Skip to main content

Jante Hobe

জ্ঞান আহরণ – সঠিক সিদ্ধান্ত – সুন্দর জীবন

জ্ঞান আহরণ – সঠিক সিদ্ধান্ত – সুন্দর জীবন

সর্বশেষ লেখা

ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করতে প্রথমে সেটিংস থেকে অ্যাকাউন্ট সেন্টারে যান। সেখানে পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা অংশে এই অপশনটি পাবেন। মোট পাঁচ থেকে সাত মিনিটের কাজ, আর এরপর পাসওয়ার্ড জানলেও অন্য কেউ সহজে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না।

ভাবুন, কোনোভাবে আপনার পাসওয়ার্ড কারো হাতে চলে গেছে। তিনি আপনার নাম, ছবি আর পরিচিতদের তালিকা পেয়ে যাবেন মুহূর্তের মধ্যে। এই যাচাইকরণ চালু থাকলে চিত্রটা বদলে যায়। পাসওয়ার্ডের পর একটি আলাদা কোড চাওয়া হয়, আর কোডটি থাকে শুধু আপনার ফোনে। কোড ছাড়া লগইন আটকে যায় মাঝপথেই।

দুই ধাপের যাচাইকরণ আসলে কী

দুই ধাপের যাচাইকরণ (Two-Factor Authentication) মানে লগইনের সময় দুটি আলাদা প্রমাণ চাওয়া। প্রথম প্রমাণ আপনার পাসওয়ার্ড, যা আপনি জানেন। দ্বিতীয় প্রমাণ একটি একবার ব্যবহারের কোড, যা আসে আপনার নিজের ফোনে। দুটো মিললেই লগইন সম্পন্ন হয়।

ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী, অপরিচিত ব্রাউজার বা ডিভাইস থেকে লগইনের চেষ্টা হলেই কোডটি চাওয়া হয়। নিজের পরিচিত ফোন বা কম্পিউটারে সাধারণত বারবার কোড লাগে না। এছাড়া অপরিচিত ডিভাইস থেকে লগইনের চেষ্টা হলে আপনি সতর্কবার্তাও পেতে পারেন। ফলে অন্য কেউ চেষ্টা করলেও আপনি সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারবেন।

শুরু করার আগে যা যা লাগবে

  • নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করা অবস্থা এবং পাসওয়ার্ডটি মনে থাকা
  • একটি সচল মোবাইল নম্বর, যেখানে মেসেজ আসে
  • অথবা ফোনে একটি অথেনটিকেটর অ্যাপ (Authenticator App), অর্থাৎ নিরাপত্তা কোড তৈরি করার ছোট অ্যাপ
  • রিকভারি কোড লিখে রাখার জন্য নিরাপদ কোনো জায়গা

অথেনটিকেটর অ্যাপ আগে থেকে না থাকলে গুগল অথেনটিকেটর (Google Authenticator) বা মাইক্রোসফট অথেনটিকেটর (Microsoft Authenticator) ইনস্টল করে নিন। দুটোই বিনামূল্যের এবং পরিচিত অ্যাপ। ইনস্টলের পর অ্যাপটি খুলে রাখুন, সেটআপের মাঝখানে এটি লাগবে।

তিনটি পদ্ধতির তুলনা

ফেসবুক কোড পাওয়ার তিনটি পদ্ধতি দেয়। নিজের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।

দুই ধাপের যাচাইকরণের তিনটি পদ্ধতি
পদ্ধতি কোড যেভাবে পাবেন কার জন্য উপযোগী
অথেনটিকেটর অ্যাপ ফোনের অ্যাপে নির্দিষ্ট সময় পরপর নতুন কোড তৈরি হয়, ইন্টারনেট ছাড়াই যারা সবচেয়ে শক্তিশালী সুরক্ষা চান
টেক্সট মেসেজ (SMS) নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে মেসেজ আকারে কোড আসে যারা সহজ পদ্ধতি পছন্দ করেন
সিকিউরিটি কি আলাদা একটি ছোট যন্ত্র ডিভাইসে ছোঁয়ালে যাচাই শেষ হয় যাদের কাছে এমন যন্ত্র আগে থেকেই আছে

বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য অথেনটিকেটর অ্যাপই ভালো পছন্দ। কারণ কোড তৈরি হয় ফোনের ভেতরেই, নেটওয়ার্ক বা সিমের ওপর নির্ভর করতে হয় না। মেসেজ পদ্ধতি সহজ হলেও সিম বদল বা নেটওয়ার্ক সমস্যায় কোড আটকে যেতে পারে।

ধাপে ধাপে চালু করার পদ্ধতি

ধাপ ১: সেটিংস থেকে অ্যাকাউন্ট সেন্টারে যান

কম্পিউটারে ফেসবুক খুলে ওপরের ডানদিকের প্রোফাইল ছবিতে ক্লিক করুন। সেটিংস ও প্রাইভেসি (Settings & privacy) বেছে নিন, তারপর সেটিংসে ক্লিক করুন। নতুন পেজে অ্যাকাউন্ট সেন্টার (Accounts Center) অপশনটি দেখতে পাবেন।

মোবাইল অ্যাপে পথটি প্রায় একই। মেনু খুলে সেটিংস ও প্রাইভেসি অংশে যান। সেখান থেকে সেটিংসে চাপ দিলে অ্যাকাউন্ট সেন্টার পাবেন। অ্যাপের সংস্করণভেদে মেনুর সাজানোতে সামান্য এদিক-ওদিক হতে পারে।

ধাপ ২: পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা অংশটি খুলুন

অ্যাকাউন্ট সেন্টারের ভেতরে পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা (Password and security) অপশনে চাপ দিন। এখানেই পাসওয়ার্ড বদলানো ও লগইন সুরক্ষার সব অপশন এক জায়গায় থাকে। তালিকায় দুই ধাপের যাচাইকরণ (Two-factor authentication) নামের অপশনটি খুঁজুন।

ধাপ ৩: নিজের অ্যাকাউন্টটি বেছে নিন

অপশনটিতে চাপ দিলে আপনার অ্যাকাউন্টের তালিকা আসতে পারে। একই অ্যাকাউন্ট সেন্টারে ইনস্টাগ্রাম থাকলে সেটিও দেখাতে পারে। আপনি যেই অ্যাকাউন্টে সুরক্ষা চালু করতে চান, সেটি বেছে নিন। ভুল অ্যাকাউন্ট বেছে নিলে সুরক্ষা অন্য অ্যাকাউন্টে চালু হয়ে যাবে, তাই নামটি মিলিয়ে দেখুন।

ধাপ ৪: নিরাপত্তা পদ্ধতি বেছে নিন

এবার তিনটি পদ্ধতির তালিকা আসবে। অথেনটিকেটর অ্যাপ (Authentication app), টেক্সট মেসেজ (Text message) এবং সিকিউরিটি কি (Security key)। পছন্দের পদ্ধতিটি বেছে নিয়ে পরের ধাপে যান। এই লেখায় প্রথমে অ্যাপ পদ্ধতিটি দেখানো হয়েছে, কারণ এটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

ধাপ ৫: অথেনটিকেটর অ্যাপটি যুক্ত করুন

অ্যাপ পদ্ধতি বেছে নিলে পর্দায় একটি কিউআর কোড (QR Code), অর্থাৎ ছোট বর্গাকার ছবির মতো কোড, দেখা যাবে। ফোনে অথেনটিকেটর অ্যাপ খুলে নতুন অ্যাকাউন্ট যোগ করার অপশনে চাপ দিন। ক্যামেরা দিয়ে কিউআর কোডটি স্ক্যান করলেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অ্যাপে যোগ হয়ে যাবে।

স্ক্যান করা না গেলে হাতে লিখে বসানোর জন্য একটি সেটআপ কি (Setup Key), অর্থাৎ অক্ষর ও সংখ্যার লম্বা সারি, পর্দায় দেওয়া থাকে। সেটি অ্যাপে বসালেও একই কাজ হবে। যোগ হয়ে গেলে অ্যাপে ছয় সংখ্যার কোড দেখা যাবে।

ধাপ ৬: কোড বসিয়ে নিশ্চিত করুন

অ্যাপে দেখানো ছয় সংখ্যার কোডটি ফেসবুকের পর্দায় নির্দিষ্ট ঘরে বসান। কোডটির মেয়াদ খুব কম, সাধারণত কয়েক সেকেন্ড পরপর বদলে যায়। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে অ্যাপে আসা নতুন কোডটি বসান। কোড মিলে গেলে ফেসবুক জানিয়ে দেবে সেটআপ সফল হয়েছে।

মেসেজ পদ্ধতি বেছে নিলে ধাপটি কিছুটা আলাদা। নম্বর বেছে নিলে বা নতুন নম্বর যোগ করলে সেখানে একটি কোড পাঠানো হয়। মেসেজের কোডটি বসালেই পদ্ধতিটি চালু হয়ে যায়।

ধাপ ৭: পাসওয়ার্ড দিয়ে শেষ নিশ্চিতকরণ সারুন

সেটআপের কোনো পর্যায়ে ফেসবুক আপনার পাসওয়ার্ড আবার চাইতে পারে। এটি স্বাভাবিক নিরাপত্তা যাচাই, ভয়ের কিছু নেই। পাসওয়ার্ড বসালে পরিবর্তনটি চূড়ান্ত হয়ে যায়। কাজ শেষে সেটিংসে ফিরে দেখুন, যাচাইকরণ চালু অবস্থায় দেখাচ্ছে কি না।

ধাপ ৮: রিকভারি কোড সংরক্ষণ করুন

সেটআপ শেষ হলে সেটিংস থেকে রিকভারি কোড (Recovery Codes), অর্থাৎ ফোন হাতে না থাকলে লগইনের বিকল্প কোডের তালিকা, বের করে নিন। ফেসবুক একসঙ্গে দশটি কোড দেয়। ফোন হারিয়ে গেলে বা অ্যাপ মুছে গেলে এই কোড দিয়েই অ্যাকাউন্টে ঢোকা যাবে।

কোডগুলো কাগজে লিখে নিরাপদ জায়গায় রাখুন। ছবি তুলে ফোনের গ্যালারিতে রাখা নিরাপদ নয়, কারণ ফোনটাই হারানোর ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিটি কোড একবারই ব্যবহার করা যায়, ব্যবহার হয়ে গেলে সেটি আর কাজ করে না।

ধাপ ৯: সেটআপ ঠিকমতো হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন

সব শেষ হলে অন্য একটি ব্রাউজার থেকে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করে দেখুন। পাসওয়ার্ডের পর কোড চাইলে বুঝবেন সেটআপ ঠিকঠাক কাজ করছে। ফোনের অ্যাপ থেকে কোড বসিয়ে লগইন সম্পন্ন করুন। নিজের পরিচিত ডিভাইসে লগইন থাকা অবস্থায় এই পরীক্ষা করা নিরাপদ, কারণ সমস্যা হলে সেখান থেকে ঠিক করা যাবে।

সাধারণ ভুল ও সমস্যার সমাধান

সবচেয়ে পরিচিত ভুল হলো রিকভারি কোড সংরক্ষণ না করা। সেটআপের সময় এটি অতিরিক্ত ঝামেলা মনে হয়। কিন্তু ফোন বদলালে বা অ্যাপ মুছে গেলে এই কোডই অ্যাকাউন্ট ফেরত পাওয়ার সহজ পথ। কোড ছাড়া অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের প্রক্রিয়া অনেক লম্বা ও কঠিন হতে পারে।

দ্বিতীয় ভুল, কোড অন্য কারো সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। কোডটি শুধু আপনার নিজের বসানোর জন্য। কেউ নিজেকে ফেসবুকের কর্মী পরিচয় দিয়ে কোড চাইলেও দেবেন না। ফেসবুক মেসেজ বা ফোন করে কারো কাছে লগইন কোড চায় না। কোড হাতে পেলে যে কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকে যেতে পারে।

মেসেজের কোড আসতে দেরি হলে আগে নেটওয়ার্ক সংযোগ দেখুন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার কোড পাঠানোর অপশন ব্যবহার করুন। বারবার চেষ্টা করলে সাময়িকভাবে কোড পাঠানো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাই ভালো। অ্যাপের কোড মিলছে না এমন হলে দেখুন কোডটি মেয়াদ পার হয়ে গেছে কি না। পর্দায় নতুন কোড আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করে সেটি বসান।

আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো ফোন বদলানোর পর পুরোনো অ্যাপের কোড কাজ না করা। নতুন ফোনে অ্যাপ নতুন করে সেটআপ করতে হয়। পুরোনো ফোন হাতে থাকলে লগইন করা অবস্থায় সেটিংসে গিয়ে অ্যাপ পদ্ধতিটি নতুন ফোনে আবার যুক্ত করে নিন। পুরোনো ফোন না থাকলে রিকভারি কোড দিয়ে ঢুকে নতুন করে সেটআপ করুন।

শেষ ভুলটি হলো একটি মাত্র পদ্ধতির ওপর ভরসা করে থাকা। সম্ভব হলে অ্যাপের পাশাপাশি মেসেজ পদ্ধতিটিও যোগ করে রাখুন। তাহলে একটি পদ্ধতি কাজ না করলে অন্যটি দিয়ে লগইন করা যাবে। তবে যোগ করা নম্বরটি যেন আপনার নিজের ও সচল হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

সারসংক্ষেপ

দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করা পাঁচ থেকে সাত মিনিটের কাজ। পথটি হলো সেটিংস, অ্যাকাউন্ট সেন্টার, পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা, তারপর দুই ধাপের যাচাইকরণ। পদ্ধতি হিসেবে অথেনটিকেটর অ্যাপ ব্যবহার করলে সুরক্ষা সবচেয়ে শক্ত হয়। আর সেটআপ শেষে রিকভারি কোড সংরক্ষণ করাটাই এই পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে জরুরি অংশ। এই দুটি কাজ ঠিকমতো হলে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও অ্যাকাউন্ট আপনার হাতেই থাকবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রতিবার লগইন করলেই কি কোড বসাতে হবে?

না। কোড চাওয়া হয় মূলত অপরিচিত ব্রাউজার বা নতুন ডিভাইস থেকে লগইনের সময়। নিজের নিয়মিত ব্যবহারের ফোন বা কম্পিউটারে সাধারণত প্রতিবার কোড লাগে না।

অথেনটিকেটর অ্যাপ না থাকলে কী করব?

মেসেজ পদ্ধতিটি বেছে নিন। আপনার মোবাইল নম্বরে কোড পাঠিয়ে সেটআপ সম্পন্ন করা যাবে। পরে যেকোনো সময় অ্যাপ পদ্ধতিও যোগ করা যায়।

ফোন হারিয়ে গেলে অ্যাকাউন্টে ঢুকব কীভাবে?

সংরক্ষিত রিকভারি কোড দিয়ে লগইন করা যাবে। কোড না থাকলে অন্য ডিভাইসে লগইন থাকা অবস্থা থেকে নতুন পদ্ধতি যোগ করতে হবে। তাই কোড সংরক্ষণ করা এত জরুরি।

রিকভারি কোড শেষ হয়ে গেলে কী হবে?

সেটিংসে গিয়ে নতুন কোডের সেট তৈরি করে নেওয়া যায়। নতুন সেট তৈরি হলে পুরোনো অব্যবহৃত কোডগুলো আর কাজ করে না। নতুন কোডগুলো আবার নিরাপদে লিখে রাখুন।

সেটিংসে অপশনগুলোর নাম কিছুটা আলাদা দেখাচ্ছে কেন?

অ্যাপের সংস্করণ ও ডিভাইসভেদে মেনুর নামে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। নাম যাই হোক, পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা অংশের ভেতরেই দুই ধাপের যাচাইকরণ অপশনটি পাবেন।