পরীক্ষার হলে ভুল সবচেয়ে বেশি হয় ওএমআর শিট ভরাটে। একটি ভুল সেট কোড বা একটি অসম্পূর্ণ বৃত্ত পুরো বিষয়ের ফল বদলে দিতে পারে। এই লেখাটি পরীক্ষার হলে করণীয় ও ওএমআর শিট ভরাটের নিয়মের চিরসবুজ গাইড, তারিখের খবর নয়। সময় ভাগ করে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার নিয়ম এখানে দেওয়া হয়নি, কারণ সে বিষয়ে আলাদা লেখা আছে। এই পাতাটি বোর্ডের অফিশিয়াল পেজ নয়।
সতর্কতা: বোর্ডের মূল বিজ্ঞপ্তি এই রিসার্চে সরাসরি পড়া যায়নি। নিচের নিয়ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির প্রতিবেদন ও গাইড পেজের ভিত্তিতে দেওয়া হলো। চূড়ান্ত তথ্য ওএমআর শিটের ওপর ছাপা নির্দেশনা ও নিজের কেন্দ্রের ঘোষণা থেকে মিলিয়ে নিন।
ওএমআর শিট কী
ওএমআর মানে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর বৃত্ত ভরাট করে দেওয়া হয়, আর স্ক্যানার সেই বৃত্ত পড়ে নম্বর দেয়। বাংলাদেশের এসএসসিতে ওএমআর শিট উত্তরপত্রের সঙ্গে আসে। এতে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ও বোর্ডের নাম থাকে। প্রথমে বলপয়েন্ট কলমে লিখে, তারপর সঠিক বৃত্ত ভরাট করতে হয়।

ওএমআর শিট ভরাটের ধাপ
প্রথম ধাপ: রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড, সেট কোড সাবধানে লিখুন। দ্বিতীয় ধাপ: প্রতিটি অঙ্কের ঘরে একটি করে সংখ্যা লিখুন। তৃতীয় ধাপ: সংখ্যার নিচের সঠিক বৃত্তটি পুরোপুরি ও গাঢ় করে ভরাট করুন, কালি বাইরে যেন না যায়। চতুর্থ ধাপ: প্রতি প্রশ্নে শুধু একটি বৃত্ত ভরাট করুন। দুটি বৃত্ত ভরাট করলে উত্তর বাতিল হতে পারে। পঞ্চম ধাপ: সব ঘর ভরাট শেষ হলে আবার মিলিয়ে দেখুন, বিশেষ করে রোল, রেজিস্ট্রেশন ও সেট কোড।
সেট কোড: ক খ গ ঘ
সেট কোড চারটি: ক, খ, গ, ঘ। সেট কোড কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে ঘোষণা করা হয়। ভুল সেট কোড লিখলে উত্তরপত্র ভুল সেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে, ফলে সঠিক উত্তরও ভুল ধরা পড়তে পারে। তাই সেট কোড লেখার পর ঘোষণার সঙ্গে আবার মিলিয়ে নিন, আর বৃত্তটিও সঠিকভাবে ভরাট হয়েছে কি না দেখুন।
কোন কলম ব্যবহার করব
ওএমআর শিট বলপয়েন্ট কলমে ভরাট করতে হয়, এটি শিক্ষক বাতায়নের এসএসসি ২০২৬ বহুনির্বাচনি নির্দেশনায় নিশ্চিত করা হয়েছে। কালো বলপয়েন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশের বোর্ডের নির্দেশনায় কালো রং বাধ্যতামূলক বলে কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। তাই শিটের ওপর ছাপা নির্দেশনাই চূড়ান্ত। জেল কলম বা পেনসিল ব্যবহার করবেন না, কারণ স্ক্যানার সেগুলো ঠিকভাবে পড়তে পারে না।
ভুল বৃত্ত ভরাট হলে করণীয়
ভুল বৃত্ত ভরাট হলে কী করতে হবে, সে বিষয়ে বোর্ড সূত্রে নিশ্চিত নিয়ম এই রিসার্চে পাওয়া যায়নি। একটি অ-বোর্ড সূত্রে একবার কেটে সঠিক বৃত্ত ভরাটের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেটি বোর্ডের নিয়ম নয়। পশ্চিমবঙ্গের বোর্ডের পরিবর্তন না করার নিয়মও বাংলাদেশের বোর্ডের নিয়ম নয়। তাই এই লেখায় কোনো ফলাফলের নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না। নিরাপদ নিয়ম তিনটি: হোয়াইটনার ব্যবহার করবেন না, দুটি বৃত্ত ভরাট করবেন না, আর সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষককে জানান। কী হবে, সেটি পরীক্ষক ও কেন্দ্র সচিবের সিদ্ধান্ত।
পরীক্ষার হলে প্রবেশের নিয়ম
পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। দেরিতে প্রবেশ করলে রেজিস্টারে নাম লেখা হয়। কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি থাকে। প্রবেশের সময় দেহ তল্লাশি করা হয়, মেয়েদের তল্লাশি মহিলা শিক্ষক করেন। অসদুপায়ের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি চলে। নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আসন আলাদা থাকে। শুধু রেজিস্ট্রেশন কার্ডে থাকা বিষয়গুলোতেই পরীক্ষা দেওয়া যাবে।
হলে যা নেওয়া যাবে, যা নেওয়া যাবে না
| নেওয়া যাবে | নেওয়া যাবে না |
|---|---|
| প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, কলম, জ্যামিতি বক্স, স্কেল | মোবাইল ফোন, অনুমোদনহীন ইলেকট্রনিক যন্ত্র, অতিরিক্ত কাগজ |
| প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর (ধরন নিয়ে নির্দেশনা মিলিয়ে নিন) | ক্যামেরা বা ইন্টারনেটসহ ফোন (শুধু কেন্দ্র সচিবের সাধারণ ফোন ব্যতিক্রম) |
মোবাইল ফোন পরীক্ষার্থীসহ সবার জন্য নিষিদ্ধ। শুধু কেন্দ্র সচিব ক্যামেরা ও ইন্টারনেট ছাড়া সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারেন। ক্যালকুলেটরের ধরন নিয়ে গাইড সূত্রে পরস্পরবিরোধী কথা আছে, তাই নির্দিষ্ট ধরন নিয়ে নিশ্চিত দাবি করা যাবে না। কেন্দ্রের ঘোষণা মিলিয়ে নিন।
পরীক্ষার আগের দিন প্রস্তুতি
পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যায় ব্যাগ গুছিয়ে রাখুন: প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, দুটি বলপয়েন্ট কলম, জ্যামিতি বক্স, স্কেল, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর। প্রবেশপত্রে নিজের নাম, রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, কেন্দ্রের নাম ও বিষয় তালিকা মিলিয়ে দেখুন। কোনো ভুল থাকলে আগের দিনই স্কুলে জানান, পরীক্ষার দিন সকালে ভুল ধরা পড়লে সংশোধনের সময় থাকে না। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিন, কারণ ঘুম কম হলে ওএমআর শিটে ভুল করার আশঙ্কা বাড়ে। পরীক্ষার দিন সকালে কেন্দ্রে পৌঁছানোর পথ ও সময় আগে থেকে ঠিক করে রাখুন, যাতে ৩০ মিনিট আগে পৌঁছানো যায়।
কক্ষে আচরণের নিয়ম
কক্ষে ঢোকার পর নিজের আসন খুঁজে বসুন, অন্যের আসনে বসবেন না। পরীক্ষা চলাকালে কারো সঙ্গে কথা বলবেন না, ইশারায় উত্তর জানতে চাইবেন না, অন্যের উত্তরপত্রের দিকে তাকাবেন না। কিছু জানতে হলে হাত তুলে পরীক্ষককে ডাকুন। কক্ষ ছাড়তে হলে পরীক্ষকের অনুমতি নিন, আর মনে রাখুন পরীক্ষা শুরুর ২ ঘণ্টার মধ্যে কক্ষ ছাড়া যাবে না। উত্তরপত্র জমা দেওয়ার সময় পরীক্ষক স্বাক্ষর করেছেন কি না দেখে নিন, কারণ স্বাক্ষর ছাড়া উত্তরপত্র জমা দেওয়ার প্রমাণ থাকে না।
পরীক্ষার ধারাবাহিকতা ও সময়ের নিয়ম
বহুনির্বাচনি অংশ প্রথমে হয়, তারপর সৃজনশীল অংশ, মাঝে কোনো বিরতি নেই। আইসিটি ব্যতিক্রম। পরীক্ষা শুরুর ২ ঘণ্টার মধ্যে কক্ষ ছাড়া যাবে না। উত্তরপত্র ভাঁজ করবেন না, কারণ ভাঁজে ওএমআর শিট নষ্ট হতে পারে। সৃজনশীল, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হয়। একটি অংশে ফেল করলে বিষয়ে ফেল ধরা হবে।
হল ছাড়ার আগে চেকলিস্ট
| যা মিলিয়ে নিন | কেন জরুরি |
|---|---|
| রোল, রেজিস্ট্রেশন, সেট কোড | ভুল হলে উত্তরপত্র ভুলভাবে মূল্যায়ন হতে পারে |
| সব বহুনির্বাচনি বৃত্ত ভরাট | ফাঁকা বৃত্ত মানে সেই প্রশ্নে শূন্য |
| পরীক্ষকের স্বাক্ষর | উত্তরপত্র জমা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে |
| শিট ভাঁজ বা ক্ষতি হয়নি | ক্ষতিগ্রস্ত শিট স্ক্যানার পড়তে পারে না |
যেসব ভুলে উত্তর বাতিল হতে পারে
প্রথম ভুল: ভুল সেট কোড। দ্বিতীয় ভুল: অসম্পূর্ণ বা হালকা বৃত্ত। তৃতীয় ভুল: এক প্রশ্নে দুটি বৃত্ত ভরাট। চতুর্থ ভুল: শিট ভাঁজ করা বা ক্ষতি করা। পঞ্চম ভুল: নির্ধারিত ঘরের বাইরে লেখা। ষষ্ঠ ভুল: ভুল কলম ব্যবহার। সপ্তম ভুল: হোয়াইটনার ব্যবহার। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের সংখ্যা বিষয়ভেদে ২৫ বা ৩০টি হয়, একটি গাইড পেজের ৫০টির দাবি বাংলাদেশের এসএসসির জন্য ভুল।
প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর প্রথম কাজ
প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রথমে দেখুন প্রশ্নপত্রের সেট কোড ওএমআর শিটে লেখা সেট কোডের সঙ্গে মিলছে কি না। মিল না থাকলে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষককে জানান। তারপর প্রশ্নপত্রের পৃষ্ঠা গুনে দেখুন সব পৃষ্ঠা আছে কি না, কোনো পৃষ্ঠা ছেঁড়া বা ছাপা অস্পষ্ট কি না। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের সংখ্যা গুনে দেখুন, বিষয়ভেদে ২৫ বা ৩০টি প্রশ্ন থাকে। প্রশ্নপত্রে কোনো দাগ দেবেন না, কারণ প্রশ্নপত্রের দাগ উত্তরপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় না, আর দাগ দেওয়া প্রশ্নপত্র জমা দেওয়ার সময় ঝামেলা হতে পারে।
রোল ও রেজিস্ট্রেশন ভরাটের সাধারণ ভুল
সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো অঙ্কের ঘরে সংখ্যা লেখা ঠিক থাকলেও নিচের বৃত্ত ভরাটে ভুল হওয়া। যেমন রোলের একটি অঙ্ক ৭, কিন্তু বৃত্ত ভরাট করা হলো ১ এর ঘরে। আরেকটি ভুল হলো সংখ্যা লেখার সময় একটি ঘর ফাঁকা রেখে দেওয়া, ফলে পুরো রোল এক ঘর সরে যায়। তৃতীয় ভুল হলো বৃত্ত অর্ধেক ভরাট করা বা হালকা করে ভরাট করা, যা স্ক্যানার পড়তে পারে না। তাই প্রতিটি অঙ্ক লেখার পর সঙ্গে সঙ্গে তার বৃত্ত ভরাট করুন, আর শেষে পুরো রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রবেশপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
সচরাচর প্রশ্ন
ওএমআর ভুল হলে কী হবে?
নিশ্চিত নিয়ম বোর্ড সূত্রে পাওয়া যায়নি। হোয়াইটনার ব্যবহার করবেন না, দুটি বৃত্ত ভরাট করবেন না, সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষককে জানান। কী হবে, সেটি পরীক্ষক ও কেন্দ্র সচিবের সিদ্ধান্ত।
সেট কোড ভুল হলে কী হবে?
উত্তরপত্র ভুল সেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে, ফলে সঠিক উত্তরও ভুল ধরা পড়তে পারে। তাই জমা দেওয়ার আগে সেট কোড আবার মিলিয়ে নিন।
কলম কোনটি ব্যবহার করব?
বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করুন। কালো বলপয়েন্ট পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে শিটের ওপর ছাপা নির্দেশনাই চূড়ান্ত।
ওএমআর শিট ভাঁজ হলে কী হবে?
ভাঁজে শিট নষ্ট হতে পারে, স্ক্যানার পড়তে পারে না। শিট কখনো ভাঁজ করবেন না।
মোবাইল নিয়ে গেলে কী হবে?
মোবাইল পরীক্ষার্থীর জন্য নিষিদ্ধ। অসদুপায়ের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি চলে। বহিষ্কারের মেয়াদ নিয়ে বোর্ড সূত্র পাওয়া যায়নি, তাই নির্দিষ্ট মেয়াদ লেখা যাবে না।
পরীক্ষার হলে সময় ভাগের নিয়ম এখানে: পরীক্ষার হলে সময় ভাগের কৌশল। ফল দেখার নিয়ম এখানে: এসএসসি রেজাল্ট দেখার নিয়ম।
এই লেখার তথ্য ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে যাচাই করা হয়েছে। বোর্ড নতুন বিজ্ঞপ্তি দিলে এই পাতার তথ্য আপডেট করা হবে। (বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী; চূড়ান্ত তথ্য নিজের কেন্দ্র ও ওএমআর শিটের ছাপা নির্দেশনা থেকে মিলিয়ে নিন।)
