Skip to main content

Jante Hobe

জ্ঞান আহরণ – সঠিক সিদ্ধান্ত – সুন্দর জীবন

জ্ঞান আহরণ – সঠিক সিদ্ধান্ত – সুন্দর জীবন

সর্বশেষ লেখা

কক্সবাজারের মূল আকর্ষণ প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বালুর সৈকত, যা বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত। ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন ও বিমান, তিন পথেই এখানে যাওয়া যায়। বাজেট ও সময় অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিলেই ভ্রমণ সহজ হয়ে ওঠে।

এই গাইডে যাওয়ার উপায়, থাকার এলাকা, দেখার জায়গা ও খরচের বাস্তব ধারণা একসঙ্গে দেওয়া হলো। বেশিরভাগ ভ্রমণকারী দুই রাত তিন দিনের পরিকল্পনায় কক্সবাজার ঘুরে আসেন। সময় বেশি থাকলে মহেশখালী ও রামু যোগ করে তিন রাতের পরিকল্পনাও করা যায়।

এক নজরে কক্সবাজার ভ্রমণ

কক্সবাজার ভ্রমণের সারসংক্ষেপ
বিষয় তথ্য
প্রধান আকর্ষণ প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বালুর সমুদ্রসৈকত
ঢাকা থেকে দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার
বাসে সময় প্রায় ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা
ট্রেনে সময় প্রায় ৮ ঘণ্টা ৫০ মিনিট (সরাসরি ট্রেন)
বিমানে সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট
সেরা সময় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি
আদর্শ মেয়াদ ২ রাত ৩ দিন

কীভাবে যাবেন

বাসে কক্সবাজার

ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল ও আরামবাগ থেকে সরাসরি বাস ছাড়ে। রাতের বাস সবচেয়ে জনপ্রিয়, কারণ রাতে রওনা হলে সকালে পৌঁছে পুরো দিনটি হাতে পাওয়া যায়। পথে যানজট থাকলে সময় আরও বাড়তে পারে।

ভাড়া বাসের ধরন অনুযায়ী বদলায়। নন-এসি বাসে জনপ্রতি প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, এসি বাসে প্রায় ১,২০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত পড়ে। ছুটির মৌসুমে ভাড়া ও চাহিদা দুটোই বাড়ে, তাই আগেভাগে টিকিট কাটা নিরাপদ।

ট্রেনে কক্সবাজার

ঢাকা থেকে এখন সরাসরি ট্রেন চলাচল করে, যা এই পথের সবচেয়ে আরামদায়ক বিকল্পগুলোর একটি। কক্সবাজার এক্সপ্রেস (Cox’s Bazar Express) রাতে ছেড়ে পরদিন সকালে পৌঁছায়। পর্যটক এক্সপ্রেস (Parjatak Express) ছাড়ে সকালে, পৌঁছায় বিকেলে।

প্রকাশিত ভাড়া অনুযায়ী শোভন চেয়ার ৬৯৫ টাকা, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) ১,৩২৫ টাকা, এসি সিট ১,৫৯০ টাকা এবং এসি বার্থ ২,৩৮০ টাকা। এই রুটে আসনের চাহিদা খুব বেশি, সপ্তাহান্তে টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার দিন সকালেই চেষ্টা করা ভালো। ভাড়া রেলওয়ে যেকোনো সময় সংশোধন করতে পারে, তাই কেনার আগে ই-টিকিট সাইটে সর্বশেষ ভাড়া দেখে নিন।

বিমানে কক্সবাজার

সময় কম থাকলে বিমান সবচেয়ে সুবিধাজনক। ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটে সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট। একাধিক এয়ারলাইন প্রতিদিন এই রুটে ফ্লাইট চালায়।

একমুখী ভাড়া সাধারণ সময়ে প্রায় ৪,৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়। চাহিদার মৌসুমে একই টিকিট ১০,০০০ টাকার ওপরে উঠতে পারে। কক্সবাজার বিমানবন্দর শহরের কাছেই, সেখান থেকে হোটেল এলাকায় পৌঁছাতে বেশি সময় লাগে না।

কোথায় থাকবেন

কক্সবাজারে থাকার জায়গা মূলত কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে আছে। এলাকা বেছে নেওয়ার ওপর ভ্রমণের ধরন অনেকটা নির্ভর করে।

কলাতলী এলাকা বাজেট ও মধ্যম মানের হোটেলের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। সৈকত হাঁটাপথের দূরত্বে, খাবারের দোকানও চারদিকে ছড়ানো। সুগন্ধা এলাকা খাবার, বাজার ও সৈকতের কার্যক্রমের কেন্দ্রে, তবে এখানে ভিড় তুলনামূলক বেশি থাকে। লাবণী পয়েন্টের আশপাশ শহরের প্রাণকেন্দ্র, প্রথমবারের ভ্রমণকারীর জন্য সুবিধাজনক।

শান্ত পরিবেশ চাইলে মেরিন ড্রাইভ ও ইনানির দিকের রিসোর্টগুলো ভালো বিকল্প। সেখানে সৈকত নির্জন, তবে শহরের বাজারে যেতে যানবাহন লাগে।

দামের ধারণা হিসেবে, সাধারণ মানের হোটেলে প্রতি রাত প্রায় ১,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা, মধ্যম মানের হোটেলে প্রায় ২,৫০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পড়ে। বড় রিসোর্টে রাতপ্রতি ৭,০০০ টাকা থেকে শুরু করে তার ওপরে যায়। ঈদ ও লম্বা ছুটিতে এই দাম প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে দেখা যায়। বুকিংয়ের সময় রুমের ছবি, সৈকত থেকে দূরত্ব ও সকালের খাবার অন্তর্ভুক্ত কিনা জেনে নিন।

কী দেখবেন

শহরের কাছের সৈকতগুলো

লাবণী পয়েন্ট শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত ও পরিচিত সৈকত অংশ। ভোরের হাঁটা, সূর্যাস্ত দেখা ও সৈকতের দোকানপাটের জন্য এই অংশটি সুবিধাজনক। সুগন্ধা পয়েন্টে খাবারের দোকান ও সৈকত কার্যক্রম বেশি, সন্ধ্যায় এখানে ভিড় জমে। কলাতলী পয়েন্ট তুলনামূলক খোলামেলা, হোটেল এলাকা থেকে সহজে যাওয়া যায়।

হিমছড়ি ও ইনানি

শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে হিমছড়ি। এখানে পাহাড়, ঝরনা ও হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান (Himchari National Park) রয়েছে। পাহাড়ের ওপর থেকে সৈকতের লম্বা রেখা দেখা যায়। বর্ষায় ঝরনায় পানি বেশি থাকে, অন্য সময়ে ঝরনা ক্ষীণ হয়ে আসে।

আরও দক্ষিণে, প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ইনানি সৈকত। ইনানির পরিচিতি তার প্রবাল পাথর ও তুলনামূলক শান্ত পরিবেশের জন্য। ভাটার সময় পাথরের গায়ে ছোট ছোট জলজ প্রাণী চোখে পড়ে। পাথর ভেজা ও পিচ্ছিল থাকে, তাই হাঁটার সময় সাবধানতা দরকার।

মেরিন ড্রাইভ

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উপকূলীয় সড়কটি ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। একদিকে সাগর, অন্যদিকে পাহাড়ের সারি, মাঝখান দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাই এখানে মূল বিষয়। দিনব্যাপী গাড়ি ভাড়া করে হিমছড়ি, ইনানি ও পাটুয়ারটেক ঘুরে আসা যায়। গাড়ি ভাড়া নেওয়ার আগে ভাড়া ও থামার জায়গাগুলো স্পষ্ট করে ঠিক করে নিন।

মহেশখালী দ্বীপ

কক্সবাজারের ঘাট থেকে স্পিডবোটে মহেশখালী যাওয়া যায়, সময় লাগে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট। দ্বীপে রয়েছে পাহাড়ের ওপরের আদিনাথ মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, লবণের ক্ষেত ও শুটকি প্রক্রিয়াজাতের এলাকা। আদিনাথ মন্দিরে উঠতে পাহাড়ি পথ বেয়ে কিছুটা হাঁটতে হয়, তাই সময় হাতে রেখে যাওয়া ভালো। মন্দির চত্বর থেকে চারদিকের সবুজ ও জলাশয়ের দৃশ্য দেখা যায়। দ্বীপের ভেতরে ঘোরার জন্য স্থানীয় যানবাহন পাওয়া যায়, ভাড়া আগে ঠিক করে নিন। অর্ধেক দিনের পরিকল্পনায় এই ভ্রমণটি সহজে সাজানো যায়। নৌকায় ওঠার আগে লাইফ জ্যাকেট (Life Jacket) পরে নেওয়া বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলুন। ফেরার বোটের শেষ সময়টি ঘাটে গিয়েই জেনে নিন, যাতে দ্বীপে আটকে না পড়তে হয়।

রামু ও শহরের অন্যান্য জায়গা

কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে রামু। এখানকার প্রধান আকর্ষণ ১০০ ফুট দীর্ঘ শায়িত বুদ্ধমূর্তি ও পুরনো বৌদ্ধ বিহারগুলো। শহরের ভেতরে আগ্গমেদা খেয়াং নামের বড় বৌদ্ধ বিহার ও বার্মিজ মার্কেট ঘুরে দেখা যায়। শিশুদের জন্য রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড (Radiant Fish World) নামের অ্যাকোয়ারিয়ামটিও (Aquarium) একটি বিকল্প।

হাতে বাড়তি দিন থাকলে সোনাদিয়া দ্বীপ নৌকায় ঘুরে আসা যায়। শীতে সেখানে পরিযায়ী পাখি দেখা যায়। সেন্টমার্টিন যেতে হলে টেকনাফ থেকে জাহাজ ধরতে হয় এবং সেই সেবা মূলত নভেম্বর থেকে মার্চ মৌসুমে চলে, তাই সেটি আলাদা পরিকল্পনা দাবি করে।

দিন অনুযায়ী সহজ পরিকল্পনা

দুই রাত তিন দিনের ভ্রমণ এভাবে সাজালে কোনো অংশেই তাড়াহুড়া পড়ে না। প্রথম দিন পৌঁছে হোটেলে ওঠা ও বিশ্রামের পর বিকেলে লাবণী বা সুগন্ধা পয়েন্টে সূর্যাস্ত দেখুন। সন্ধ্যায় বার্মিজ মার্কেট ও আশপাশের খাবারের দোকান ঘুরে দেখা যায়।

দ্বিতীয় দিনটি রাখুন মেরিন ড্রাইভের জন্য। সকালে রওনা হয়ে হিমছড়ি, ইনানি ও পাটুয়ারটেক ঘুরে বিকেলের মধ্যে ফিরে আসা যায়। পথে পাহাড়ের ভিউপয়েন্টে থামার সময় রাখুন, তাড়া করে গেলে এই পথের আসল আনন্দটাই মিস হয়।

তৃতীয় দিন সকালে মহেশখালী বা রামু, যেকোনো একটি বেছে নিন। ফেরার যানবাহন বিকেল বা রাতের হলে দুপুরের পর শহরের কাছের সৈকতে শেষবারের মতো সময় কাটানো যায়। সৈকতে নামার পরিকল্পনা থাকলে ফেরার সময়ের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে হোটেলে ফিরে আসা নিরাপদ।

কী খাবেন

কক্সবাজারের খাবারের প্রধান আকর্ষণ তাজা সামুদ্রিক মাছ। রূপচাঁদা, লইট্টা, কোরাল, চিংড়ি ও কাঁকড়া প্রায় সব হোটেল-রেস্টুরেন্টের তালিকায় থাকে। ভাজা বা ঝোল, কোন পদ্ধতিতে রান্না হবে তা অর্ডারের সময় বলে দেওয়া যায়। মাছের দাম আকার ও মৌসুম অনুযায়ী বদলায়, অর্ডারের আগেই দাম জেনে নেওয়া ভালো।

স্থানীয় খাবারের মধ্যে শুটকি ভর্তা ও শুটকির তরকারি অনেকের কাছে প্রিয়, যদিও এর গন্ধ সবার পছন্দ নাও হতে পারে। সুগন্ধা ও লাবণী এলাকায় সারি সারি রেস্টুরেন্ট আছে, ভিড় দেখে ভালো দোকান আন্দাজ করা যায়। হোটেলের বাইরে খেলে খরচ কিছুটা কমে, বিশেষ করে দুপুরের ভাত-মাছের সেট মেন্যুতে। নারকেল ও তাজা ফল সৈকতের পাশের দোকানে সহজে পাওয়া যায়।

খরচের ধারণা

খরচ নির্ভর করে যাতায়াতের মাধ্যম, হোটেলের মান ও খাবারের ধরনের ওপর। নিচের হিসাবটি দুই রাত তিন দিনের ভ্রমণে জনপ্রতি আনুমানিক ধারণা দেয়।

খাত বাজেট ভ্রমণ আরামদায়ক ভ্রমণ
যাতায়াত (আসা-যাওয়া) বাসে ১,৪০০–১,৮০০ টাকা ট্রেনে এসি বা বিমানে ৩,০০০–১৩,০০০ টাকা
থাকা (২ রাত, রুম ভাগ করে) ১,০০০–২,৫০০ টাকা ৩,০০০–৮,০০০ টাকা
খাবার (৩ দিন) ১,৫০০–২,৫০০ টাকা ৩,০০০–৫,০০০ টাকা
স্থানীয় যাতায়াত ও ঘোরাঘুরি ৮০০–১,৫০০ টাকা ২,০০০–৪,০০০ টাকা

হিসাবটি মিলিয়ে দেখলে বাজেট ভ্রমণে জনপ্রতি মোট খরচ প্রায় ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব। আরামদায়ক ভ্রমণে তা ১১,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে, মূলত বিমান ভাড়া ও রিসোর্টের কারণে। দল বড় হলে রুম ও গাড়ির খরচ ভাগ হয়ে জনপ্রতি ব্যয় কমে আসে।

সেরা সময় কখন

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার ভ্রমণের সেরা সময়। এই সময়ে আবহাওয়া শুষ্ক ও আরামদায়ক থাকে, সমুদ্রও তুলনামূলক শান্ত থাকে। অক্টোবর ও মার্চ মাসেও ভ্রমণ ভালো হয়, তবে গরম ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

বর্ষাকালে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর, ভিড় কম থাকে এবং হোটেলভাড়া অনেক সময় কমে যায়। তবে এই সময়ে সমুদ্র উত্তাল থাকে এবং বৃষ্টি পরিকল্পনা বদলে দিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুমে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

সময় আবহাওয়া ও পরিবেশ কার জন্য উপযুক্ত
নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি শুষ্ক, আরামদায়ক, সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত পরিবার ও প্রথমবারের ভ্রমণকারী
মার্চ–মে গরম বাড়ে, দুপুরে রোদ তীব্র সকাল-বিকেলের সৈকত কার্যক্রমে স্বাচ্ছন্দ্যবান
জুন–সেপ্টেম্বর বৃষ্টি, উত্তাল সমুদ্র, ভিড় কম, খরচ কম বাজেট ভ্রমণকারী, তবে সাঁতারে সীমাবদ্ধতা থাকে
ঈদ ও লম্বা ছুটি প্রচণ্ড ভিড়, হোটেল ও টিকিটের দাম সর্বোচ্চ আগেভাগে সব বুকিং করতে পারলে তবেই

নিরাপত্তা ও সতর্কতা

সাঁতার কাটতে হলে নির্ধারিত নিরাপদ এলাকার ভেতরেই নামুন। সৈকতে লাল পতাকা বা সতর্কতা সংকেত থাকলে তা অমান্য করে পানিতে নামা যাবে না। জোয়ারের সময় পাথুরে এলাকায় হাঁটা বিপজ্জনক, কারণ ঢেউ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।

সাঁতার না জানলে গভীর পানির দিকে যাবেন না। শিশুদের সব সময় বড়দের নজরের মধ্যে রাখুন। বিকেলের পর অপরিচিত নির্জন সৈকত অংশে না যাওয়াই ভালো। নৌভ্রমণে লাইফ জ্যাকেট পরুন এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকায় উঠবেন না। সৈকতে মূল্যবান জিনিস অরক্ষিত রেখে পানিতে নামবেন না। সামুদ্রিক খাবারে যাদের অ্যালার্জি (Allergy) আছে, তারা অপরিচিত খাবার খাওয়ার আগে সতর্ক থাকুন।

দরকারি টিপস

  • অটোরিকশা বা ইজিবাইকে ওঠার আগে ভাড়া ঠিক করে নিন, মিটারের চল এই এলাকায় প্রচলিত নয়।
  • সূর্যোদয় দেখতে চাইলে ভোরে সৈকতে যান, এই সময়ে ভিড় সবচেয়ে কম থাকে।
  • সৈকতের ঘোড়া বা জেট স্কির মতো কার্যক্রমে ওঠার আগে দাম চূড়ান্ত করে নিন।
  • হোটেল বুকিংয়ের কাগজ বা মোবাইলে সংরক্ষিত কপি সঙ্গে রাখুন।
  • ফেরার টিকিট আগেভাগে কেটে রাখলে ছুটির দিনের চাপ থেকে বাঁচা যায়।

যাওয়ার আগে যেসব প্রস্তুতি কাজে আসবে

সৈকত ভ্রমণে হালকা ও দ্রুত শুকানো পোশাক সবচেয়ে আরামদায়ক। ভেজা কাপড় রাখার জন্য আলাদা পানিরোধী থলি সঙ্গে রাখুন। রোদে দীর্ঘ সময় থাকা হয় বলে সানস্ক্রিন (Sunscreen), টুপি ও রোদচশমা কাজে আসে। পায়ের জন্য পানিতে ভিজলেও চলে এমন স্যান্ডেল সুবিধাজনক, কারণ বিচের বালুতে সাধারণ জুতা ভিজে ভারী হয়ে যায়।

টাকা ও কার্ড দুটোই রাখুন, ছোট খরচের জন্য নগদ টাকাই বেশি কাজে লাগে। হোটেলের চেক-ইনের (Check-in) সময় পরিচয়পত্র লাগতে পারে, তাই জাতীয় পরিচয়পত্র বা তার পরিষ্কার ছবি মোবাইলে রাখুন। সমুদ্রে নামার পরিকল্পনা থাকলে মোবাইল ফোনের জন্য পানিরোধী পাউচ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ফেরার দিন যানবাহনের সময় অনুযায়ী হোটেল ছাড়ার সময় ঠিক করুন, ছুটির দিনে শহর থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যেতেও অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

কক্সবাজার ঘুরতে কয়দিন যথেষ্ট?

দুই রাত তিন দিনে শহরের সৈকত, হিমছড়ি ও ইনানি আরামে ঘোরা যায়। মহেশখালী ও রামু যোগ করতে চাইলে তিন রাতের পরিকল্পনা ভালো।

ঢাকা থেকে কোন যাতায়াত সবচেয়ে সুবিধাজনক?

সময় বাঁচাতে চাইলে বিমান, আরাম ও খরচের ভারসাম্যে ট্রেন, আর বাজেটে বাস। রাতের বাস বা রাতের ট্রেন নিলে এক রাতের হোটেল খরচও বেঁচে যায়।

পরিবার নিয়ে থাকার জন্য কোন এলাকা ভালো?

কলাতলী ও লাবণীর আশপাশে হোটেল, খাবার ও সৈকত, তিনটিই কাছে পাওয়া যায়। নির্জনতা চাইলে মেরিন ড্রাইভের দিকের রিসোর্ট বেছে নিন।

সৈকতে সাঁতার কতটা নিরাপদ?

নির্ধারিত এলাকায়, সংকেত মেনে এবং জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নামলে ঝুঁকি অনেক কমে। উত্তাল সমুদ্রে বা সতর্কতা সংকেত থাকলে পানিতে নামা উচিত নয়।

সেন্টমার্টিন কি একই ভ্রমণে যাওয়া সম্ভব?

সম্ভব, তবে সেজন্য অন্তত একদিন বাড়তি রাখতে হবে। টেকনাফ থেকে জাহাজ চলে মূলত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত, আসন আগেভাগে বুক করা লাগে।

শিশুদের নিয়ে গেলে কোন সৈকত অংশটি সুবিধাজনক?

লাবণী ও কলাতলীর মতো শহরের কাছের অংশগুলোতে সুযোগ-সুবিধা ও মানুষজন বেশি থাকে। তবু শিশুকে পানিতে কখনোই একা ছাড়া যাবে না, ভিড়ের সময়েও নয়।

কক্সবাজারে স্থানীয় যাতায়াতের মাধ্যম কী?

শহরের ভেতরে অটোরিকশা ও ইজিবাইকই প্রধান মাধ্যম। দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া আগে থেকে ঠিক করে ওঠা ভালো, কারণ নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা এখানে কার্যকর নয়।

বর্ষায় গেলে কি সৈকত উপভোগ করা যায়?

সৈকতে হাঁটা ও দৃশ্য দেখা যায়, তবে সাঁতার প্রায়ই অনিরাপদ হয়ে ওঠে। এই মৌসুমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে প্রতিদিনের পরিকল্পনা ঠিক করা বুদ্ধিমানের কাজ।