পাইওনিয়ার হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ

জনপ্রিয় লেখা

মুরগির রোস্ট রেসিপি: বিয়েবাড়ির স্বাদে ঘরে বানানোর সহজ নিয়ম

সূচিপত্র

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

মুরগির রোস্ট হলো টকদই, বেরেস্তা, ঘি আর গরম মসলার ঘন গ্রেভিতে রান্না করা মুরগির পদ, যা বিয়েবাড়ি, দাওয়াত আর ঈদের আয়োজনে পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। ঘরে বানালে কাঠকয়লার গন্ধ হুবহু আসে না, এই সীমাটি মেনে নিয়েই এই রেসিপি ধাপে ধাপে সাজানো হয়েছে। নিচের পরিমাণ ৪ জনের জন্য, মেরিনেট থেকে দমে রাখা পর্যন্ত পুরো পদ্ধতি এক জায়গায় দেওয়া আছে।

নোট: এই রেসিপির উপকরণ আর সময় ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে যাচাই করা হয়েছে। মুরগির আকার আর চুলার আঁচের উপর সময় সামান্য কমবেশি হতে পারে, তাই মাংস নরম হয়েছে কি না দেখে নামাতে হবে। পরে কিছু বদলালে শুধু এই নোটটি আপডেট করা হবে।

মুরগির রোস্ট আসলে কী

মুরগির রোস্ট বাংলাদেশি ঘন গ্রেভির পদ, বিয়েবাড়ির চিকেন রোস্ট নামেও পরিচিত। মাংস প্রথমে মেরিনেট করে হালকা ভেজে নেওয়া হয়, তারপর মসলা কষিয়ে ঢেকে রান্না করা হয়, শেষে বেরেস্তা আর ঘি দিয়ে দমে রাখা হয়। গ্রেভি ঘন, মসলা সুগন্ধি, মাংস নরম, এই তিনটি মিললেই রোস্ট ঠিক হয়েছে বোঝা যায়। এটি ভাতের পদ নয়, এটি পোলাও, বিরিয়ানি কিংবা পরোটার সঙ্গে খাওয়ার মাংসের পদ।

উপকরণ

উপকরণ পরিমাণ
মুরগির মাংস ৪ পিস
টকদই আধা কাপ
পেঁয়াজ বাটা আধা কাপ
আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ
ধনে ও জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ করে
গরম মসলা, দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতা পরিমাণমতো
তেল ও ঘি ৩ থেকে ৪ টেবিল চামচ
বেরেস্তা ২ টেবিল চামচ
লবণ, চিনি, কাঁচামরিচ স্বাদমতো
কাজুবাদাম বাটা (ঐচ্ছিক) ১ টেবিল চামচ

কাজুবাদাম বাটা, মাওয়া, পোস্তদানা, আলুবোখরা, কেওড়া জল আর গোলাপজল ঐচ্ছিক সমৃদ্ধকরণ, বাধ্যতামূলক নয়। এগুলো ছাড়াও রোস্ট হয়, থাকলে গ্রেভি আরও ঘন আর সুগন্ধি হয়।

ধাপ সময়
প্রস্তুতি ২০ মিনিট
রান্না ৪০ মিনিট
পরিবেশন ৪ জন

মেরিনেট করার নিয়ম

মাংসের পিস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। টকদই, আদা বাটা, রসুন বাটা, মরিচ গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া আর লবণ মিশিয়ে মাংসে ভালো করে মাখান। ৩০ মিনিট ঢেকে রাখুন, এটাই সবচেয়ে সাধারণ মেরিনেটের সময়। হাতে সময় থাকলে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা রাখা যায়, তবে সেটি আলাদা ধরন, দুটি সময় একসঙ্গে মেশাবেন না। এই রেসিপিতে ৩০ মিনিটের ধরনটিই ব্যবহার করা হয়েছে।

টকদই না থাকলে গুঁড়া দুধ পানিতে মিশিয়ে লেবুর রস দিয়ে মিশ্রণটি টকদইয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে টকদই থাকলে সেটিই ব্যবহার করুন, কারণ গ্রেভির টক স্বাদ আর ঘনত্ব টকদই থেকেই আসে।

বেরেস্তা বানানো

পেঁয়াজ পাতলা করে কেটে মাঝারি আঁচে তেলে ভাজুন, যতক্ষণ না সোনালি আর মুচমুচে হয়। বেরেস্তা পুড়ে গেলে তিতা লাগবে, তাই আঁচ কমিয়ে ধীরে ভাজুন। ভাজা হলে তেল ঝরিয়ে আলাদা করে রাখুন। বেরেস্তা দুই কাজে লাগে, একভাগ গ্রেভিতে মেশানো হয়, আরেকভাগ শেষে উপরে ছড়ানো হয়।

মসলা কষানো ও মুরগি রান্না

  1. মেরিনেট করা মাংসের পিস লবণ মাখিয়ে হালকা তেলে বাদামি করে ভাজুন। কড়া করে ভাজবেন না, তাহলে মাংস শক্ত হয়ে যাবে আর ভেতরে মসলা ঢুকবে না।
  2. একই তেলে পেঁয়াজ বাটা, আদা বাটা, রসুন বাটা, ধনে ও জিরা গুঁড়া দিয়ে কষান, যতক্ষণ না তেল উপরে ভেসে ওঠে।
  3. মেরিনেটের বাকি মিশ্রণ আর ভাজা মুরগি দিয়ে ১০ মিনিট কষান।
  4. অল্প গরম পানি, কাজুবাদাম বাটা থাকলে সেটি, আর সামান্য চিনি দিয়ে ঢেকে মাঝারি আঁচে রান্না করুন, মাংস নরম হওয়া পর্যন্ত।

দেশি মুরগি হলে সময় বেশি লাগতে পারে, তাই নির্দিষ্ট মিনিট না ধরে মাংস নরম হয়েছে কি না দেখে নামান। মাংসের সবচেয়ে মোটা অংশের ভেতরের তাপমাত্রা ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মুরগি সেদ্ধ ধরা যায়, আর রান্নার পর ১০ মিনিট ঢেকে রাখলে রস ভেতরে ছড়ায়।

দমে রাখা ও শেষের সুগন্ধ

মুরগি পুরোপুরি সেদ্ধ হলে গরম মসলা, বেরেস্তা, কাঁচামরিচ আর সামান্য ঘি দিয়ে আরও ৩ থেকে ৫ মিনিট দমে রাখুন। এই শেষের দমেই গ্রেভি ঘন হয় আর সুগন্ধ আসে। কেওড়া জল থাকলে এক চা চামচ দিতে পারেন, তবে বেশি দিলে গন্ধ তীব্র হয়ে যাবে। দম শেষ হলে আঁচ বন্ধ করে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন, তারপর পরিবেশন করুন।

পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশিত মুরগির রোস্ট, আসল ছবি

পরিবেশন: কীসের সঙ্গে খাবেন

রোস্ট সবচেয়ে ভালো লাগে পোলাওয়ের সঙ্গে, বিরিয়ানি কিংবা পরোটার সঙ্গেও খাওয়া যায়। পোলাও বানানোর নিয়ম জানতে চাইলে মোরগ পোলাও নিয়ে গাইডটি দেখতে পারেন। পরিবেশনের সময় গ্রেভি উপরে দিয়ে, বেরেস্তা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। সালাদ হিসেবে শসা, পেঁয়াজ আর লেবু রাখলে খাবারটি ভারসাম্য পায়।

রোস্ট নরম রাখার কৌশল

রোস্ট শক্ত হওয়ার প্রধান কারণ কড়া ভাজা আর বেশি আঁচে অনেকক্ষণ রান্না। মাংস হালকা ভাজুন, মাঝারি আঁচে ঢেকে রান্না করুন। গ্রেভি শুকিয়ে গেলে অল্প গরম পানি দিন, ঠান্ডা পানি দিলে মাংস শক্ত হতে পারে। মাংস নরম হলে সঙ্গে সঙ্গে নামিয়ে ফেলুন, বেশি রান্না করলে মাংস ছিঁড়ে যাবে আর গ্রেভি তেল ছেড়ে দেবে।

সংরক্ষণ ও গরম করার নিয়ম

রান্না করা রোস্ট রান্নার ২ ঘণ্টার মধ্যে এয়ারটাইট পাত্রে ফ্রিজে তুলুন। ফ্রিজে ৩ থেকে ৪ দিন থাকে, ডিপ ফ্রিজে ২ থেকে ৩ মাস থাকে। গরম করার সময় অল্প পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে গরম করুন, যাতে গ্রেভি শুকিয়ে না যায়। বারবার গরম করবেন না, একবারে যতটুকু খাবেন ততটুকুই গরম করুন।

সাধারণ ভুল ও সমাধান

গ্রেভি পাতলা হয়ে গেছে। ঢাকনা খুলে কিছুক্ষণ রান্না করুন, গ্রেভি ঘন হবে। বেরেস্তা বাটা মেশালেও ঘনত্ব বাড়ে।

মাংস শক্ত হয়ে গেছে। কড়া ভাজা বা বেশি আঁচ এর কারণ। পরের বার হালকা ভাজুন আর মাঝারি আঁচে ঢেকে রান্না করুন।

মসলা কাঁচা গন্ধ করছে। মসলা ভালো করে কষানো হয়নি। তেল উপরে ভেসে ওঠা পর্যন্ত কষান, তারপর মুরগি দিন।

সচরাচর প্রশ্ন

মুরগির রোস্ট কতক্ষণ মেরিনেট করতে হয়? ৩০ মিনিট সবচেয়ে সাধারণ সময়। হাতে সময় থাকলে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা রাখা যায়, তবে এই রেসিপিতে ৩০ মিনিটের ধরন ব্যবহার করা হয়েছে।

টকদই না থাকলে কী করবেন? গুঁড়া দুধ পানিতে মিশিয়ে লেবুর রস দিয়ে মিশ্রণটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে টকদই থাকলে সেটিই ভালো।

মাওয়া বা বাদাম বাটা কি বাধ্যতামূলক? না, এগুলো ঐচ্ছিক। ছাড়াও রোস্ট হয়, থাকলে গ্রেভি আরও ঘন আর সুগন্ধি হয়।

রান্না করা রোস্ট ফ্রিজে কতদিন রাখা যায়? ফ্রিজে ৩ থেকে ৪ দিন, ডিপ ফ্রিজে ২ থেকে ৩ মাস। রান্নার ২ ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে তুলুন।

রোস্ট কীসের সঙ্গে পরিবেশন করবেন? পোলাওয়ের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো লাগে, বিরিয়ানি কিংবা পরোটার সঙ্গেও খাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: মুরগির রোস্টের পরিমাণ আর ধাপ https://mojarranna.com/chicken-roast/, বিয়েবাড়ির ধরন https://kitchenofdebjani.com/web-stories/bangladeshi-chicken-roast-recipe-webstory-marriage-feast-style/।

Jante Hobe

জানতে হবে একটি বাংলা জ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট। এখানে দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রশ্নের সহজ, স্পষ্ট ও ব্যবহারিক উত্তর দেওয়া হয়, যাতে পাঠকেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং আরও ভালো জীবন গড়তে পারেন।

https://jantehobe.com

সাম্প্রতিক লেখা

আলোচিত লেখা

সম্পাদকের পছন্দ

কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, আসল ছবি

বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫ এর ইতিহাস: কারণ, স্বদেশী আন্দোলন ও ১৯১১ সালে রদ

ভালো লাগলে শেয়ার করুনবঙ্গভঙ্গ ছিল ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশকে দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত, যা ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর কার্যকর হয়। এই ভাগের বিরুদ্ধে স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন শুরু হয়, আর ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। বঙ্গভঙ্গ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছিল না, এটি বাংলা ও ভারতের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এই...
দুজন মানুষ কথা বলছেন, আসল ছবি

Empathy Meaning in Bengali: সমানুভূতি অর্থ, উচ্চারণ, উদাহরণ ও Sympathy-র সঙ্গে পার্থক্য

ভালো লাগলে শেয়ার করুনEmpathy শব্দের বাংলা অর্থ সমানুভূতি, অর্থাৎ অন্য মানুষের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে তার অনুভূতি বোঝা আর তার দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি দেখা। দৈনন্দিন কথায় একে অনেক সময় সহানুভূতি বলা হয়, কিন্তু সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে, সহানুভূতি হলো দূর থেকে কারো দুঃখে সমবেদনা জানানো, আর সমানুভূতি হলো তার ভেতরের অবস্থান থেকে অনুভব করা। নোট: এই লেখার...
নীল আকাশে সাদা মেঘ, আসল ছবি

আকাশ কেন নীল দেখায়: র‍্যালে বিক্ষেপণ, লাল সূর্যাস্ত আর সাদা মেঘের সহজ ব্যাখ্যা

ভালো লাগলে শেয়ার করুনআকাশ নীল দেখায় কারণ বাতাসে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র কণা সূর্যের আলোর নীল রঙকে অন্য রঙের চেয়ে অনেক বেশি ছড়িয়ে দেয়, আর সেই ছড়ানো নীল আলোই চারদিক থেকে আমাদের চোখে আসে। সূর্যের আলো দেখতে সাদা লাগলেও তার ভেতরে সাত রঙ মিশে আছে, বাতাস সেই মিশেল থেকে নীলকে বেছে নিয়ে ছড়িয়ে দেয় বলেই দিনের...
জগদীশ চন্দ্র বসুর আসল ছবি

জগদীশ চন্দ্র বসুর জীবনী: বেতার তরঙ্গ, ক্রেসকোগ্রাফ ও বসু বিজ্ঞান মন্দিরের জনক

ভালো লাগলে শেয়ার করুনফিচার ছবি: জগদীশ চন্দ্র বসু, ১৮৯৭ সালের ছবি (Wikimedia Commons)। জগদীশ চন্দ্র বসু (Jagadish Chandra Bose) ছিলেন বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী আর উদ্ভিদ শারীরবিজ্ঞানী, যিনি বেতার তরঙ্গের পরীক্ষা আর উদ্ভিদের সাড়া মাপার যন্ত্র, দুই ক্ষেত্রেই পথ দেখিয়েছেন। তিনি ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন আর ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর ৭৮ বছর বয়সে গিরিডিতে মারা...
সিলেটের সবুজ চা বাগান, আসল ছবি

সিলেট ভ্রমণ গাইড: জাফলং, রাতারগুল, লালাখাল আর চা বাগান ঘোরার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা

ভালো লাগলে শেয়ার করুনসিলেট ভ্রমণ মানে পাহাড়, নদী, জলাভূমির বন আর চা বাগান, সব একসঙ্গে, এক জেলা থেকে আরেক জেলায় না ছুটে। সিলেট শহরকে ভিত্তি করে প্রতিদিন একেকটি রুট ঘোরা যায়, জাফলং একদিন, রাতারগুল আর বিছানাকান্দি আরেকদিন, সাদাপাথর আরেকদিন। এই গাইডে মৌসুম ধরে কোন জায়গা কখন ভালো লাগবে, যেকোনো জেলা থেকে সিলেট শহরে পৌঁছানোর উপায়,...

জানতে হবে একটি বাংলা জ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট। এখানে দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রশ্নের সহজ, স্পষ্ট ও ব্যবহারিক উত্তর দেওয়া হয়।

অবশ্যই পড়ুন

© ২০২৬ জানতে হবে (jantehobe.com) — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট: Raozan IT