পাইওনিয়ার হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ

জনপ্রিয় লেখা

পলাশীর যুদ্ধ ১৭৫৭: কারণ, ঘটনা, বিশ্বাসঘাতকতা ও ফলাফল

সূচিপত্র

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ITNut Hosting

ফিচার ছবি: ইন্দ্রজিৎ দাস, CC BY-SA 4.0 (Wikimedia Commons)।

পলাশীর যুদ্ধ হয়েছিল ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে। এক পক্ষে ছিলেন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা, অন্য পক্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ। যুদ্ধ চলেছিল প্রায় আট ঘণ্টা, সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা, আর শেষে নবাবের পরাজয় হয়। এই লেখায় পুরো ঘটনাটি একটানা গল্পে বলা হলো, যাতে কারণ, ষড়যন্ত্র, যুদ্ধের দিনের ঘটনা আর ফলাফল এক জায়গায় পাওয়া যায়।

পলাশীর যুদ্ধ কী ছিল

পলাশীর যুদ্ধ ছিল বাংলার নবাব আর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে একদিনের যুদ্ধ, যা বাংলার শাসনক্ষমতা বদলে দেয়। ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে নদীয়া জেলার পলাশী গ্রামের আমবাগানে দুই বাহিনী মুখোমুখি হয়। নবাবের বাহিনী সংখ্যায় অনেক বড় ছিল, তবু নবাব হারলেন, কারণ তাঁর বাহিনীর বড় অংশ যুদ্ধই করেনি। এই যুদ্ধের পর কোম্পানি বাংলার শাসনে ঢুকে যায়, তাই পলাশীর যুদ্ধকে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের শুরু বলে ধরা হয়।

যুদ্ধটি বড় সামরিক লড়াই ছিল না। নবাবের পক্ষে যাঁরা লড়েছিলেন, তাঁরা বীরত্বের সঙ্গে লড়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে ছিল। তাই এই যুদ্ধকে সামরিক জয়ের চেয়ে রাজনৈতিক পরাজয় বলাই ঠিক, এই ব্যাখ্যা পরে বিস্তারিত আসছে। পরীক্ষায় এই যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন প্রায় প্রতি বছর আসে, তাই কারণ, ঘটনা আর ফলাফল একসঙ্গে জানা দরকার।

যুদ্ধের আগের বাংলা: বাণিজ্য থেকে ক্ষমতার দিকে

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে বাংলায় এসেছিল ব্যবসা করতে, কিন্তু ধাপে ধাপে ক্ষমতার দিকে এগোতে থাকে। ১৭১৭ সালে মুঘল সম্রাট ফররুখ সিয়ার কোম্পানিকে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য, কলকাতায় টাকশাল আর ৩৮টি গ্রাম কেনার অধিকার দেন। শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের ছাড়পত্রের নাম দস্তক, দস্তক থাকলে কোম্পানি শুল্ক না দিয়ে পণ্য আনতে পারত। নবাব মুর্শিদকুলী খান ফরমানের বাস্তবায়নে বাধা দেন, আর শেষে বার্ষিক তিন হাজার টাকার বিনিময়ে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের ব্যবস্থা হয়।

কোম্পানি এই ছাড়ের অপব্যবহার করতে থাকে। কোম্পানির কর্মচারীরা নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবসায়ও দস্তক ব্যবহার করতেন, ফলে নবাবের শুল্কের আয় কমে যেত। কোম্পানি কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে প্রাচীর তুলতে থাকে, নিজের সেনা রাখতে থাকে, আর নবাবের অবাধ্য প্রজাদের আশ্রয় দিতে থাকে। বাণিজ্যের ছাড় থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধ ধীরে ধীরে ক্ষমতার বিরোধে বদলে যায়।

সিরাজউদ্দৌলা নবাব হলেন: বিরোধের শুরু

সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালের এপ্রিলে বাংলার নবাব হন। নবাব হয়েই তিনি কোম্পানির কাছে তিনটি অভিযোগ জানান। প্রথম অভিযোগ, কোম্পানি অনুমতি ছাড়া ফোর্ট উইলিয়ামে প্রাচীর নির্মাণ ও সংস্কার করছে। দ্বিতীয় অভিযোগ, কোম্পানির কর্মচারীরা ব্যক্তিগত অবৈধ ব্যবসা করছেন আর দস্তকের অপব্যবহার করছেন। তৃতীয় অভিযোগ, কোম্পানি নবাবের অবাধ্য প্রজাদের আশ্রয় দিচ্ছে।

নবাব কৃষ্ণদাসকে ফেরত চান, কিন্তু কোম্পানি ফেরত দেয়নি। নবাবের দূত নারায়ণ সিংহ কলকাতায় অপমানিত হন। এরপর নবাব কাসিমবাজার কুঠি অবরোধ করেন, আর ১৭৫৬ সালের জুনে কলকাতা দখল করেন। এই ঘটনায় কোম্পানি নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে, আর দরবারের ভেতরে নবাবের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জমতে থাকে।

অন্ধকূপ হত্যা: বিতর্কিত ঘটনা

কলকাতা দখলের পর একটি ঘটনা নিয়ে বিতর্ক আছে, তার নাম অন্ধকূপ হত্যা। ইংরেজ কর্মকর্তা হলওয়েল দাবি করেন, ১৪৬ জন বন্দিকে একটি ছোট ঘরে আটকে রাখা হয়, পরদিন মাত্র ২৩ জন জীবিত ছিলেন। অন্য একটি সূত্রে ১২৩ জন মারা যান বলে লেখা আছে। ঘটনাটি সত্যি ঘটেছিল কিনা, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিতর্ক আছে।

এই লেখায় অন্ধকূপ হত্যার সংখ্যা হলওয়েলের দাবি হিসেবে লেখা হলো, নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে নয়। কোম্পানি এই ঘটনাকে নবাবের বিরুদ্ধে প্রচারের কাজে ব্যবহার করে, আর পরে নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে। সংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকায় এই ঘটনাকে সাবধানে পড়া উচিত, এক পক্ষের দাবিকে পুরো সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়।

আলিনগরের সন্ধি ও সন্ধি ভাঙা

সন্ধি মানে দুই পক্ষের চুক্তি, যাতে যুদ্ধ থেমে যায়। ১৭৫৭ সালের জানুয়ারিতে ক্লাইভ ও ওয়াটসন কলকাতা পুনরুদ্ধার করেন, আর সিরাজউদ্দৌলা সন্ধি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এই সন্ধির নাম আলিনগরের সন্ধি, কারণ কলকাতার তখনকার নাম ছিল আলিনগর। সন্ধিতে কোম্পানি তাদের হারানো অধিকার ফিরে পায়।

কিন্তু ইংরেজরা সন্ধির শর্ত অগ্রাহ্য করতে থাকে। সন্ধির পরও কোম্পানি নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যায়, আর দরবারের অসন্তুষ্ট লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। সন্ধি শান্তি আনেনি, বরং যুদ্ধের পথই খুলে দেয়, কারণ দুই পক্ষের কেউই আর পরস্পরকে বিশ্বাস করছিল না।

ষড়যন্ত্র: মীরজাফর ও দরবারের অসন্তোষ

কোম্পানি নবাবকে সরানোর পরিকল্পনা করে ফোর্ট সেন্ট জর্জ কাউন্সিলের নির্দেশনামা অনুযায়ী। ১৭৫৬ সালের ১৩ অক্টোবর এই নির্দেশনামা আসে, ১৭৫৭ সালের ৯ এপ্রিল স্ক্রেফটন চিঠি লেখেন, আর ২৩ এপ্রিল সিলেক্ট কমিটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনকে সরকারি নীতি হিসেবে নেয়। কলকাতায় ওয়াটস ও স্ক্রেফটন ষড়যন্ত্র গোছান, আর নবাবের সেনাপতি মীরজাফর, রায় দুর্লভ আর জগৎ শেঠদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

১৭৫৭ সালের ৫ জুন ওয়াটস লাল ও সাদা চুক্তিতে মীরজাফরের স্বাক্ষর নেন। লাল চুক্তি ছিল উমিচাঁদকে ধোঁকা দেওয়ার মিথ্যা চুক্তি, এটা বাংলাপিডিয়ায় স্পষ্ট আছে। চুক্তিতে মীরজাফরকে নবাব বানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, আর বদলে মীরজাফর যুদ্ধে কোম্পানিকে সাহায্য করার কথা দেন। ষড়যন্ত্রের এই জালই যুদ্ধের ফলাফল ঠিক করে দেয়, যুদ্ধের মাঠে যাওয়ার আগেই।

যুদ্ধের দিন: ২৩ জুন ১৭৫৭

তারিখ ও সময় ঘটনা
১৩ জুন ১৭৫৭ ক্লাইভ মুর্শিদাবাদ অভিমুখে যাত্রা করেন
১৯ জুন ১৭৫৭ ক্লাইভ কাটোয়া পৌঁছান
২১ জুন ১৭৫৭ সমর পরিষদ বসে, যুদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়
২২ জুন ১৭৫৭ সকালে পলাশীর পথে যাত্রা, মধ্যরাতের পর পৌঁছান
২৩ জুন সকাল আটটা পলাশীর আমবাগানে যুদ্ধ শুরু
২৩ জুন বেলা তিনটা কামানের গোলায় মীর মদনের মৃত্যু, মীরজাফরের পরামর্শে যুদ্ধ বন্ধ
২৩ জুন বিকেল পাঁচটা যুদ্ধ শেষ, নবাবের পরাজয়

২৩ জুন সকাল আটটায় যুদ্ধ শুরু হয়। নবাবের পক্ষে মীর মদন, মোহন লাল, খাজা আবদুল হাদী খান আর নব সিং হাজারী বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। কিন্তু মীরজাফর, ইয়ার লতিফ আর রায় দুর্লভের অধীনে নবাবের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ সেনা নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে থাকে, তাঁরা যুদ্ধে অংশ নেননি। পাঠ্যবইয়ের বিবরণে আছে, বৃষ্টিতে নবাবের গোলাবারুদ ভিজে যায়, কিন্তু ইংরেজদের বারুদ সুরক্ষিত ছিল।

বেলা তিনটায় কামানের গোলায় মীর মদনের মৃত্যু হয়। মীর মদনের মৃত্যুতে নবাব ভেঙে পড়েন, আর মীরজাফরের পরামর্শে যুদ্ধ বন্ধ করেন। যুদ্ধ বন্ধ হতেই ইংরেজরা নতুন আক্রমণ করে, আর বিকেল পাঁচটায় যুদ্ধ শেষ হয়। নবাব যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যান, আর কোম্পানির জয় হয়।

কেন নবাব হারলেন: রাজনৈতিক পরাজয়, সামরিক নয়

বিষয় নবাবের পক্ষ কোম্পানির পক্ষ
সেনাপতি সিরাজউদ্দৌলা রবার্ট ক্লাইভ
সেনাসংখ্যা প্রায় ৫০,০০০, যুদ্ধে অংশ নেয় প্রায় ৫,০০০ প্রায় ৩,০০০
কামান প্রায় ৫০টি ৯টি
যুদ্ধে যাঁরা লড়েন মীর মদন, মোহন লাল, খাজা আবদুল হাদী খান, নব সিং হাজারী ক্লাইভের সেনারা
ফলাফল পরাজয় জয়

টেবিল দেখলেই বোঝা যায়, সেনাসংখ্যা আর কামানে নবাব এগিয়ে ছিলেন, তবু তিনি হারলেন। বাংলাপিডিয়ার সিদ্ধান্ত হলো, নবাবের পরাজয় ছিল রাজনৈতিক, সামরিক নয়। এই মত কে.এম মোহসীন ও সুশীল চৌধুরীর, লেখায় এটা মত হিসেবে লেখা হলো। পরাজয়ের আসল কারণ ছিল দরবারের ষড়যন্ত্র, মীরজাফরের নিষ্ক্রিয়তা, আর যুদ্ধের মাঝে যুদ্ধ থামানোর পরামর্শ।

মীর মদনের মৃত্যুর পর নবাবের পক্ষে নেতৃত্ব ভেঙে যায়। মীরজাফর তখন নবাবকে যুদ্ধ থামানোর পরামর্শ দেন, আর নবাব সেই পরামর্শ মেনে নেন। যুদ্ধ থেমে গেলে ইংরেজরা আবার আক্রমণ করে, আর নবাবের বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তাই এই পরাজয়কে সেনাবাহিনীর দুর্বলতা দিয়ে বোঝা যাবে না, বোঝা যাবে রাজনীতির হিসেবে।

যুদ্ধের পর কী হলো

যুদ্ধের পর সিরাজউদ্দৌলা মুর্শিদাবাদ থেকে পালিয়ে যান। পাঠ্যবই ও গাইড সূত্রে লেখা আছে, ২ জুলাই বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়, মিরনের নির্দেশে মহম্মদ বেগ তাঁকে হত্যা করেন। এই অংশ বাংলাপিডিয়ার পড়া নিবন্ধে নেই, তাই এটা মাধ্যমিক সূত্রের ভিত্তিতে লেখা হলো। মীরজাফর বাংলার নবাব হন, কিন্তু ক্ষমতা নামে তাঁর ছিল, সিদ্ধান্ত নিত কোম্পানি। এমন নবাবকে পুতুল নবাব বলা হয়, কারণ পুতুলের মতো তাঁকে নাড়ানো যেত।

একটি মাধ্যমিক সূত্রে লেখা আছে, কোম্পানি ২৪ পরগনার জমিদারি আর দস্তকের বৈধ অধিকার পায়। এই তথ্যও বাংলাপিডিয়ার পড়া নিবন্ধে নেই, তাই মাধ্যমিক সূত্রের ভিত্তিতে লেখা হলো। যুদ্ধের পর কোম্পানি বাংলার শাসনে ধীরে ধীরে ঢুকে যায়, আর নবাবের পদটি শুধু নামেই থেকে যায়।

পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল ও গুরুত্ব

রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সবচেয়ে বড়। কোম্পানি বাংলার শাসনে ঢুকে যায়, মীরজাফর পুতুল নবাব হন, আর নবাবের স্বাধীন ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়। অর্থনৈতিক ফলাফলও গভীর ছিল, কোম্পানির বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়তে থাকে, আর বাংলার সম্পদ কোম্পানির হাতে যেতে থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ ভারতে ব্রিটিশ শাসনের পথ খুলে দেয়।

বক্সারের যুদ্ধে ১৭৬৪ সালে কোম্পানির শাসন পাকাপোক্ত হয়, এই এক লাইনেই বক্সারের কথা শেষ। ব্রিটিশ শাসনের এই ধারাবাহিকতায় ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আসে, সেই ইতিহাস এখানে: বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫: কারণ, প্রতিক্রিয়া ও রদ। পলাশীর যুদ্ধ তাই শুধু একদিনের যুদ্ধ নয়, বাংলার ইতিহাসের মোড় ঘোরানো ঘটনা।

ভুল ধারণা দূর করা

প্রথম ভুল ধারণা, পলাশী বড় যুদ্ধ ছিল। আসলে যুদ্ধ চলেছিল প্রায় আট ঘণ্টা, আর নবাবের বাহিনীর বড় অংশ যুদ্ধই করেনি। দ্বিতীয় ভুল ধারণা, নবাবের সেনা কম ছিল বলে তিনি হারলেন। আসলে সেনাসংখ্যায় নবাব এগিয়ে ছিলেন, পরাজয়ের কারণ ছিল রাজনৈতিক। তৃতীয় ভুল ধারণা, হতাহত আর কামানের সংখ্যা নিশ্চিত। আসলে সূত্রে সংখ্যা মেলে না, তাই এই লেখায় সব সংখ্যায় প্রায় লেখা হয়েছে। চতুর্থ ভুল ধারণা, অন্ধকূপ হত্যা নিশ্চিত ঘটনা। আসলে ঘটনাটি বিতর্কিত, সংখ্যা হলওয়েলের দাবি।

সচরাচর প্রশ্ন

পলাশীর যুদ্ধ কবে হয়?
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে।

পলাশীর যুদ্ধ কেন হয়েছিল?
দস্তকের অপব্যবহার, ফোর্ট উইলিয়ামের প্রাচীর, নবাবের অবাধ্য প্রজাদের আশ্রয় দেওয়া, আর দরবারের ষড়যন্ত্র, এই বিরোধ যুদ্ধে গড়ায়। কোম্পানি বাণিজ্য থেকে ক্ষমতার দিকে এগোচ্ছিল, আর নবাব তাতে বাধা দিয়েছিলেন।

মীরজাফর কে ছিলেন, তিনি কী করেছিলেন?
মীরজাফর ছিলেন নবাবের সেনাপতি। কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে তিনি যুদ্ধে নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তাঁর অধীনে সেনারা যুদ্ধ করেনি। যুদ্ধের পর তিনি বাংলার নবাব হন, কিন্তু ক্ষমতা ছিল কোম্পানির হাতে।

অন্ধকূপ হত্যা কী?
হলওয়েলের দাবি অনুযায়ী কলকাতা দখলের পর ১৪৬ জন বন্দিকে একটি ছোট ঘরে আটকে রাখা হয়, পরদিন ২৩ জন জীবিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিতর্ক আছে, তাই সংখ্যা নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে ধরা যায় না।

পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল কী?
কোম্পানি বাংলার শাসনে ঢুকে যায়, মীরজাফর পুতুল নবাব হন, আর নবাবের স্বাধীন ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ ভারতে ব্রিটিশ শাসনের পথ খুলে দেয়।

পলাশীর যুদ্ধ কতক্ষণ স্থায়ী ছিল?
প্রায় আট ঘণ্টা, সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা।

মূল তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়ার পলাশীর যুদ্ধ নিবন্ধ: পলাশীর যুদ্ধ, বাংলাপিডিয়া।

এই লেখার তথ্য ৬ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাপিডিয়ার পলাশীর যুদ্ধ নিবন্ধের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে। সংখ্যায় মতভেদ থাকলে লেখায় প্রায় লেখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ExonHost

Jante Hobe

জানতে হবে একটি বাংলা জ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট। এখানে দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রশ্নের সহজ, স্পষ্ট ও ব্যবহারিক উত্তর দেওয়া হয়, যাতে পাঠকেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং আরও ভালো জীবন গড়তে পারেন।

https://jantehobe.com

সাম্প্রতিক লেখা

বিজ্ঞাপন
ITNut

আলোচিত লেখা

বিজ্ঞাপন
ExonHost

আরও পড়ুন

পলাশীর যুদ্ধ ১৭৫৭: কারণ, ঘটনা, বিশ্বাসঘাতকতা ও ফলাফল

ভালো লাগলে শেয়ার করুনফিচার ছবি: ইন্দ্রজিৎ দাস, CC BY-SA 4.0 (Wikimedia Commons)। পলাশীর যুদ্ধ হয়েছিল ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে। এক পক্ষে ছিলেন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা, অন্য পক্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ। যুদ্ধ চলেছিল প্রায় আট ঘণ্টা, সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা, আর শেষে নবাবের পরাজয় হয়। এই লেখায়...

এসএসসি বাংলা প্রস্তুতির কৌশল

ভালো লাগলে শেয়ার করুন বাংলা নিয়ে ভয় থাকে অনেক শিক্ষার্থীর, কারণ বাংলা ১ম পত্রে গদ্য, পদ্য, সহপাঠ, সৃজনশীল প্রশ্ন আর বহুনির্বাচনি, আর ২য় পত্রে ব্যাকরণ আর নির্মিতি, সব মিলিয়ে পড়া অনেক মনে হয়। এই লেখাটি এসএসসি বাংলা প্রস্তুতির কৌশলের চিরসবুজ গাইড, শুধু সাজেশন তালিকা নয়। কোনো ফাঁস হওয়া প্রশ্ন, কোনো শতভাগ কমনের দাবি, কোনো ২০২৭...

এসএসসি রেজাল্ট ২০২৭: তারিখ, সব বোর্ডের রেজাল্ট, চেকের নিয়ম ও পরের ধাপ

ভালো লাগলে শেয়ার করুনএসএসসি রেজাল্ট ২০২৭ এর তারিখ বোর্ড এখনো ঘোষণা করেনি। এই লেখায় তারিখের প্রশ্ন, সব বোর্ডের রেজাল্ট, চেকের নিয়ম, মার্কশিট, জিপিএ, বোর্ড চ্যালেঞ্জ আর কলেজ ভর্তি, সবকিছু এক জায়গায় পাবেন। ইংরেজিতে SSC Result 2027 Bangladesh লিখে খুঁজলেও বাংলাদেশের রেজাল্টের পাতাই পাওয়া যায়। এই লেখাটি ২০২৭ সালের রেজাল্টের হাব, রেজাল্ট নিয়ে যেসব প্রশ্ন সবার...
ক্লাসে বই পড়ছে ইউনিফর্ম পরা দুই কিশোর শিক্ষার্থী

এসএসসি ইংরেজি প্রস্তুতির কৌশল

ভালো লাগলে শেয়ার করুনইংরেজিতে ভালো করার মূলমন্ত্র একটাই: প্রতিদিন একটু করে পড়া, লেখা, আর গ্রামার অভ্যাস করা। একদিনে অনেক পড়ে সপ্তাহজুড়ে না পড়লে ইংরেজি এগোয় না। এই লেখাটি এসএসসি ইংরেজি প্রস্তুতির কৌশলের চিরসবুজ গাইড, শুধু সাজেশন তালিকা নয়। কোনো ফাঁস হওয়া প্রশ্ন, কোনো শতভাগ কমনের দাবি, কোনো ২০২৭ সালের পরীক্ষার তারিখ এই লেখায় নেই। এই...
স্কুল ডেস্কে খাতায় গণিতের সমীকরণ লিখছে শিক্ষার্থী

এসএসসি গণিত প্রস্তুতির কৌশল

ভালো লাগলে শেয়ার করুনগণিত মুখস্থের বিষয় নয়, অভ্যাসের বিষয়। যে শিক্ষার্থী প্রতিদিন অঙ্ক কষে, সে পরীক্ষার হলে নতুন প্রশ্ন দেখেও ঘাবড়ায় না। এই লেখাটি এসএসসি গণিত প্রস্তুতির কৌশলের চিরসবুজ গাইড, শুধু সাজেশন তালিকা নয়। কোনো ফাঁস হওয়া প্রশ্ন, কোনো শতভাগ কমনের দাবি, কোনো ২০২৭ সালের পরীক্ষার তারিখ এই লেখায় নেই। এই পাতাটি বোর্ডের অফিশিয়াল পেজ...

জানতে হবে একটি বাংলা জ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট। এখানে দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রশ্নের সহজ, স্পষ্ট ও ব্যবহারিক উত্তর দেওয়া হয়।

অবশ্যই পড়ুন

© ২০২৬ জানতে হবে (jantehobe.com) — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট: Raozan IT