজগুলো স্বাভাবিকভাবেই সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু এটি অনুমান, গ্যারান্টি নয়।

পেজ মালিক হিসেবে আপনার করণীয় তাই আগের মতোই: দর্শকের আসল আগ্রহের বিষয়ে নিয়মিত কনটেন্ট দিন, শিরোনাম আর প্রথম লাইনে বিষয় পরিষ্কার রাখুন, যাতে দর্শক বুঝতে পারেন এই পেজটি তার পছন্দের বিষয়ের। রিচ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন ফেসবুক পেজের রিচ বাড়ানোর কৌশলগুলো, এই লেখায় সেই কৌশল আবার শেখানো হচ্ছে না।

একটি সতর্কতাও রাখুন: দর্শকের টপিক দেখে কনটেন্টের বিষয় ঘন ঘন বদলাবেন না। দর্শক টপিক লিখলেও ফিডের সাজেশন ধীরে ধীরে বদলায়। আজ একটি বিষয়, কাল আরেকটি, এমন করলে দর্শকও বিভ্রান্ত হবেন, আর পেজের পরিচয়ও ঝাপসা হবে।

ইনস্টাগ্রামে আগেই এসেছিল, সংক্ষিপ্ত পটভূমি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই নামের টুল ইনস্টাগ্রামে আগেই এসেছিল, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে রিলসে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে এক্সপ্লোরে আর জুনে মূল ফিডে। এই তথ্যটি শুধু পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হলো, এটি ফেসবুকের ঘোষণার অংশ নয়।

পটভূমি থেকে একটি শিক্ষা নেওয়া যায়: নতুন টুল সাধারণত ধাপে ধাপে আসে, একদিনে সবার কাছে পৌঁছায় না। ফেসবুক সংস্করণের নিয়ম জানতে ফেসবুকের ঘোষণাই ভিত্তি। ইনস্টাগ্রামের নিয়ম ফেসবুকে একইভাবে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ কথা

বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো তালিকা বা তারিখ মেটা প্রকাশ করেনি। তাই আপনার অ্যাপের পোস্টের থ্রি-ডট মেনুতে অপশন দেখা গেলেই সেটি আপনার জন্য প্রযোজ্য, এটাই সঠিক যাচাই। অপশন না দেখা গেলে বুঝবেন আপনার অ্যাকাউন্টে টুলটি এখনো পৌঁছায়নি, আর তখন অপেক্ষা করাই সঠিক পথ।

বাংলা ভাষায় টপিক লেখা যাবে কিনা, সে সম্পর্কে মেটা আলাদা করে কিছু বলেনি। তাই নিজের কথায় চেষ্টা করে দেখুন। অ্যাপে গৃহীত হলেই তা কাজ করবে। গৃহীত না হলে সহজ ভাষায় আবার চেষ্টা করুন, কিংবা ইংরেজি শব্দ মিশিয়ে লিখে দেখুন। ভাষা নিয়ে কোনো নিশ্চিত দাবি এই লেখায় করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশি পেজ মালিকদের জন্য বার্তাটি একই: দর্শক কী চান, তা বোঝার চেষ্টা করুন, কিন্তু টপিকের ওপর ভরসা করে রিচের হিসাব করবেন না। দর্শকের আগ্রহের বিষয়ে নিয়মিত ভালো কনটেন্ট দেওয়াই এখনো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।

সচরাচর প্রশ্ন

ফেসবুক ইয়োর অ্যালগরিদম কী?

ফেসবুকের নতুন টুল, যার মাধ্যমে আপনি নিজের কথায় জানাতে পারেন ফিড আর রিলসে কী বেশি দেখতে চান আর কী কম। টপিক যোগ করা আর ম্যানেজ করা যায় পোস্টের থ্রি-ডট মেনু থেকে।

আমার অ্যাকাউন্টে অপশনটি নেই কেন?

মেটা টুলটি ধীরে ধীরে চালু করছে, তাই সবার অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে আসেনি। অ্যাপ আপডেট করে কিছুদিন পর আবার মেনুতে খুঁজুন। অপশন না থাকা মানে অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়েছে, এমন নয়।

টপিক লিখলেই কি ওই বিষয় ছাড়া আর কিছু দেখব না?

না। টপিক একটি নতুন সংকেত, পুরনো সংকেতের জায়গা নেয় না। ফিডে বন্ধুদের পোস্ট, ফলো করা পেজের পোস্ট আর সাজেশন সব মিলিয়ে সাজে। টপিক শুধু সাজেশনের দিকটি প্রভাবিত করে।

পেজের রিচ কি বাড়বে?

এই টুল রিচ বাড়ানোর টুল নয়, আর মেটা এ নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। দর্শকের আগ্রহের বিষয়ে নিয়মিত ভালো কনটেন্ট দেওয়াই রিচের নির্ভরযোগ্য পথ।

বিজ্ঞাপনেও কি কাজ করবে?

না, ঘোষণায় বিজ্ঞাপনের কথা নেই। এই টুল ফিড আর রিলসের সাজেশনের জন্য। বিজ্ঞাপনের পছন্দ আলাদা সেটিং থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।

লেখা টপিক কি পরে বদলানো/মোছা যাবে?

মেটা বলেছে টপিক যোগ করা আর ম্যানেজ করা যায়। তাই একই জায়গায় ফিরে গিয়ে টপিক দেখে বদলাতে পারবেন। মুছে ফেলার আলাদা বোতাম সম্পর্কে ঘোষণায় কিছু বলা হয়নি, তাই সে বিষয়ে নিশ্চিত দাবি করা হচ্ছে না।

টপিক লিখতে কি টাকা লাগে?

ঘোষণায় কোনো ফি’র কথা নেই। এটি ফিডের একটি সেটিং, কোনো সাবস্ক্রিপশন নয়। টপিক লেখা আর ম্যানেজ করা ফিড ব্যবহারেরই অংশ।

তথ্যসূত্র

Meta Newsroom: Your Algorithm, Your Words

Jante Hobe

জানতে হবে একটি বাংলা জ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট। এখানে দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রশ্নের সহজ, স্পষ্ট ও ব্যবহারিক উত্তর দেওয়া হয়, যাতে পাঠকেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং আরও ভালো জীবন গড়তে পারেন।

https://jantehobe.com

সাম্প্রতিক লেখা

আলোচিত লেখা

সম্পাদকের পছন্দ

কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, আসল ছবি

বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫ এর ইতিহাস: কারণ, স্বদেশী আন্দোলন ও ১৯১১ সালে রদ

ভালো লাগলে শেয়ার করুনবঙ্গভঙ্গ ছিল ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশকে দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত, যা ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর কার্যকর হয়। এই ভাগের বিরুদ্ধে স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন শুরু হয়, আর ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। বঙ্গভঙ্গ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছিল না, এটি বাংলা ও ভারতের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এই...
দুজন মানুষ কথা বলছেন, আসল ছবি

Empathy Meaning in Bengali: সমানুভূতি অর্থ, উচ্চারণ, উদাহরণ ও Sympathy-র সঙ্গে পার্থক্য

ভালো লাগলে শেয়ার করুনEmpathy শব্দের বাংলা অর্থ সমানুভূতি, অর্থাৎ অন্য মানুষের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে তার অনুভূতি বোঝা আর তার দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি দেখা। দৈনন্দিন কথায় একে অনেক সময় সহানুভূতি বলা হয়, কিন্তু সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে, সহানুভূতি হলো দূর থেকে কারো দুঃখে সমবেদনা জানানো, আর সমানুভূতি হলো তার ভেতরের অবস্থান থেকে অনুভব করা। নোট: এই লেখার...
নীল আকাশে সাদা মেঘ, আসল ছবি

আকাশ কেন নীল দেখায়: র‍্যালে বিক্ষেপণ, লাল সূর্যাস্ত আর সাদা মেঘের সহজ ব্যাখ্যা

ভালো লাগলে শেয়ার করুনআকাশ নীল দেখায় কারণ বাতাসে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র কণা সূর্যের আলোর নীল রঙকে অন্য রঙের চেয়ে অনেক বেশি ছড়িয়ে দেয়, আর সেই ছড়ানো নীল আলোই চারদিক থেকে আমাদের চোখে আসে। সূর্যের আলো দেখতে সাদা লাগলেও তার ভেতরে সাত রঙ মিশে আছে, বাতাস সেই মিশেল থেকে নীলকে বেছে নিয়ে ছড়িয়ে দেয় বলেই দিনের...
জগদীশ চন্দ্র বসুর আসল ছবি

জগদীশ চন্দ্র বসুর জীবনী: বেতার তরঙ্গ, ক্রেসকোগ্রাফ ও বসু বিজ্ঞান মন্দিরের জনক

ভালো লাগলে শেয়ার করুনফিচার ছবি: জগদীশ চন্দ্র বসু, ১৮৯৭ সালের ছবি (Wikimedia Commons)। জগদীশ চন্দ্র বসু (Jagadish Chandra Bose) ছিলেন বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী আর উদ্ভিদ শারীরবিজ্ঞানী, যিনি বেতার তরঙ্গের পরীক্ষা আর উদ্ভিদের সাড়া মাপার যন্ত্র, দুই ক্ষেত্রেই পথ দেখিয়েছেন। তিনি ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন আর ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর ৭৮ বছর বয়সে গিরিডিতে মারা...
সিলেটের সবুজ চা বাগান, আসল ছবি

সিলেট ভ্রমণ গাইড: জাফলং, রাতারগুল, লালাখাল আর চা বাগান ঘোরার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা

ভালো লাগলে শেয়ার করুনসিলেট ভ্রমণ মানে পাহাড়, নদী, জলাভূমির বন আর চা বাগান, সব একসঙ্গে, এক জেলা থেকে আরেক জেলায় না ছুটে। সিলেট শহরকে ভিত্তি করে প্রতিদিন একেকটি রুট ঘোরা যায়, জাফলং একদিন, রাতারগুল আর বিছানাকান্দি আরেকদিন, সাদাপাথর আরেকদিন। এই গাইডে মৌসুম ধরে কোন জায়গা কখন ভালো লাগবে, যেকোনো জেলা থেকে সিলেট শহরে পৌঁছানোর উপায়,...

জানতে হবে একটি বাংলা জ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট। এখানে দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রশ্নের সহজ, স্পষ্ট ও ব্যবহারিক উত্তর দেওয়া হয়।

অবশ্যই পড়ুন

© ২০২৬ জানতে হবে (jantehobe.com) — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট: Raozan IT