ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর শুধু পরীক্ষার দিনের কাজে ওঠে না। নোটবুকের পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষকের নিয়মিত স্বাক্ষর, ভাইভার প্রস্তুতি, আর পরীক্ষণের প্রতিটি অংশের নম্বর, সব মিলিয়ে ব্যবহারিকের ২৫ নম্বর তৈরি হয়। এই লেখাটি ব্যবহারিক পরীক্ষার নিয়মের চিরসবুজ গাইড, তারিখের খবর নয়। ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ বোর্ড আলাদাভাবে ঘোষণা করে, তাই এই লেখায় কোনো ২০২৭ সালের ব্যবহারিক তারিখ দেওয়া হয়নি। নিজের কেন্দ্র ও স্কুলের নোটিশ মিলিয়ে নিন। এই পাতাটি বোর্ডের অফিশিয়াল পেজ নয়।
সতর্কতা: বোর্ড বা এনসিটিবির মূল নথি এই রিসার্চে সরাসরি পড়া যায়নি। নিচের বিভাজন ঢাকা বোর্ডের ব্যবহারিক নির্দেশনার প্রতিবেদন ও গাইড পেজের ভিত্তিতে দেওয়া হলো। চূড়ান্ত তথ্য নিজের স্কুল ও বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি থেকে মিলিয়ে নিন।
কোন কোন বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়
ব্যবহারিক পরীক্ষা হয় এসব বিষয়ে: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত, কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, চারু ও কারুকলা, সংগীত। যার যে বিষয় আছে, তাকে সেই বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ব্যবহারিকসহ বিষয়গুলোতে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে তত্ত্বীয় অংশে ৭৫ নম্বর ও ব্যবহারিক অংশে ২৫ নম্বর থাকে। তত্ত্বীয় ৭৫ নম্বরের মধ্যে সৃজনশীল অংশে ৪০ নম্বর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নে ১০ নম্বর ও বহুনির্বাচনি অংশে ২৫ নম্বর থাকে।
ব্যবহারিক পরীক্ষা কীভাবে হয়: লটারি নিয়ম
লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ব্যবহারিক পরীক্ষা আলাদা তারিখে হয়। পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নে উল্লেখিত যেকোনো একটি পরীক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়। শিক্ষকদের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষণ বণ্টন করা হয়। একজন পরীক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুইবার লটারির সুযোগ পান। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা। লটারিতে পাওয়া পরীক্ষণ বদলাতে চাওয়া যাবে না। পছন্দের পরীক্ষণ না পেলেও সেটি দিয়েই পরীক্ষা দিতে হবে।
পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন: ২৫ নম্বরের ভেতরের বিভাজন
| বিষয় | পরীক্ষণ ১৫ | নোটবুক ও ভাইভা |
|---|---|---|
| পদার্থবিজ্ঞান | তত্ত্ব ৩, তথ্য সংগ্রহ ছক ও চিত্র ৬, হিসাব ৩, ফলাফল ১, সতর্কতা ২ | নোটবুক ৫, ভাইভা ৫ |
| রসায়ন | যন্ত্রপাতি ও তত্ত্ব ৩, সাজানো ও কার্যপ্রণালী ৪, ধর্ম পরীক্ষা ও ফল লিখন ৬, পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতা ২ | নোটবুক ৫, ভাইভা ৫ |
জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত: আলাদা নিয়ম
জীববিজ্ঞান ২৫: পরীক্ষণ ১৫ (নাম ১, উপকরণ ১, কার্যপদ্ধতি ও প্রদর্শন ৩, চিত্রাঙ্কণ ৩, চিহ্নিতকরণ ২, পর্যবেক্ষণ ২, সিদ্ধান্ত ২, সতর্কতা ১), ফল ব্যাখ্যা ৪, ভাইভা ৪, খাতা ও শিট ২। এই বিভাজন ঢাকা বোর্ডের নির্দেশনার একটি প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে, অন্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি, তাই চূড়ান্ত নিশ্চয়তার দাবি করা যাবে না। উচ্চতর গণিতে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে দুটি পরীক্ষণ করতে হয়। লটারির মাধ্যমে পরীক্ষণ বণ্টন করা হয়, প্রত্যেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষণের জন্য সর্বাধিক দুবার লটারির সুযোগ পান। প্রতিটি পরীক্ষণে ১০ নম্বর (পরিকল্পনা ২, প্রক্রিয়া ৩, লেখচিত্র ও উপাত্ত বিশ্লেষণ ৩, ব্যাখ্যাসহ ফল ২), দুটি পরীক্ষণে ২০ নম্বর। মৌখিক পরীক্ষা হয় এবং প্রশ্ন পাঠ্যসূচির মধ্যে থাকে, তবে মৌখিকের নম্বর নির্দেশনার অংশে আলাদাভাবে বলা হয়নি, তাই নিশ্চিত অঙ্ক হিসেবে লেখা যাবে না।
কৃষি শিক্ষা, চারু ও কারুকলা, সংগীত, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান
কৃষি শিক্ষা ২৫: পরীক্ষণ ১৫, খাতা ৫, ভাইভা ৫। চারু ও কারুকলায় পরীক্ষার্থী দৃশ্য ও নকশা অঙ্কনের জন্য রং (জল রং ছাড়া), জ্যামিতি বক্স, স্কেল, পেনসিল, ইরেজার নিজে নিয়ে আসবে। হল কর্তৃপক্ষ ব্যবহারিক উত্তরপত্র সরবরাহ করবেন। সংগীতে পরীক্ষকরা গায়নরীতি, সুর, তাল, লয়, উচ্চারণ ও বাণীর প্রতি লক্ষ্য রেখে নম্বর দেবেন। গার্হস্থ্য বিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় উপকরণ হিসেবে কলম, পেনসিল, স্কেল, রাবার, বোর্ড, পেপার ও আলপিন আনতে হবে। আরো লাগবে ডিম, দুধ, চিনি, ভ্যানিলা এসেন্স। এই তিন বিষয়ের পূর্ণ নম্বর বিভাজন এই রিসার্চে পাওয়া যায়নি, শুধু মূল্যায়নের ধরন ও উপকরণের তালিকা পাওয়া গেছে।
আইসিটি ব্যবহারিক: মোট ৫০ এর আসল চিত্র
আইসিটির মোট নম্বর ৫০। লিখিত অংশে ২৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, আর ব্যবহারিক অংশে ২৫ নম্বর থাকে। ২০২৬ সাল থেকে সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন বাদ দেওয়া হয়েছে, আগের ১০ নম্বর বহুনির্বাচনি অংশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট ২৫ নম্বর বহুনির্বাচনি হয়েছে। অর্থাৎ পুরোনো কাঠামোর সংক্ষিপ্ত উত্তর অংশ আর বর্তমান নয়, কিন্তু মোট ৫০ নম্বর এখনো বহাল। ব্যবহারিক কাজ স্কুলের ল্যাব ক্লাসে হাতে কলমে শেখার অংশ হিসেবে থাকে। সংশ্লিষ্ট বছরের বোর্ড নির্দেশনা মিলিয়ে নিন।

ব্যবহারিক খাতার নিয়ম
ব্যবহারিক খাতার ওপরের মলাটে রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখতে হবে। নিজের নাম বা বিদ্যালয়ের নাম লেখার দরকার নেই। ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য যে উত্তরপত্র সরবরাহ করা হয়, তাতে ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষণের প্রয়োজনীয় অংশ লিখতে হবে, যাতে কোনো অংশ বাদ না পড়ে। উত্তরপত্রও পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতে হবে। নোটবুকে নম্বরের ভিত্তি: কাজের পরিচ্ছন্নতা, কাজের পরিমাপ, শিক্ষকের নিয়মিত স্বাক্ষর। অর্থাৎ নোটবুক পরীক্ষার আগের দিন বানানো জিনিস নয়, সারা বছর ধরে নিয়মিত স্বাক্ষর করা খাতাই নম্বর পায়। স্বাক্ষরবিহীন খাতা নম্বর হারায়।
পরীক্ষার দিন যা লাগবে
| জিনিস | মন্তব্য |
|---|---|
| প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড | ছাড়া পরীক্ষা দেওয়া যাবে না |
| ব্যবহারিক খাতা | মলাটে শুধু রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর |
| কলম, জ্যামিতি বক্স, স্কেল, ক্যালকুলেটর | বিষয়ভেদে ডিসেকটিং বক্স |
| চারুকলার রং, পেনসিল, ইরেজার | জল রং ছাড়া; উত্তরপত্র হল কর্তৃপক্ষ দেবে |
নম্বর কাটা যায় যেসব ভুলে
প্রথম ভুল: অসম্পূর্ণ বা শেষ মুহূর্তে বানানো নোটবুক। দ্বিতীয় ভুল: ভাইভার প্রস্তুতি না নেওয়া। মৌখিক পরীক্ষায় পরীক্ষণের ওপর জ্ঞান যাচাইয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তবে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত যেকোনো প্রশ্ন করা যাবে। শুধু পরীক্ষণ মুখস্থ করলেই হবে না। তৃতীয় ভুল: খাতার মলাটে নাম বা স্কুলের নাম লেখা। চতুর্থ ভুল: উত্তরপত্রে পরীক্ষণের কোনো অংশ বাদ দেওয়া। তত্ত্ব, তথ্য, ছক, চিত্র, হিসাব, ফলাফল, সতর্কতা, প্রতিটি অংশের আলাদা নম্বর আছে। একটি অংশ বাদ গেলে সেই অংশের পুরো নম্বর যাবে। পঞ্চম ভুল: পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতা অবহেলা করা। পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতার জন্য আলাদা নম্বর আছে। ষষ্ঠ ভুল: প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না আনা।
অনুপস্থিতি বা খাতা হারিয়ে গেলে করণীয়
ব্যবহারিক পরীক্ষায় অনুপস্থিত হলে কী হবে, তার কোনো বোর্ড সূত্র এই রিসার্চে পাওয়া যায়নি। বানানো পুনরায় পরীক্ষার নিয়ম লেখা যাবে না। একইভাবে ব্যবহারিক খাতা হারিয়ে গেলে কী হবে, তারও কোনো বোর্ড সূত্র পাওয়া যায়নি। দুই ক্ষেত্রেই একমাত্র নিরাপদ পরামর্শ: দ্রুত নিজের স্কুল ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার খবর সংবাদে পরিকল্পনা হিসেবে এসেছে, চূড়ান্ত বোর্ড নির্দেশনা হিসেবে যাচাই হয়নি, তাই ব্যবহারিক অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে এই পরিকল্পনা প্রযোজ্য বলে লেখা যাবে না।
ব্যবহারিক নম্বর কি জিপিএতে ধরা হয়
হ্যাঁ। ব্যবহারিকসহ বিষয়ের মোট নম্বর ১০০, যার মধ্যে তত্ত্বীয় ৭৫ ও ব্যবহারিক ২৫। বিষয়ের চূড়ান্ত গ্রেড এই মোট নম্বরের ভিত্তিতে হয়, আর জিপিএ হিসাব হয় বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট দিয়ে। অর্থাৎ ব্যবহারিকের ২৫ নম্বর বিষয়ের গ্রেডের অংশ, আলাদা কোনো জিপিএ নিয়ম নেই। জিপিএ হিসাবের বিস্তারিত নিয়ম এখানে আবার দেওয়া হয়নি, লিংক দেওয়া হলো।
ভাইভা প্রস্তুতির কৌশল
ভাইভায় ভালো করতে হলে নিজের পরীক্ষণের প্রতিটি ধাপ মুখে বলতে পারতে হবে: কেন এই পরীক্ষণ করা হলো, কী যন্ত্রপাতি লাগল, কী পর্যবেক্ষণ পাওয়া গেল, আর ফলাফল থেকে কী সিদ্ধান্ত এলো। শুধু ফলাফল মুখস্থ করলে হবে না, কারণ পরীক্ষক পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন। পরীক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত সূত্র ও সংজ্ঞা ঝালিয়ে নিন, আর নোটবুকের প্রতিটি পৃষ্ঠা নিজে পড়ে যান, যাতে পরীক্ষক নোটবুক খুলে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারেন।
সচরাচর প্রশ্ন
এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষা কবে হয়?
লিখিত পরীক্ষার পর আলাদা সময়সূচিতে হয়। তারিখ বোর্ড আলাদাভাবে ঘোষণা করে, নিজের কেন্দ্র ও স্কুলের নোটিশ মিলিয়ে নিন। এই লেখায় কোনো ২০২৭ সালের ব্যবহারিক তারিখ দেওয়া হয়নি।
ব্যবহারিক পরীক্ষায় লটারি কীভাবে হয়, কয়বার সুযোগ পাওয়া যায়?
শিক্ষকদের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে পরীক্ষণ বণ্টন করা হয়। একজন পরীক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুইবার লটারির সুযোগ পান।
ব্যবহারিক খাতার মলাটে কী লিখতে হবে, নাম লেখা যাবে কি?
মলাটে শুধু রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখতে হবে। নিজের নাম বা বিদ্যালয়ের নাম লেখার দরকার নেই।
ব্যবহারিক পরীক্ষার দিন কী কী সঙ্গে নিতে হবে?
প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, কলম, জ্যামিতি বক্স, স্কেল, ক্যালকুলেটর, ব্যবহারিক খাতা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ডিসেকটিং বক্স।
ভাইভায় কী ধরনের প্রশ্ন করা হয়?
পরীক্ষণের ওপর জ্ঞান যাচাইয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তবে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত যেকোনো প্রশ্ন করা যাবে।
ব্যবহারিক পরীক্ষায় অনুপস্থিত হলে কী হবে?
কোনো বোর্ড সূত্র পাওয়া যায়নি, তাই বানানো নিয়ম লেখা যাবে না। দ্রুত নিজের স্কুল ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন এখানে: এসএসসি সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন ২০২৭। জিপিএ হিসাবের নিয়ম এখানে: এসএসসি জিপিএ গ্রেডিং পদ্ধতি।
এই লেখার তথ্য ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে যাচাই করা হয়েছে। বোর্ড নতুন বিজ্ঞপ্তি দিলে এই পাতার তথ্য আপডেট করা হবে। (বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী; চূড়ান্ত তথ্য নিজের স্কুল ও বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি থেকে মিলিয়ে নিন।)
