বিজ্ঞাপন
বাংলা নিয়ে ভয় থাকে অনেক শিক্ষার্থীর, কারণ বাংলা ১ম পত্রে গদ্য, পদ্য, সহপাঠ, সৃজনশীল প্রশ্ন আর বহুনির্বাচনি, আর ২য় পত্রে ব্যাকরণ আর নির্মিতি, সব মিলিয়ে পড়া অনেক মনে হয়। এই লেখাটি এসএসসি বাংলা প্রস্তুতির কৌশলের চিরসবুজ গাইড, শুধু সাজেশন তালিকা নয়। কোনো ফাঁস হওয়া প্রশ্ন, কোনো শতভাগ কমনের দাবি, কোনো ২০২৭ সালের পরীক্ষার তারিখ এই লেখায় নেই। এই পাতাটি বোর্ডের অফিশিয়াল পেজ নয়।
সতর্কতা: বোর্ড বা এনসিটিবির মূল নথি এই রিসার্চে সরাসরি পড়া যায়নি। নিচের কাঠামো একাধিক ২০২৬ সালের মানবণ্টন পেজ আর সাইটের নিজের সিলেবাস লেখার ভিত্তিতে দেওয়া হলো। ১ম পত্রের নতুন কাঠামোকে মূল ধরে পুরোনো কাঠামোকে ভুল ধারণা হিসেবে পরিষ্কার করা হলো, কিন্তু কোনো কাঠামোকে ২০২৭ সালের নিশ্চিত কাঠামো বলে দাবি করা হলো না। নিজের স্কুল ও বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন।
দুই পত্রের কাঠামো একনজরে
| পত্র | অংশ | নম্বর |
|---|---|---|
| ১ম পত্র | সৃজনশীল প্রশ্ন (৫টি) | ৫০ |
| ১ম পত্র | বর্ণনামূলক বা সংক্ষিপ্ত উত্তর (১০টি) | ২০ |
| ১ম পত্র | বহুনির্বাচনি (৩০টি) | ৩০ |
| ২য় পত্র | বহুনির্বাচনি, ব্যাকরণ (৩০টি) | ৩০ |
| ২য় পত্র | নির্মিতি, রচনামূলক | ৭০ |
পুরোনো কাঠামোতে সৃজনশীল প্রশ্নে ৭০ আর বহুনির্বাচনিতে ৩০ নম্বর ছিল। অনেক সাজেশন পেজ এখনো সেই পুরোনো কাঠামো লেখে, তাই পুরোনো কাঠামো দেখে প্রস্তুতি নিলে বর্ণনামূলক অংশের ২০ নম্বর বাদ পড়ে যায়। নতুন কাঠামোতে ১ম পত্রের মোট ১০০ নম্বর তিন ভাগে ভাগ হয়, আর ২য় পত্রের মোট ১০০ নম্বর দুই ভাগে ভাগ হয়। পূর্ণ মানবণ্টন এই লেখায় আবার ছাপানো হলো না, কারণ সিলেবাস লেখায় সেটা আছেই।
১ম পত্র: গদ্য পড়ার কৌশল
গদ্য পড়ুন চার ধাপে। প্রথম ধাপে পুরো গদ্যটি একবার পড়ুন, থেমে থেমে নয়, একটানা পড়ুন। দ্বিতীয় ধাপে পাঠ পরিচিতি পড়ুন, কারণ পাঠ পরিচিতি বলে গদ্যটি কেন লেখা হয়েছে আর লেখকের প্রেক্ষাপট কী। তৃতীয় ধাপে শব্দার্থ ও টীকা পড়ুন, কারণ বহুনির্বাচনির অনেক প্রশ্ন শব্দার্থ আর টীকা থেকে আসে। চতুর্থ ধাপে মূলভাব আর চরিত্রের তালিকা নিজের খাতায় লিখুন।
চরিত্রের তালিকায় লিখুন প্রতিটি চরিত্র কে, তার কাজ কী, আর গল্পে তার ভূমিকা কী। সৃজনশীল প্রশ্নে চরিত্রের ভূমিকা জানা থাকলে উদ্দীপক মেলানো সহজ হয়। গদ্যের মূলভাব এক বাক্যে লিখুন, আর সেই মূলভাবের সঙ্গে মেলে এমন একটি উদাহরণ গদ্য থেকে খুঁজে রাখুন। গদ্য মুখস্থ করবেন না, মূলভাব বুঝে পড়ুন, কারণ প্রশ্নে গদ্যের ভাব নতুন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে বলা হয়।
১ম পত্র: কবিতা পড়ার কৌশল
কবিতা পড়ুন তিন ধাপে। প্রথম ধাপে কবিতাটি আবৃত্তির মতো করে পড়ুন, তারপর মূলভাব এক বাক্যে লিখুন। দ্বিতীয় ধাপে প্রতিটি চরণের অর্থ নিজের ভাষায় লিখুন, কারণ সৃজনশীল প্রশ্নে চরণের ভাব জানতে চাওয়া হয়। তৃতীয় ধাপে কবির প্রেক্ষাপট জানুন, যেমন কবি কোন সময়ে লিখেছেন আর কী নিয়ে লিখেছেন, কারণ প্রেক্ষাপট জানলে কবিতার ভাব বোঝা সহজ হয়।
কবিতা মুখস্থ না করে ভাব বুঝে পড়ুন, কারণ প্রশ্নে নতুন চরণের ভাব জানতে চাওয়া হয়, মুখস্থ লাইন চাওয়া হয় না। কঠিন শব্দের অর্থ খাতায় লিখুন, আর সেই শব্দ দিয়ে নিজে একটি বাক্য বানান। কবিতার মূলভাবের সঙ্গে মেলে এমন একটি উদাহরণ নিজের জীবন থেকে ভাবুন, তাহলে ভাব মনে থাকে।
সহপাঠ: উপন্যাস ও নাটক পড়ার কৌশল
সহপাঠ উপন্যাসের নাম নিয়ে বিভ্রান্তি আছে, সেটা খোলাখুলি বলা দরকার। অনেক পুরোনো সাজেশন পেজ এখনো কাকতাড়ুয়া লেখে, আবার সাইটের সিলেবাস লেখায় বলা আছে ২০২৬ সাল থেকে সহপাঠ উপন্যাস হুমায়ূন আহমেদের ১৯৭১, আগে ছিল সেলিনা হোসেনের কাকতাড়ুয়া। নাটক বহিপীর অপরিবর্তিত আছে। কোন উপন্যাস পড়বেন, সেটা নিজের পাঠ্যবই মিলিয়ে ঠিক করুন, কোনো একটি নামকে ২০২৭ সালের নিশ্চিত তথ্য বলে ধরে নেবেন না।
উপন্যাস পড়ার সময় চরিত্রগুলোর সম্পর্ক ছক আকারে লিখুন, যেমন কে কার সঙ্গে কী সম্পর্কে আছে। ঘটনার ক্রম সময় ধরে লিখুন, কারণ সৃজনশীল প্রশ্নে ঘটনার ধারাবাহিকতা জানতে চাওয়া হয়। নাটকের ক্ষেত্রে দৃশ্যের ক্রম আর সংলাপের মূল কথা লিখুন। সহপাঠ থেকে সৃজনশীল প্রশ্নে ঘটনা মেলাতে বলা হয়, তাই চরিত্র আর ঘটনার ছক থাকলে উত্তর লেখা সহজ হয়।

সৃজনশীল প্রশ্নের ক খ গ ঘ উত্তর লেখার কৌশল
সৃজনশীল প্রশ্নে একটি উদ্দীপক থাকে, উদ্দীপক মানে ছোট গল্প বা পরিস্থিতি, আর সেই উদ্দীপকের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের গদ্য, পদ্য বা সহপাঠ মিলিয়ে উত্তর লিখতে হয়। ক নং প্রশ্নের উত্তর লিখুন একটি পূর্ণ বাক্যে, সুনির্দিষ্ট করে, অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেবেন না। খ নং প্রশ্নের উত্তর লিখুন দুই প্যারায়, প্রথম প্যারায় মূলভাব, দ্বিতীয় প্যারায় ব্যাখ্যা, শুধু কাহিনী বর্ণনা করবেন না।
গ নং প্রশ্নের উত্তর লিখুন তিন প্যারায়, প্রথম প্যারায় মূল উত্তর, দ্বিতীয় প্যারায় উদ্দীপক, তৃতীয় প্যারায় পাঠ্যের সঙ্গে মিল বা অমিলের প্রমাণ। ঘ নং প্রশ্নের উত্তর লিখুন চার প্যারায়, প্রথমে মূল ধারণা, তারপর উদ্দীপক, তারপর পাঠ্য, শেষে নিজের যুক্তিসহ মূল্যায়ন। এই প্যারা কাঠামো একাধিক শিক্ষক ও গাইডের পরামর্শ, বোর্ডের ঘোষিত নিয়ম নয়, তাই ছক হিসেবে নিন, নিয়ম হিসেবে নয়।
সময় ভাগের পরামর্শ হলো একটি সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য প্রায় ২০ মিনিট, ক ১ মিনিট, খ ৩ মিনিট, গ ৬ মিনিট, ঘ ১০ মিনিট, এটাও গাইডের পরামর্শ, বোর্ডের নিয়ম নয়। গদ্যে চরিত্র মেলান, পদ্যে চরণের ভাব মেলান, সহপাঠে ঘটনা মেলান, এই তিন প্রয়োগ আলাদা করে অভ্যাস করুন। সাধারণ ভুলগুলো এড়ান: উদ্দীপক হুবহু তুলে দেওয়া, শুধু কাহিনী বলা, প্রশ্নের বাইরে লেখা, আর বানান ভুল।
১ম পত্র: বহুনির্বাচনি প্রস্তুতি
বহুনির্বাচনিতে ৩০টি প্রশ্নে ৩০ নম্বর থাকে। চর্চা করুন পাঁচ ধাপে: অধ্যায় পড়া, পাঠ পরিচিতি পড়া, শব্দার্থ পড়া, টীকা পড়া, তারপর প্রশ্ন চর্চা করা। গাইড পেজ অনুযায়ী গদ্য থেকে ১৫টি আর পদ্য থেকে ১৫টি প্রশ্ন আসে, এই ভাগ মাথায় রেখে অধ্যায় ধরে চর্চা করুন। এই ভাগ গাইড পেজের ভিত্তিতে লেখা হলো, বোর্ডের মূল নথি থেকে নয়।
ভুল খাতা বানান তিন কলামে: ভুল প্রশ্ন, সঠিক উত্তর, ভুলের কারণ। প্রতিটি ভুল প্রশ্নের কারণ লিখুন, কারণ একই কারণে বারবার ভুল হয়। গতি বাড়ানোর নিয়ম: সহজ প্রশ্ন আগে করুন, কঠিন প্রশ্নে আটকে থাকবেন না, শেষে ফিরে দেখুন। ভুল উত্তরে নম্বর কাটা যায় কি না, সে বিষয়ে বোর্ড সূত্র পাওয়া যায়নি, তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত দাবি করা হলো না।
২য় পত্র: ব্যাকরণ প্রস্তুতির ধাপ
ব্যাকরণ আগে না নির্মিতি আগে, এই প্রশ্নের জবাব হলো ব্যাকরণ আগে শুরু করুন, কারণ ব্যাকরণের বহুনির্বাচনিতে ৩০ নম্বর আছে আর নির্মিতি লেখার সময়ও ব্যাকরণ কাজে লাগে। ব্যাকরণ শিখুন তিন ধাপে: নিয়ম বোঝা, উদাহরণ দিয়ে চর্চা করা, ভুল খাতায় তোলা। নিয়ম মুখস্থ করে অভ্যাস না করলে পরীক্ষায় নিয়ম প্রয়োগ করা যায় না।
ব্যাকরণের অংশগুলো হলো ধ্বনি ও বর্ণ, সন্ধি, শব্দ ও পদ গঠন, উপসর্গ ও প্রত্যয়, সমাস, কারক ও বিভক্তি, বাক্য রূপান্তর, বাচ্য, বাগধারা ও বাক্য সংকোচন, প্রবাদ প্রবচন। সন্ধি, সমাস আর কারক মনে রাখার উপায়: নিয়ম ছক আকারে লিখুন, প্রতিটি নিয়মের দুটি করে উদাহরণ লিখুন, আর প্রতিদিন ১০টি করে প্রশ্নের অভ্যাস করুন। প্রতিটি ব্যাকরণ বিষয় শেষে নিজে লেখা অনুচ্ছেদে সেই নিয়ম প্রয়োগ করে যাচাই করুন।
২য় পত্র: নির্মিতি লেখার ছক
| নির্মিতি আইটেম | নম্বর |
|---|---|
| অনুচ্ছেদ | ১০ |
| পত্র বা দরখাস্ত বা ইমেইল | ১০ |
| সারাংশ বা সারমর্ম | ১০ |
| ভাবসম্প্রসারণ | ১০ |
| প্রতিবেদন | ১০ |
| প্রবন্ধ | ২০ |
অনুচ্ছেদ লিখুন একটি অনুচ্ছেদে, ভেঙে ভেঙে নয়, মূলভাব ধরে লিখুন। পত্র বা দরখাস্তে ঠিকানা, বিষয় আর বিন্যাস ঠিক রাখুন। সারাংশ বা সারমর্মে মূলভাব নিজের ভাষায় লিখুন, নিজের মত যোগ করবেন না। সারাংশ মানে গদ্যের মূলভাব সংক্ষেপে লেখা, আর সারমর্ম মানে কবিতার মূলভাব সংক্ষেপে লেখা। ভাবসম্প্রসারণে তিন ভাগ রাখুন: মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব, মন্তব্য। ভাবসম্প্রসারণের দৈর্ঘ্য নিয়ে সূত্রে মতভেদ আছে, তাই নির্দিষ্ট শব্দসংখ্যা দাবি করা হলো না।
প্রতিবেদনে শিরোনাম, স্থান ও তারিখ, আর তথ্য ধরে লেখা রাখুন। প্রবন্ধে তিন ভাগ রাখুন: ভূমিকা, মূল অংশ, উপসংহার। একটি বদলের কথা খোলাখুলি বলা দরকার: ২০২৬ সালের আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তির প্রতিবেদন অনুযায়ী রচনামূলক অংশ থেকে ১০ নম্বরের অনুবাদ বাদ দিয়ে প্রতিবেদন যুক্ত করা হয়েছে। একটি পুরোনো পেজে এখনো অনুবাদ লেখা আছে, তাই বর্তমান বছরের বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন, কারণ ২০২৭ সালের কাঠামো নিশ্চিত বলে দাবি করা হলো না।
বানান ও হাতের লেখা: নম্বর বাঁচানোর অভ্যাস
বানান ভুল হলে লিখিত অংশে নম্বর কাটা যায়, বিশেষ করে সৃজনশীল আর নির্মিতি উত্তরে। প্রমিত বানানের মূল নিয়ম শিখুন, আর বারবার ভুল হওয়া শব্দের নিজের তালিকা বানান। লেখার সময় বানান মিলিয়ে দেখুন, আর শেষে পুরো উত্তর আবার পড়ুন। নিজের তালিকায় লিখুন শব্দ, সঠিক বানান, আর ভুলের কারণ, তাহলে একই ভুল বারবার হয় না।
হাতের লেখা পরিষ্কার রাখুন, কারণ অস্পষ্ট লেখা পরীক্ষক পড়তে পারেন না। লাইন ফাঁকা রেখে লিখুন, যাতে সংশোধনের জায়গা থাকে। ভুল হলে কেটে আবার লিখুন, হোয়াইটনার ব্যবহার করবেন না। প্রতিদিন লেখার অভ্যাসে বানান আর হাতের লেখা দুটোই যাচাই করুন, আলাদা সময় লাগবে না।
মুখস্থ বনাম বোঝা: কোনটা কোথায় কাজ করে
বোঝা কাজ করে সৃজনশীল প্রশ্নে, কারণ সেখানে উদ্দীপক মেলাতে হয়, মুখস্থ উত্তর কাজে লাগে না। মুখস্থ কাজ করে সংজ্ঞা, শব্দার্থ, কবিতার চরণ, আর ব্যাকরণের নিয়মে, কারণ এগুলো হুবহু মনে রাখতে হয়। ভুল হয় যখন শিক্ষার্থী সৃজনশীল উত্তর মুখস্থ করে, আর গদ্যের মূলভাব না বুঝে শুধু সারাংশ মুখস্থ করে।
নিয়ম হলো প্রথমে বুঝুন, তারপর যেটুকু মুখস্থ দরকার, সেটুকু মুখস্থ করুন। গদ্য বুঝে পড়ুন, তারপর শব্দার্থ মুখস্থ করুন। কবিতার ভাব বুঝুন, তারপর প্রয়োজনীয় চরণ মুখস্থ করুন। ব্যাকরণের নিয়ম বুঝুন, তারপর উদাহরণ মুখস্থ করুন। বোঝা ছাড়া মুখস্থ টেকে না, আর মুখস্থ ছাড়া বোঝা পরীক্ষায় লেখা যায় না।
বাংলা উত্তরে যেসব ভুলে নম্বর কাটা যায়
প্রথম ভুল: উদ্দীপক হুবহু তুলে দেওয়া। দ্বিতীয় ভুল: শুধু কাহিনী বলা, প্রশ্নের উত্তর না লেখা। তৃতীয় ভুল: প্রশ্নের বাইরে লেখা। চতুর্থ ভুল: বানান ভুল। পঞ্চম ভুল: কবিতার চরণের ভাব না বুঝে মুখস্থ লাইন লেখা। ষষ্ঠ ভুল: সহপাঠের চরিত্র গুলিয়ে ফেলা। সপ্তম ভুল: নির্মিতিতে ছক না মানা, যেমন অনুচ্ছেদ ভেঙে লেখা বা পত্রে ঠিকানা না দেওয়া। অষ্টম ভুল: অপ্রয়োজনীয় লম্বা ভূমিকা লেখা, যাতে মূল উত্তরের সময় কমে যায়।
কিছু গেলে কী করবেন: দুর্বল অংশ সামলানোর উপায়
একটি অধ্যায় দুর্বল থাকলে তার শব্দার্থ আর পাঠ পরিচিতি পড়ে অন্তত বহুনির্বাচনির নম্বর তুলুন। ব্যাকরণ দুর্বল থাকলে নির্মিতি আগে শক্ত করুন, কারণ নির্মিতিতে ৭০ নম্বর আছে। সহপাঠ দুর্বল থাকলে চরিত্রের ছক আর ঘটনার ক্রম পড়ুন, পুরো উপন্যাস আবার পড়ার সময় না থাকলে সারাংশ দিয়ে মূল ঘটনা ধরুন।
সময় কম থাকলে যে অংশে নম্বর বেশি, সেই অংশ আগে করুন, কম নম্বরের অংশ পরে। ভুল খাতা দেখে বারবার ভুল হওয়া জায়গাগুলো শেষ সপ্তাহে আবার চর্চা করুন। একটি অংশ একদম বাদ দেবেন না, কারণ প্রতিটি অংশেই কিছু নম্বর তোলা যায়, আর ফাঁকা রাখা অংশে নম্বর আসে না।
সপ্তাহভিত্তিক ও দৈনিক অনুশীলন ছক
প্রথম সপ্তাহে ১ম পত্রের গদ্য আর পদ্য পড়ুন, প্রতিদিন একটি গদ্য আর একটি কবিতা। দ্বিতীয় সপ্তাহে সহপাঠ আর সৃজনশীল উত্তরের চর্চা করুন, প্রতিদিন একটি সৃজনশীল প্রশ্ন লিখুন। তৃতীয় সপ্তাহে ব্যাকরণের নিয়ম ধরে চর্চা করুন, প্রতিদিন একটি ব্যাকরণ বিষয়। চতুর্থ সপ্তাহে নির্মিতি লিখুন, প্রতিদিন একটি নির্মিতি আইটেম।
প্রতিদিন বাংলার জন্য ৬০ থেকে ৯০ মিনিট রাখুন, আর সপ্তাহ শেষে ভুল খাতা মিলিয়ে দেখুন। দৈনিক ছক হলো পড়া ৩০ মিনিট, লেখার অভ্যাস ৩০ মিনিট, বহুনির্বাচনি চর্চা ১৫ মিনিট। এই ছক শুধু বাংলার অনুশীলনের ছক, পরীক্ষার শেষ দিনগুলোর সাধারণ রুটিন এখানে লেখা হলো না।
সচরাচর প্রশ্ন
বাংলা ১ম পত্রে ভালো নম্বর পাব কীভাবে?
গদ্য ও পদ্যের মূলভাব বুঝে পড়ুন, সৃজনশীল উত্তরের ক খ গ ঘ ছক মেনে লিখুন, আর বহুনির্বাচনির জন্য শব্দার্থ ও টীকা চর্চা করুন।
গদ্য না পদ্য, কোনটা আগে পড়ব?
যেটাতে আপনি দুর্বল, সেটা আগে পড়ুন। তবে গদ্য দিয়ে শুরু করলে মূলভাব ধরার অভ্যাস হয়, তারপর পদ্য সহজ মনে হয়।
সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর কত লম্বা লিখব?
ক এক বাক্যে, খ দুই প্যারায়, গ তিন প্যারায়, ঘ চার প্যারায় লিখুন, এই ছক শিক্ষক ও গাইডের পরামর্শ, বোর্ডের নিয়ম নয়।
সহপাঠ উপন্যাস কোনটা পড়ব, কাকতাড়ুয়া না ১৯৭১?
নিজের পাঠ্যবই মিলিয়ে ঠিক করুন। অনেক পুরোনো পেজ এখনো কাকতাড়ুয়া লেখে, আর সিলেবাস লেখায় ২০২৬ সাল থেকে ১৯৭১ বলা আছে। কোনো একটিকে ২০২৭ সালের নিশ্চিত তথ্য বলে ধরে নেবেন না।
বাংলা ২য় পত্রে ব্যাকরণ আগে না নির্মিতি আগে?
ব্যাকরণ আগে শুরু করুন, কারণ ব্যাকরণের বহুনির্বাচনিতে ৩০ নম্বর আছে আর নির্মিতি লেখার সময়ও ব্যাকরণ কাজে লাগে।
এক মাসে বাংলা প্রস্তুতি শেষ করা যাবে কি?
প্রতিদিন ৬০ থেকে ৯০ মিনিট বাংলায় দিলে এক মাসে মূল অংশগুলো শেষ করা যায়, তবে মুখস্থ না করে বুঝে পড়তে হবে, আর ভুল খাতা দিয়ে শেষ সপ্তাহে পুনরাবৃত্তি করতে হবে।
সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন এখানে: এসএসসি সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন ২০২৭। খাতায় উত্তর লেখার নিয়ম এখানে: পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখার নিয়ম। গণিত প্রস্তুতির কৌশল এখানে: এসএসসি গণিত প্রস্তুতির কৌশল। ইংরেজি প্রস্তুতির কৌশল এখানে: এসএসসি ইংরেজি প্রস্তুতির কৌশল।
এই লেখার তথ্য ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে যাচাই করা হয়েছে। বোর্ড নতুন বিজ্ঞপ্তি দিলে এই পাতার তথ্য আপডেট করা হবে। (বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী; চূড়ান্ত তথ্য নিজের স্কুল ও বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি থেকে মিলিয়ে নিন।)
বিজ্ঞাপন




