বঙ্গভঙ্গ ছিল ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশকে দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত, যা ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর কার্যকর হয়। এই ভাগের বিরুদ্ধে স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন শুরু হয়, আর ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। বঙ্গভঙ্গ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছিল না, এটি বাংলা ও ভারতের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এই লেখায় ভাগের কারণ থেকে শুরু করে বিরোধিতা, স্বদেশী আন্দোলন, দুই সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া, রদ আর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যন্ত পুরো গল্প একসঙ্গে বলা হয়েছে।
নোট: এই লেখার তথ্য ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাপিডিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে। পরে কিছু বদলালে শুধু এই নোটটি আপডেট করা হবে।
বঙ্গভঙ্গ কী ছিল
বঙ্গভঙ্গ মানে বাংলা প্রদেশকে ভেঙে দুটি প্রদেশ বানানো। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রদেশ ভেঙে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ তৈরি করে, আর পশ্চিম অংশকে আলাদা প্রদেশ হিসেবে রাখে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় লর্ড কার্জনের ভাইসরয় থাকার সময়, তিনি ১৮৯৮ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত ভাইসরয় ছিলেন। সরকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় ১৯০৫ সালের ১৯ জুলাই, আর তা কার্যকর হয় ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর।
ভাগের আগে বাংলা প্রদেশ কেমন ছিল
ভাগের আগে বাংলা প্রদেশ ছিল ব্রিটিশ ভারতের সবচেয়ে বড় প্রদেশগুলোর একটি। ১৯০৩ সালে এই প্রদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮৫ লক্ষ, আর আয়তন ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার বর্গমাইল। এই বিশাল প্রদেশে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা আর আসামের অংশ ছিল, আর একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পক্ষে এত বড় এলাকা শাসন করা কঠিন ছিল বলে সরকার দাবি করেছিল। কলকাতা ছিল এই প্রদেশের রাজধানী, আর কলকাতা থেকেই দূরের জেলাগুলো শাসন করা হতো। দূরের জেলার মানুষের অভিযোগ, সমস্যা আর আবেদন কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেক সময় লাগত, আর এই দূরত্বই প্রশাসনিক যুক্তির মূল কথা ছিল। এই আয়তন আর জনসংখ্যাই সরকারের প্রশাসনিক যুক্তির ভিত্তি ছিল।
কেন ভাগ করা হলো: সরকারি কারণ
সরকার তিনটি কারণ দেখিয়েছিল। প্রথমত, বাংলার প্রশাসনিক বোঝা কমানো আর দূরবর্তী জেলাগুলোতে দক্ষ শাসন নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, পিছিয়ে থাকা আসামকে সমুদ্রের দিকে যাওয়ার পথ দেওয়া। তৃতীয়ত, ছড়িয়ে থাকা ওড়িয়া ভাষাভাষী মানুষকে এক প্রশাসনের অধীনে আনা। এই কারণগুলো সরকারের ঘোষিত কারণ। প্রশাসনিক বোঝার যুক্তিটি বোঝা দরকার, একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের অধীনে প্রায় আট কোটি মানুষের প্রদেশ চালানো সত্যিই কঠিন ছিল, আর দূরের জেলাগুলোতে সরকারের সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে দেরি হতো। তবে বিরোধীরা বলেছিলেন, প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান ভাগ না করেও করা যেত, যেমন প্রদেশের ভেতরে আরও কর্মকর্তা নিয়োগ করে। ভাগের পেছনে বিভাজন আর শাসনের উদ্দেশ্য ছিল বলে কংগ্রেস আর অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, তবে সেটি তাঁদের মতামত হিসেবে লেখা উচিত, কার্জনের স্বীকার করা উদ্দেশ্য হিসেবে নয়। বাংলাপিডিয়া জানায়, মূল ভাগ ভৌগোলিক ভিত্তিতে করা হয়েছিল, প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে নয়, রাজনৈতিক বিবেচনা পরে এসেছিল।

দুই নতুন প্রদেশের চিত্র
| বিষয় | পূর্ববঙ্গ ও আসাম | পশ্চিম বাংলা |
|---|---|---|
| রাজধানী | ঢাকা | কলকাতা |
| উপ-সদর | চট্টগ্রাম | নেই |
| অন্তর্ভুক্ত এলাকা | ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিভাগ আর আসাম | প্রেসিডেন্সি, বর্ধমান বিভাগ, বিহার আর উড়িষ্যা |
বিরোধিতা শুরু: ৭ আগস্ট ১৯০৫
ভাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর কলকাতায় তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট কলকাতায় এক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ব্রিটিশ পণ্য বয়কট করা হবে। এই সভা থেকেই বয়কট আন্দোলনের সূচনা হয়। কলকাতার ছাত্র, ব্যবসায়ী আর সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনে যোগ দেন। সভায় উপস্থিত মানুষেরা প্রতিজ্ঞা করেন, তাঁরা বিদেশি কাপড় আর অন্যান্য ব্রিটিশ পণ্য কিনবেন না, যতদিন ভাগের সিদ্ধান্ত বাতিল না হয়। এই প্রতিজ্ঞাই বয়কটকে শুধু সভার সিদ্ধান্ত থেকে জনগণের আন্দোলনে পরিণত করে। বয়কটের পাশাপাশি স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের ডাক দেওয়া হয়, যাতে দেশীয় শিল্প বাঁচে।
১৬ অক্টোবর ১৯০৫: শোকের দিন ও রাখী বন্ধন
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর, যেদিন বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়, সেদিন শোকের দিন হিসেবে পালন করা হয়। সেদিন অনেকে উপবাস করেন, আর কলকাতায় মিছিল বের হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখী বন্ধনের ডাক দেন, যাতে হিন্দু আর মুসলমান একে অপরের হাতে রাখী বেঁধে ঐক্যের প্রতীক দেখান। এই রাখী বন্ধন ছিল ভাগের বিরুদ্ধে ঐক্যের বার্তা। এই দিনে দেশাত্মবোধক গান গাওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন আর রবীন্দ্রনাথের গান সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে কোনো নির্দিষ্ট গান সেদিন গাওয়া হয়েছিল বলে এই লেখায় দাবি করা হয়নি।
স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন
স্বদেশী আন্দোলনের দুটি অস্ত্র ছিল, দেশীয় পণ্য ব্যবহার আর বিদেশি পণ্য বয়কট। বয়কটের লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ পণ্যের বিক্রি কমিয়ে সরকারের উপর চাপ তৈরি করা। স্বদেশীর লক্ষ্য ছিল দেশীয় কাপড়, চিনি, লবণ আর অন্যান্য পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো। এই আন্দোলন শুধু অর্থনৈতিক ছিল না, এটি জাতীয় চেতনার আন্দোলনও ছিল। দেশীয় কাপড়ের মিল আর ছোট শিল্প গড়ে তোলার চেষ্টা হয়, আর বাজারে স্বদেশী পণ্যের দোকান খোলা হয়। সাধারণ মানুষ বুঝতে শুরু করেন, বিদেশি পণ্য কেনা মানে নিজের দেশের শিল্পকে দুর্বল করা। ১৯০৬ সালে কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে প্রথম স্বরাজকে লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
জাতীয় শিক্ষা ও ছাত্রদের ভূমিকা
স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে জাতীয় শিক্ষার আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি শিক্ষার বদলে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার ডাক দেওয়া হয়, যাতে শিক্ষা দেশীয় মূল্যবোধের উপর দাঁড়ায়। ছাত্ররা দলে দলে এই আন্দোলনে যোগ দেন, আর বয়কটের প্রচারে অংশ নেন। জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষা, দেশের ইতিহাস আর কারিগরি শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়, যাতে ছাত্ররা শুধু চাকরির জন্য না পড়ে, দেশের কাজের জন্য তৈরি হয়। সরকার ছাত্রদের দমন করতে কার্লাইল সার্কুলার জারি করে, যাতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। এই দমন আন্দোলনকে আরও ছড়িয়ে দেয়।
মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া: সমর্থন ও বিরোধিতা
মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া একরকম ছিল না, দুই দিকই ছিল। প্রথমে অনেক মুসলমান বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেন, কারণ তাঁরাও বাংলার ঐক্য চেয়েছিলেন। পরে বেশিরভাগ মুসলমান নতুন প্রদেশকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখতে শুরু করেন, কারণ ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ববঙ্গে মুসলমানদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ঢাকায় নতুন অফিস, স্কুল আর আদালত গড়ে ওঠে, আর পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা মনে করেন, এতদিন কলকাতাকেন্দ্রিক প্রশাসনে তাঁদের কথা কম শোনা যেত, এখন ঢাকায় নিজেদের প্রদেশের কাজ হবে। এই আশাই পরে সমর্থনের দিকে নিয়ে যায়। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর মোহামেডান প্রভিন্সিয়াল ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০৬ সালে ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পাশাপাশি একটি ছোট উদারপন্থী দল বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিল। কোনো সম্প্রদায়কে পুরোপুরি নায়ক বা খলনায়ক হিসেবে দেখা ঠিক নয়, দুই সম্প্রদায়ের ভেতরেই ভিন্ন মত ছিল।
বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রচার: গান, পত্রিকা আর সভা
বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুধু বয়কটে সীমাবদ্ধ ছিল না, গান, পত্রিকা আর সভার মাধ্যমেও তা ছড়িয়ে পড়ে। দেশাত্মবোধক গান মানুষের মনে ঐক্যের অনুভূতি জাগায়, আর পত্রিকায় বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে লেখা ছাপা হয়। শহরে শহরে সভা হয়, যেখানে বক্তারা ভাগের ক্ষতি বোঝান। এই প্রচারের ফলে আন্দোলন শুধু কলকাতায় আটকে থাকেনি, গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছায়। সাধারণ মানুষ, যাঁরা রাজনীতির খবর কম রাখতেন, তাঁরাও গান আর সভার মাধ্যমে আন্দোলনের কথা জানতে পারেন। এই প্রচারই স্বদেশী আন্দোলনকে জনগণের আন্দোলনে পরিণত করে।
আন্দোলনের মোড়: সন্ত্রাসবাদের দিকে
সময়ের সঙ্গে আন্দোলনের একটি অংশ সহিংস পথে মোড় নেয়। শান্তিপূর্ণ বয়কট আর স্বদেশীর পাশাপাশি কিছু যুবক গোপন সংগঠন গড়ে তোলেন, আর ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের উপর হামলার পরিকল্পনা করেন। এই মোড় আন্দোলনের চরিত্র বদলে দেয়, আর সরকার দমন আরও কঠোর করে। ১৯০৭ সালের মার্চে কুমিল্লায় আর এপ্রিলে জামালপুরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বঙ্গভঙ্গ রদ, ১৯১১
বঙ্গভঙ্গ রদের প্রক্রিয়া ১৯১১ সালে শেষ হয়। ভাইসরয় হার্ডিঞ্জ ১৯১১ সালের ১৯ জুলাই বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠান, আর ভারত সচিব ১৯১১ সালের ৭ আগস্ট তাতে সম্মতি দেন। ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লি দরবারে রাজা পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন, আর একই সঙ্গে রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে সরানোর ঘোষণা দেন। রাজধানী সরানোর ঘোষণাটি আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ কলকাতা এতদিন ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ছিল, আর দিল্লিকে রাজধানী করা মানে শাসনের কেন্দ্র উত্তরে সরিয়ে নেওয়া। নতুন ব্যবস্থা ১৯১২ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর হয়, আর আনুষ্ঠানিক পুনর্মিলনের দিন ঠিক করা হয় ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল। রদের পর বাংলা প্রদেশ গঠিত হয় পাঁচটি বাংলা ভাষাভাষী বিভাগ নিয়ে, প্রেসিডেন্সি, বর্ধমান, ঢাকা, রাজশাহী আর চট্টগ্রাম। বিহার আর উড়িষ্যা আলাদা প্রদেশ হয়, আসাম আবার চিফ কমিশনারের শাসনে ফিরে যায়, কলকাতা বাংলার রাজধানী থাকে, আর দিল্লি ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী হয়।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯ জুলাই ১৯০৫ | বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত ঘোষণা |
| ৭ আগস্ট ১৯০৫ | কলকাতায় বয়কটের সিদ্ধান্ত |
| ১৬ অক্টোবর ১৯০৫ | বঙ্গভঙ্গ কার্যকর, শোকের দিন, রাখী বন্ধন |
| ১৯০৬ | স্বরাজ লক্ষ্য ঘোষণা, ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা |
| ১৯০৭ | কুমিল্লা ও জামালপুরে দাঙ্গা |
| ১২ ডিসেম্বর ১৯১১ | দিল্লি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা |
| ১ এপ্রিল ১৯১২ | আনুষ্ঠানিক পুনর্মিলনের দিন |
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
বঙ্গভঙ্গ রদ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘদিন থাকে। স্বদেশী আর বয়কট কংগ্রেসের নীতি হয়ে যায়, আর পরের আন্দোলনগুলোতেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বাংলাপিডিয়া জানায়, বঙ্গভঙ্গ আর তার রদের সময়কে ঘিরে ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়। এই সময়ের অভিজ্ঞতা পরের দশকের রাজনীতিকে প্রভাবিত করে, হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক, জাতীয় শিক্ষা আর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার ধারণা, সব ক্ষেত্রেই। জাতীয় শিক্ষার ধারণা পরে আরও বড় হয়, আর দেশীয় শিল্পের পক্ষে যুক্তি পরের আন্দোলনগুলোতে বারবার ফিরে আসে। বঙ্গভঙ্গের ইতিহাস তাই শুধু ১৯০৫ থেকে ১৯১২ সালের গল্প নয়, এটি আধুনিক বাংলার রাজনৈতিক চেতনার একটি বড় অধ্যায়।
সচরাচর প্রশ্ন
বঙ্গভঙ্গ কী ছিল? বঙ্গভঙ্গ ছিল ১৯০৫ সালে বাংলা প্রদেশকে দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত, যা ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর কার্যকর হয়।
বঙ্গভঙ্গ কেন হয়েছিল? সরকারের ঘোষিত কারণ ছিল প্রশাসনিক বোঝা কমানো, আসামকে সমুদ্রের পথ দেওয়া আর ওড়িয়া ভাষাভাষীদের এক প্রশাসনে আনা।
বঙ্গভঙ্গ কে করেছিলেন? লর্ড কার্জনের ভাইসরয় থাকার সময় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তিনি ১৮৯৮ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত ভাইসরয় ছিলেন।
বঙ্গভঙ্গ কবে কার্যকর হয়? ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর।
স্বদেশী আন্দোলন কী ছিল? স্বদেশী আন্দোলন ছিল দেশীয় পণ্য ব্যবহার আর বিদেশি পণ্য বয়কটের আন্দোলন।
১৬ অক্টোবর ১৯০৫ সালে কী হয়েছিল? সেদিন বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়, শোকের দিন পালন করা হয়, আর রাখী বন্ধনের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়।
বঙ্গভঙ্গ কবে রদ হয়? ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লি দরবারে রদের ঘোষণা দেওয়া হয়, আর আনুষ্ঠানিক পুনর্মিলন হয় ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল।
বঙ্গভঙ্গের ফলাফল কী ছিল? স্বদেশী আর বয়কট কংগ্রেসের নীতি হয়ে যায়, আর এই সময়ের অভিজ্ঞতা পরের রাজনীতিকে প্রভাবিত করে।
তথ্যসূত্র: বঙ্গভঙ্গ, ১৯০৫ https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%AD%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97,_%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%A6%E0%A7%AB, বঙ্গভঙ্গ রদ https://bn.banglapedia.org/index.php/%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%AD%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97_%E0%A6%B0%E0%A6%A6।
