Skip to main content

Jante Hobe

জ্ঞান আহরণ – সঠিক সিদ্ধান্ত – সুন্দর জীবন

জ্ঞান আহরণ – সঠিক সিদ্ধান্ত – সুন্দর জীবন

সর্বশেষ লেখা

গুগল রিভিউ চাওয়ার সঠিক পদ্ধতি হলো, সেবা দেওয়ার পর প্রতিটি গ্রাহকের কাছে সৎভাবে মতামত চাওয়া, আর রিভিউ দেওয়াটা তার জন্য সহজ করে দেওয়া। রিভিউর বিনিময়ে কোনো ছাড়, উপহার বা সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া যাবে না, গুগল নিজেই এটি নিষিদ্ধ করেছে। আর প্রতিটি রিভিউর উত্তর দেওয়ার নিয়মও গুগল ঠিক করে দিয়েছে, সংক্ষিপ্ত, ব্যক্তিগত ও পেশাদার উত্তর।

রিভিউ (Review) হলো গ্রাহকের লিখিত মতামত ও তারকা-রেটিং, যা আপনার গুগল বিজনেস প্রোফাইলে সবার জন্য প্রকাশ্যে দেখা যায়। নতুন গ্রাহক দোকানে আসার বা ফোন করার আগে প্রায়ই এই রিভিউগুলো পড়ে সিদ্ধান্ত নেন। আবার গুগলের স্থানীয় ফলাফল সাজানোর ক্ষেত্রেও রিভিউর সংখ্যা ও রেটিং একটি ভূমিকা রাখে, যদিও শুধু রিভিউ দিয়েই ভালো অবস্থানের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

এই লেখায় ধাপে ধাপে দুটি কাজ দেখানো হয়েছে। কীভাবে নিয়ম মেনে রিভিউ চাইবেন, এবং প্রতিটি রিভিউর উত্তর কীভাবে দেবেন। দুটিরই ভিত্তি গুগলের নিজের প্রকাশিত নির্দেশনা।

শুরু করার আগে যা জানা দরকার

রিভিউর উত্তর দিতে হলে আপনার ব্যবসার গুগল বিজনেস প্রোফাইল (Google Business Profile), অর্থাৎ গুগল সার্চ ও ম্যাপে ব্যবসার তথ্য দেখানো বিনামূল্যের প্রোফাইলটি, যাচাই করা থাকতে হবে। যাচাই না করা প্রোফাইল থেকে উত্তর দেওয়া যায় না, গুগল এই শর্তটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।

উত্তরটি প্রকাশ্যে প্রকাশিত হয় এবং তার নিচে ব্যবসার পক্ষ থেকে উত্তর বলে চিহ্নিত থাকে। যিনি রিভিউ লিখেছেন, তিনি আপনার উত্তরের বিজ্ঞপ্তি পান। তাই প্রতিটি উত্তর লেখার সময় মনে রাখুন, এটি শুধু ওই গ্রাহকই পড়ছেন না, ভবিষ্যতের অনেক গ্রাহকও পড়বেন।

ধাপে ধাপে রিভিউ চাওয়ার পদ্ধতি

ধাপ ১: রিভিউ লিংক ও কিউআর কোড তৈরি করে রাখুন

গুগল নিজেই ব্যবসার জন্য একটি ছোট রিভিউ লিংক তৈরির সুবিধা দিয়েছে। প্রোফাইলের রিভিউ অংশে আরও রিভিউ পাওয়ার বিকল্প থেকে এই লিংকটি পাওয়া যায়, সঙ্গে ছাপানোর মতো কিউআর কোডও (QR Code), অর্থাৎ ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করলেই নির্দিষ্ট পেজে নিয়ে যায় এমন ছবির সংকেত, তৈরি করা যায়।

লিংকটি আগে নিজে পরীক্ষা করে দেখুন, ঠিক জায়গায় যাচ্ছে কিনা। এই লিংকই আপনি গ্রাহকের কাছে পাঠাবেন, তাই এটিই পুরো পদ্ধতির ভিত্তি।

ধাপ ২: সঠিক সময়ে চান

রিভিউ চাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো সেবা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই, যখন অভিজ্ঞতাটি গ্রাহকের মনে তাজা থাকে। কেনাকাটা শেষে বিল দেওয়ার সময়, সেবা বুঝিয়ে দেওয়ার পর, কিংবা পণ্য পৌঁছে যাওয়ার পরের বার্তায় চাওয়াটা স্বাভাবিক শোনায়।

অনেক দেরি করে চাইলে গ্রাহকের বিস্তারিত মনে থাকে না, আবার সেবা অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় চাওয়া তাড়াহুড়া মনে হতে পারে। সময়টা এমন বেছে নিন, যাতে গ্রাহক পুরো অভিজ্ঞতাটা বিচার করতে পারেন।

ধাপ ৩: সব গ্রাহকের কাছেই একইভাবে চান

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। শুধু যাদের খুশি মনে হচ্ছে, বেছে বেছে তাদের কাছেই রিভিউ চাওয়া ঠিক পদ্ধতি নয়। একে বলা হয় রিভিউ গেটিং (Review Gating), অর্থাৎ শুধু ইতিবাচক মতামত আসবে এমন গ্রাহককে বেছে নেওয়া বা নেতিবাচক মতামতকে নিরুৎসাহিত করা, যা গুগলের নীতির সঙ্গে যায় না।

সবার কাছে একইভাবে সৎ মতামত চান, ভালো হোক বা সমালোচনামূলক। এই অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে প্রোফাইলকে বিশ্বাসযোগ্য রাখে। মাঝে মাঝে সমালোচনামূলক রিভিউ আসা স্বাভাবিক, সেটি সামলানোর পদ্ধতি নিচে দেওয়া হয়েছে।

ধাপ ৪: চাওয়ার মাধ্যমগুলো সহজ রাখুন

মুখে বলাটাই সবচেয়ে সরল মাধ্যম। সেবা শেষে ভদ্রভাবে এক লাইনে বলুন, গুগলে আপনার অভিজ্ঞতাটা লিখে জানালে অন্য গ্রাহকদের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।

এর বাইরে রসিদ বা প্যাকেজের গায়ে কিউআর কোড ছাপিয়ে দিতে পারেন। হোয়াটসঅ্যাপ বা এসএমএসে ধন্যবাদ জানানোর বার্তার সঙ্গে লিংকটি পাঠানোও একটি সহজ উপায়। ওয়েবসাইট থাকলে সেখানেও লিংকটি রাখা যায়। মাধ্যম যেটিই হোক, মূল কথা হলো গ্রাহককে খুঁজতে না হওয়া, এক ছোঁয়ায় রিভিউর পেজে পৌঁছে যাওয়া।

ধাপ ৫: কী বলবেন, তার ভাষা ঠিক রাখুন

চাওয়ার ভাষায় কখনো রেটিং নির্দেশ করবেন না। কেউ যেন না বলেন, আমাদের পাঁচ তারা দেবেন। বলুন, আপনার সত্যিকার অভিজ্ঞতাটা যেমন ছিল, তেমনই লিখুন। এই ভাষাই সৎ, এবং এতে পাওয়া রিভিউগুলোও বিশ্বাসযোগ্য হয়।

একটি নমুনা বাক্য এমন হতে পারে। আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, গুগলে দুই লাইনে লিখে জানালে আমাদের জন্য খুব উপকার হবে, আর অন্যরাও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এই লিংক থেকে সরাসরি লিখতে পারবেন। বাক্যটি ছোট, চাপহীন এবং কোনো প্রত্যাশা চাপিয়ে দেয় না।

যেসব কাজ কখনোই করবেন না

গুগলের নির্দেশনায় কয়েকটি বিষয় একেবারে পরিষ্কার। রিভিউর বিনিময়ে কোনো প্রলোভন দেওয়া যাবে না। ছাড়, বিনামূল্যের পণ্য, উপহার বা কোনো সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রিভিউ চাওয়া, রিভিউ বদলাতে বলা কিংবা নেতিবাচক রিভিউ সরাতে বলা, সবই গুগলের ভাষায় ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের মধ্যে পড়ে এবং কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

নিজে বা পরিচিতদের দিয়ে ভুয়া রিভিউ লেখানোও একই অপরাধ। কর্মী, আত্মীয় বা বন্ধু, যিনি আসল গ্রাহক নন, তার রিভিউ প্রোফাইলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। গ্রাহকের ফোন নিয়ে নিজে রিভিউ লিখে দেওয়াও করবেন না, রিভিউ হতে হয় গ্রাহকের নিজের ভাষায়, নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে।

এ ধরনের কারসাজি ধরা পড়লে রিভিউ মুছে যাওয়া থেকে শুরু করে প্রোফাইলের ওপর সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। ধীরে হলেও সৎ পথে জমানো রিভিউই একমাত্র নিরাপদ সম্পদ।

রিভিউর উত্তর দেওয়ার পদ্ধতি

রিভিউ এলে উত্তর দেওয়ার ধাপগুলো সহজ। নিজের বিজনেস প্রোফাইলে যান, রিভিউ পড়ুন অংশটি খুলুন, যে রিভিউর উত্তর দিতে চান তার পাশের উত্তর দিন বোতামে চাপ দিন, উত্তর লিখে আবার উত্তর দিন নির্বাচন করুন। উত্তরটি পরে বদলানো বা মুছে ফেলাও যায়।

গতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। গুগল নিজেই বলেছে, দ্রুত উত্তর দেওয়া বোঝায় যে আপনি গ্রাহকের মতামতকে মূল্য দেন। প্রতিদিন সম্ভব না হলে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে নতুন রিভিউগুলোর উত্তর একসঙ্গে দিন, কিন্তু কোনো রিভিউই উত্তর ছাড়া ফেলে রাখবেন না।

ইতিবাচক রিভিউর উত্তর যেমন হবে

গুগলের পরামর্শ হলো, উত্তর হবে ইতিবাচক, প্রাসঙ্গিক, সংক্ষিপ্ত এবং কথোপকথনের মতো স্বাভাবিক। সবাইকে একই ছাঁচের ধন্যবাদের বাক্য পাঠাবেন না। রিভিউতে গ্রাহক যে নির্দিষ্ট বিষয়টির প্রশংসা করেছেন, উত্তরে সেটির উল্লেখ করুন। এতে বোঝা যায়, আপনি সত্যিই পড়েছেন।

আরেকটি সতর্কতা হলো, উত্তরকে প্রচারণার জায়গা বানাবেন না। যিনি রিভিউ দিয়েছেন তিনি ইতিমধ্যে আপনার গ্রাহক, তাকে উত্তরের মধ্যে নতুন অফার বা ছাড়ের কথা বলা গুগলের নির্দেশনার বাইরে। বদলে তার অভিজ্ঞতার একটি ভালো দিকের কথা উল্লেখ করে আবার আসার আমন্ত্রণ জানানোই যথেষ্ট।

নমুনা উত্তর: রহিম ভাই, সময় করে মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ। ডেলিভারি দ্রুত পেয়েছেন জেনে ভালো লাগল, এই বিষয়টি আমরা ধরে রাখার চেষ্টা করি। আবার প্রয়োজন হলে জানাবেন, আমরা আছি।

নেতিবাচক রিভিউর উত্তর যেমন হবে

নেতিবাচক রিভিউ পেলে প্রথমে শান্ত হোন। রাগ বা ক্ষোভ নিয়ে লেখা উত্তর পরিস্থিতি আরও খারাপ করে। গুগলের নির্দেশনা ধরে ধাপে ধাপে এগোন।

প্রথমে গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষা করুন। তার ব্যক্তিগত তথ্য, কেনাকাটার বিবরণ বা কোনো সংবেদনশীল বিষয় প্রকাশ্যে লিখবেন না, এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের ভাষা একেবারেই নয়। দ্বিতীয়ত, ভুল হয়ে থাকলে সৎভাবে স্বীকার করুন। তবে যেসব বিষয় আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেগুলোর দায় নেবেন না, বরং সীমাবদ্ধতাটি শান্তভাবে ব্যাখ্যা করুন। তৃতীয়ত, যথাযোগ্য হলে দুঃখ প্রকাশ করুন। একটি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ অনেক সময় আস্থা ফেরানোর প্রথম ধাপ হয়।

চতুর্থত, উত্তরটি ব্যক্তিগত করুন। গ্রাহকের নাম ধরে, তার নির্দিষ্ট অভিযোগটির উল্লেখ করে লিখুন। শেষে বিষয়টি জটিল হলে ফোন বা ইমেইলে সরাসরি যোগাযোগের অনুরোধ করুন, যাতে সমাধানটি ব্যক্তিগতভাবে করা যায়। গুগল নিজেও এই পদ্ধতির কথাই বলেছে।

নমুনা উত্তর: সালমা আপা, আপনার অভিজ্ঞতা খারাপ হয়েছে বলে আমরা দুঃখিত। নির্ধারিত দিনে পণ্য না পৌঁছানো আমাদের দিক থেকেই ঘাটতি ছিল, এটি হওয়া উচিত হয়নি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখতে চাই, আপনি সুবিধামতো আমাদের এই নম্বরে একবার ফোন করলে সমাধানের ব্যবস্থা করব।

মনে রাখুন, নেতিবাচক রিভিউ মানেই খারাপ ব্যবসা নয়। গুগল নিজেই বলেছে, এসব রিভিউ গ্রাহকের প্রত্যাশা বুঝতে এবং সেবা উন্নত করতে সাহায্য করে। ভালোভাবে সামলানো একটি অভিযোগ অনেক সময় ভবিষ্যৎ গ্রাহকের কাছে আস্থার প্রমাণ হয়ে ওঠে।

ভুয়া বা নিয়মভঙ্গকারী রিভিউ হলে কী করবেন

কোনো রিভিউ যদি গুগলের কনটেন্ট নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন হয়, যেমন ভুয়া অভিজ্ঞতা, অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বা আপত্তিকর ভাষা, তাহলে সেটি ফ্ল্যাগ (Flag) করে গুগলকে জানানো যায়, অর্থাৎ রিপোর্ট করার ব্যবস্থাটি ব্যবহার করা যায়। গুগল যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়, সময় লাগতে পারে।

তবে শুধু নেতিবাচক হওয়ার কারণে কোনো রিভিউ রিপোর্ট করার বিষয় নয়। আসল গ্রাহকের অসন্তুষ্ট মতামত নীতিভঙ্গ নয়। সেক্ষেত্রে প্রকাশ্যে তর্কে না গিয়ে একবার পেশাদার উত্তর দিয়ে বিষয়টি সেখানেই শেষ করুন।

রিভিউকে সেবা উন্নত করার কাজে লাগান

রিভিউ শুধু রেটিংয়ের সংখ্যা নয়, এটি গ্রাহকের মুখ থেকে পাওয়া সরাসরি তথ্য। কয়েক মাসের রিভিউ পাশাপাশি রাখলে দেখা যাবে, কোন বিষয়ে প্রশংসা বারবার আসছে, আর কোন অভিযোগটি ফিরে ফিরে আসছে।

প্রশংসার বিষয়গুলো ধরে রাখুন, যাতে সেই মানটি না পড়ে। আর একই অভিযোগ বারবার এলে সেটিকে সেবার ঘাটতি হিসেবে ধরে ঠিক করুন। এই ব্যবহারটাই রিভিউ ব্যবস্থাপনার আসল মূল্য, শুধু তারা সংখ্যা বাড়ানো নয়। মাসে একবার অল্প সময় নিয়ে এই পর্যালোচনাটা করলেই রিভিউ শুধু প্রোফাইলের সাজসজ্জা না থেকে ব্যবসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হয়ে ওঠে।

বিভিন্ন ধরনের রিভিউতে সাড়া দেওয়ার পদ্ধতি

সব রিভিউ এক রকম নয়, তাই উত্তরও এক ছাঁচে হয় না। তিনটি পরিচিত পরিস্থিতি আলাদা করে দেখে নিন।

প্রথম পরিস্থিতি, শুধু তারকা দেওয়া, কোনো লেখা নেই। এমন রিভিউতে লম্বা উত্তর লেখার কিছু নেই। ইতিবাচক হলে এক লাইনে মতামতের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। নেতিবাচক তারকার ক্ষেত্রে সংক্ষেপে দুঃখ প্রকাশ করে বিস্তারিত জানার আগ্রহ দেখান, যাতে গ্রাহক চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।

দ্বিতীয় পরিস্থিতি, ভালো ও খারাপ মেশানো মিশ্র রিভিউ। উত্তরে দুটি অংশই আলাদা করে ছুঁয়ে যান। প্রশংসার অংশের জন্য কৃতজ্ঞতা, আর অভিযোগের অংশের জন্য নেতিবাচক রিভিউর নিয়ম অনুযায়ী সাড়া। একটি অংশ উপেক্ষা করে অন্যটির উত্তর দিলে মনে হয় আপনি পুরোটা পড়েননি।

তৃতীয় পরিস্থিতি, ভুল ব্যবসা ভেবে লেখা কিংবা যার সঙ্গে আপনার কোনো লেনদেনই হয়নি এমন রিভিউ। প্রকাশ্যে বিতর্কে না গিয়ে ভদ্রভাবে জানান যে আমাদের নথিতে আপনার সেবা নেওয়ার তথ্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, ভুলবশত অন্য কোথাও হয়ে থাকতে পারে। রিভিউটি গুগলের নীতির লঙ্ঘন হলে ফ্ল্যাগ করার সুযোগও এক্ষেত্রে থাকে।

আরেকটি সাধারণ ক্ষেত্র হলো, উত্তরের পর গ্রাহক নিজে রিভিউটি হালনাগাদ করেছেন। এমন হলে আপনার পুরনো উত্তরটি প্রয়োজনে সম্পাদনা করে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে নিন, সেই সুবিধা গুগল দিয়েছে।

উত্তর পাঠানোর আগে দ্রুত যাচাই তালিকা

প্রতিটি উত্তর প্রকাশের আগে এই ছোট তালিকাটি একবার চোখ বুলিয়ে নিন। অভ্যাস হয়ে গেলে সময় লাগে এক মিনিটেরও কম।

  • গ্রাহকের নাম ঠিকমতো লেখা হয়েছে তো?
  • রিভিউর নির্দিষ্ট বিষয়টির উল্লেখ আছে তো, নাকি উত্তরে শুধু সাধারণ কথা?
  • কোনো অফার, ছাড় বা প্রচারণার কথা ঢুকে যায়নি তো?
  • গ্রাহকের কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা কেনাকাটার বিবরণ প্রকাশ পায়নি তো?
  • ভাষা শান্ত ও পেশাদার আছে তো, প্রতিরক্ষামূলক বা তিক্ত শোনাচ্ছে না তো?
  • জটিল বিষয় হলে সরাসরি যোগাযোগের পথ দেওয়া হয়েছে তো?

এই যাচাইয়ের মূল্য সবচেয়ে বেশি বোঝা যায় নেতিবাচক রিভিউর ক্ষেত্রে। তাড়াহুড়ার একটি লাইন অনেক দিন ধরে প্রকাশ্যে থেকে যায়, তাই পাঠানোর আগের এই বিরতিটুকু সবচেয়ে সস্তা সুরক্ষা।

রিভিউ চাওয়াকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করুন

রিভিউ জমানোর কাজটি একদিনের অভিযান নয়, এটি সেবার প্রক্রিয়ার একটি নিয়মিত অংশ। দোকানের ক্ষেত্রে বিল দেওয়ার ধাপে, আর সেবার ক্ষেত্রে কাজ শেষে হস্তান্তরের সময়, এই অনুরোধটির জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখুন।

একাধিক কর্মী থাকলে সবাইকে একই পদ্ধতি জানিয়ে দিন। কখন বলতে হবে, কী বলতে হবে এবং কী বলা যাবে না, এই তিনটি বিষয় পরিষ্কার থাকলে কারো ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিয়ম ভাঙার ঝুঁকি কমে।

মাসে একবার প্রোফাইলে গিয়ে নতুন রিভিউয়ের সংখ্যা ও গড় রেটিং দেখে নিন। এই দেখাটা প্রতিযোগিতার জন্য নয়, নিজের সেবার ধারাটা বোঝার জন্য। সংখ্যা ধীরে বাড়াটাই স্বাভাবিক ও সুস্থ লক্ষণ।

সাধারণ প্রশ্নের উত্তর

রিভিউ চাইলে কি গ্রাহক বিরক্ত হন?

চাপ না দিয়ে, সঠিক সময়ে একবার ভদ্রভাবে চাইলে সাধারণত হন না। বিরক্তির কারণ হয় বারবার তাড়া দেওয়া বা কোনো শর্ত জুড়ে দেওয়া। একবার চেয়েই থামুন, দেওয়া না দেওয়া সম্পূর্ণ গ্রাহকের সিদ্ধান্ত।

কর্মচারী বা পরিবারের সদস্যরা রিভিউ দিতে পারেন কি?

না, যিনি আসল গ্রাহক হিসেবে সেবা নেননি, তার রিভিউ ভুয়া হিসেবে গণ্য হতে পারে। প্রোফাইলের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ, তাই এই পথ একেবারেই এড়িয়ে চলুন।

নেতিবাচক রিভিউ কি মুছে ফেলা যায়?

নিজে থেকে যায় না। শুধু গুগলের নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন হলে ফ্ল্যাগ করে জানানো যায়, সিদ্ধান্ত গুগলের। আসল গ্রাহকের নেতিবাচক মতামতের সঠিক সামলানো পদ্ধতি হলো পেশাদার উত্তর ও সম্ভব হলে সমস্যার সমাধান।

সব রিভিউর উত্তর দেওয়া কি জরুরি?

গুগল উত্তর দেওয়াকে সম্পর্ক গড়ার উপায় হিসেবে দেখে। সব রিভিউর উত্তর দেওয়াই ভালো অভ্যাস, ইতিবাচক হলে নির্দিষ্ট প্রশংসার উল্লেখসহ, নেতিবাচক হলে শান্ত ও সমাধানমুখী ভাষায়।