আপনি কি নিজের একটি ওয়েবসাইট বানানোর কথা ভাবছেন? দারুণ ব্যাপার! কিন্তু ওয়েবসাইট বানানোর কথা ভাবলেই আমাদের মাথায় দুটো শব্দ আসে ডোমেইন এবং হোস্টিং। ডোমেইন মানে তো ওয়েবসাইটের নাম, কিন্তু এই হোস্টিং কি? এটা কেন এত জরুরি? ভাবুন তো, আপনি একটা সুন্দর বাড়ি বানালেন, কিন্তু বাড়িটা বানানোর জন্য আপনার তো এক টুকরো জমি দরকার, তাই না? ওয়েব হোস্টিং হলো আপনার ওয়েবসাইটের জন্য সেই অনলাইন জমি। এই জমিতেই আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত ফাইল, ছবি, লেখা সবকিছু জমা থাকে, যাতে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে মানুষ আপনার ওয়েবসাইটটি দেখতে পারে। এই আর্টিকেলে আমরা হোস্টিংয়ের জগৎটাকে একদম সহজ ভাষায় বুঝব এবং জানব হোস্টিং কত প্রকার ও কি কি, যাতে আপনি আপনার স্বপ্নের ওয়েবসাইটের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
হোস্টিং কি? (What is Hosting?) – একটি সহজ উদাহরণ সহ বিস্তারিত আলোচনা
চলুন, হোস্টিংয়ের ধারণাটা আরও সহজ করে বোঝার চেষ্টা করি। মনে করুন, আপনার একটি দোকান আছে।
- আপনার দোকানের নাম: এটা হলো আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম (যেমন, https://www.raozanit.com/)।
- আপনার দোকানের জিনিসপত্র (পণ্য): এগুলো হলো আপনার ওয়েবসাইটের ফাইল, যেমন – লেখা, ছবি, ভিডিও, কোড ইত্যাদি।
- দোকান বানানোর জায়গাটি: এটাই হলো আপনার ওয়েব হোস্টিং।
ঠিক যেমন আপনার দোকানটি একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় থাকে এবং ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলে ক্রেতারা যেকোনো সময় আসতে পারে, তেমনি হোস্টিং আপনার ওয়েবসাইটকে একটি সার্ভারে (যা একটি শক্তিশালী, সবসময় চালু থাকা কম্পিউটার) জমা রাখে। এই সার্ভারটি ২৪/৭ ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকে। যখন कोई ব্যবহারকারী আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা (ডোমেইন) তার ব্রাউজারে লেখে, তখন ইন্টারনেট সেই সার্ভার থেকে আপনার ওয়েবসাইটের ফাইলগুলো ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে দেখিয়ে দেয়।
ডিজিটাল মার্কেটিং কি? A-Z গাইডলাইন ও এর প্রয়োজনীয়তা
সহজ কথায়, হোস্টিং কিভাবে কাজ করে?
১. আপনি একটি হোস্টিং কোম্পানির কাছ থেকে তাদের সার্ভারে কিছু জায়গা ভাড়া নেন।
২. আপনি আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত ডেটা (ছবি, লেখা, ফাইল) সেই ভাড়াকৃত জায়গায় আপলোড করেন।
৩. যখন কেউ আপনার ডোমেইন নেম (https://www.raozanmart.com/) ব্রাউজারে টাইপ করে, তখন ব্রাউজার সেই সার্ভারকে একটি অনুরোধ পাঠায়।
৪. সার্ভার অনুরোধটি গ্রহণ করে এবং ওয়েবসাইটের ফাইলগুলো সেই ব্যবহারকারীর কাছে পাঠিয়ে দেয়। আর এভাবেই আপনার ওয়েবসাইটটি তার স্ক্রিনে লোড হয়ে যায়।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যায়। তাই, একটি ভালো ও নির্ভরযোগ্য হোস্টিং সার্ভিস থাকা অত্যন্ত জরুরি। যদি আপনার হোস্টিং সার্ভার স্লো বা বন্ধ থাকে, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটও স্লো হয়ে যাবে অথবা কেউ দেখতেই পাবে না। এতে আপনার ব্যবসার অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে। একটি ভালো হোস্টিং সার্ভিস আপনার ওয়েবসাইটের স্পিড, নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে, যা গুগলে ভালো র্যাঙ্ক করার জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই, ডোমেইন এবং হোস্টিং কি এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝা যেকোনো ওয়েবসাইট মালিকের জন্য প্রথম এবং প্রধান ধাপ। আপনার ওয়েবসাইটের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করে সঠিক হোস্টিং প্ল্যান বেছে নেওয়ার উপর।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রধান প্রকারভেদ: সম্পূর্ণ গাইডলাইন (বাস্তব উদাহরণসহ)
হোস্টিং কত প্রকার ও কি কি? (আপনার জন্য কোনটি সেরা?)
বাজারে বিভিন্ন ধরণের হোস্টিং পাওয়া যায়। প্রত্যেকটির সুবিধা-অসুবিধা এবং দাম আলাদা। আপনার ওয়েবসাইটের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক হোস্টিং বেছে নেওয়াটা জরুরি। চলুন, সবচেয়ে জনপ্রিয় হোস্টিং প্রকারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
১. শেয়ার্ড হোস্টিং (Shared Hosting)

শেয়ার্ড হোস্টিং কি? শেয়ার্ড হোস্টিং হলো নতুনদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী একটি অপশন। এর নাম থেকেই বোঝা যায়, এখানে একটি সার্ভারের রিসোর্স (যেমন: র্যাম, সিপিইউ, স্পেস) অনেকগুলো ওয়েবসাইট মিলে শেয়ার বা ভাগ করে ব্যবহার করে।
- উদাহরণ: ভাবুন, আপনি একটি বড় অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। এখানে আপনি বিল্ডিংয়ের মূল সুবিধাগুলো (যেমন: লিফট, সিঁড়ি, পানি) অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সাথে ভাগ করে ব্যবহার করেন। এতে আপনার খরচ অনেক কমে যায়। শেয়ার্ড হোস্টিংও ঠিক তেমনই।
সুবিধা:
- খুব সাশ্রয়ী: এটি সবচেয়ে সস্তা হোস্টিং প্ল্যান। হোস্টিং এর দাম অনেক কম হওয়ায় নতুনরা সহজেই শুরু করতে পারেন।
- ব্যবহার করা সহজ: হোস্টিং কোম্পানিগুলো cPanel (কন্ট্রোল প্যানেল) দেয়, যা দিয়ে খুব সহজে ওয়েবসাইট ম্যানেজ করা যায়। টেকনিক্যাল জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না।
- ম্যানেজমেন্টের চিন্তা নেই: সার্ভারের রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং আপডেট সংক্রান্ত সব কাজ হোস্টিং কোম্পানিই করে থাকে।
অসুবিধা:
- সীমিত রিসোর্স: যেহেতু একটি সার্ভার অনেকে মিলে ব্যবহার করেন, তাই আপনার ওয়েবসাইট খুব বেশি রিসোর্স ব্যবহার করতে পারে না।
- গতি কম হতে পারে: যদি একই সার্ভারে থাকা অন্য কোনো ওয়েবসাইটে হঠাৎ করে অনেক বেশি ভিজিটর আসে, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের গতি কমে যেতে পারে (একে “Noisy Neighbor Effect” বলে)।
- নিরাপত্তা ঝুঁকি: যদিও কোম্পানিগুলো নিরাপত্তা দেয়, তবুও একই সার্ভারে থাকা অন্য কোনো ওয়েবসাইট হ্যাক হলে আপনার সাইটেও তার প্রভাব পড়ার একটি ক্ষীণ ঝুঁকি থাকে।
- কাস্টমাইজেশন সীমিত: আপনি সার্ভারে নিজের ইচ্ছামতো সফটওয়্যার ইনস্টল বা কনফিগারেশন পরিবর্তন করতে পারবেন না।
কাদের জন্য সেরা? নতুনদের জন্য হোস্টিং গাইড হিসেবে বলতে গেলে, যারা প্রথমবার ওয়েবসাইট তৈরি করছেন, ব্যক্তিগত ব্লগ, ছোট ব্যবসার ওয়েবসাইট বা পোর্টফোলিও সাইটের জন্য শেয়ার্ড হোস্টিং সবচেয়ে সেরা পছন্দ।
অফ পেজ এসইও কি এবং অফ পেজ এসইও করার নিয়ম (A-Z সম্পূর্ণ গাইডলাইন)
২. ভিপিএস হোস্টিং (VPS Hosting)

ভিপিএস হোস্টিং কি? VPS এর পূর্ণরূপ হলো Virtual Private Server। এটি শেয়ার্ড হোস্টিং এবং ডেডিকেটেড হোস্টিংয়ের মাঝামাঝি একটি ধাপ। এখানেও একটি মূল সার্ভারকে 여러 ভাগে ভাগ করা হয়, কিন্তু প্রতিটি ভাগ একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন বা প্রাইভেট সার্ভারের মতো কাজ করে।
- উদাহরণ: এবার ভাবুন, আপনি অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের বদলে একটি ডুপ্লেক্স বাড়িতে থাকেন। এখানে আপনার নিজস্ব জায়গা, দরজা এবং সুবিধাগুলো একান্তই আপনার, যদিও আপনি একটি বড় কাঠামোর অংশ। অন্য বাসিন্দাদের কার্যক্রম আপনার উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
সুবিধা:
- ডেডিকেটেড রিসোর্স: আপনার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ র্যাম, সিপিইউ এবং স্টোরেজ বরাদ্দ থাকে, যা অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারে না।
- বেশি নিয়ন্ত্রণ: আপনি সার্ভারে রুট অ্যাক্সেস (Root Access) পান। এর মানে, আপনি নিজের ইচ্ছামতো অপারেটিং সিস্টেম এবং সফটওয়্যার ইনস্টল করতে পারেন।
- উন্নত পারফরম্যান্স ও নিরাপত্তা: শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি গতি এবং উন্নত নিরাপত্তা পাওয়া যায়।
- স্কেলেবিলিটি: আপনার ওয়েবসাইটের ট্র্যাফিক বাড়লে আপনি সহজেই আপনার রিসোর্স (র্যাম, সিপিইউ) বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
অসুবিধা:
- দাম বেশি: শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের চেয়ে এর দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।
- টেকনিক্যাল জ্ঞান প্রয়োজন: সার্ভার পরিচালনার জন্য কিছুটা টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকা দরকার। যদিও অনেক কোম্পানি ম্যানেজড ভিপিএস হোস্টিংও অফার করে, যেখানে তারা সব ম্যানেজ করে দেয়, কিন্তু তার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হয়।
কাদের জন্য সেরা? যেসব ওয়েবসাইট শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের সীমাবদ্ধতা পার করে ফেলেছে, অর্থাৎ যাদের ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক বাড়তে শুরু করেছে, ই-কমার্স সাইট, ডেভেলপার এবং যারা সার্ভারের উপর বেশি নিয়ন্ত্রণ চান, তাদের জন্য কোন হোস্টিং ভালো এই প্রশ্নের উত্তর হলো ভিপিএস হোস্টিং।
৩. ডেডিকেটেড হোস্টিং (Dedicated Hosting)

ডেডিকেটেড হোস্টিং কি? নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, এখানে পুরো একটি ফিজিক্যাল সার্ভার শুধুমাত্র আপনার একার ওয়েবসাইটের জন্য বরাদ্দ থাকে। এর সমস্ত রিসোর্স এবং ক্ষমতার একমাত্র মালিক আপনি।
- উদাহরণ: এটা হলো আপনার নিজের একটি বাড়ি কিনে নেওয়ার মতো। বাড়ির প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা আপনার, আপনি একে যেভাবে খুশি সাজাতে পারেন, ব্যবহার করতে পারেন। কোনো প্রতিবেশী বা অংশীদার নেই।
সুবিধা:
- সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স: যেহেতু আপনিই সার্ভারের একমাত্র ব্যবহারকারী, তাই আপনার ওয়েবসাইট অবিশ্বাস্য গতি এবং পারফরম্যান্স পায়।
- সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: সার্ভারের হার্ডওয়্যার থেকে শুরু করে অপারেটিং সিস্টেম পর্যন্ত সবকিছুর উপর আপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে।
- সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: আপনার সার্ভারে অন্য কোনো ওয়েবসাইট না থাকায় নিরাপত্তার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। আপনি নিজের মতো করে সিকিউরিটি সিস্টেম তৈরি করতে পারেন।
- হাই ট্র্যাফিক সামলানোর ক্ষমতা: প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ভিজিটর আসে এমন বড় ওয়েবসাইটগুলো সহজেই পরিচালনা করা যায়।
অসুবিধা:
- অনেক ব্যয়বহুল: এটি সবচেয়ে দামী হোস্টিং প্ল্যান।
- বিশেষজ্ঞ জ্ঞান প্রয়োজন: সার্ভার পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একজন দক্ষ সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বা টেকনিক্যাল টিমের প্রয়োজন হয়।
কাদের জন্য সেরা? বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, হাই-ট্র্যাফিক ই-কমার্স সাইট (যেমন: Amazon, Daraz), ব্যাংক, সরকারি ওয়েবসাইট এবং যেসব অ্যাপ্লিকেশনের জন্য সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স ও নিরাপত্তা প্রয়োজন, তাদের জন্য ডেডিকেটেড হোস্টিং সেরা।
৪. ক্লাউড হোস্টিং (Cloud Hosting)

ক্লাউড হোস্টিং কি? ক্লাউড হোস্টিং একটি আধুনিক এবং শক্তিশালী প্রযুক্তি। এখানে আপনার ওয়েবসাইট একটি মাত্র সার্ভারে হোস্ট না হয়ে, একাধিক সার্ভারের একটি নেটওয়ার্কে (ক্লাস্টার) হোস্ট করা হয়। যদি কোনো একটি সার্ভার ডাউন হয়ে যায়, অন্য সার্ভারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ওয়েবসাইটকে সচল রাখে।
- উদাহরণ: ভাবুন, আপনার দোকানটি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় না হয়ে, একটি বিশাল নেটওয়ার্কের অংশ। যদি কোনো কারণে একটি রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, ক্রেতারা অন্য রাস্তা দিয়ে সহজেই আপনার দোকানে পৌঁছাতে পারবে। আপনার দোকানের কার্যক্রম কখনোই বন্ধ হবে না।
সুবিধা:
- সর্বোচ্চ আপটাইম (Reliability): সার্ভার ডাউন হওয়ার ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে। আপনার ওয়েবসাইট প্রায় ৯৯.৯৯% সময় অনলাইনে থাকে।
- অসাধারণ স্কেলেবিলিটি: আপনার ওয়েবসাইটে হঠাৎ ট্র্যাফিক বেড়ে গেলে (যেমন: কোনো ক্যাম্পেইনের সময়) ক্লাউড হোস্টিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও বেশি রিসোর্স সরবরাহ করে। ট্র্যাফিক কমে গেলে রিসোর্সও কমে যায়।
- পে-অ্যাজ-ইউ-গো মডেল: আপনাকে নির্দিষ্ট প্ল্যানের জন্য টাকা দিতে হয় না। আপনি ঠিক যতটুকু রিসোর্স ব্যবহার করবেন, শুধু ততটুকুর জন্যই বিল দেবেন।
- উচ্চ গতি: অনেকগুলো সার্ভার একসাথে কাজ করায় ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড অনেক ভালো থাকে।
অসুবিধা:
- খরচ বোঝা কঠিন: পে-অ্যাজ-ইউ-গো মডেলের কারণে মাসের শেষে বিল কত আসবে, তা আগে থেকে অনুমান করা কিছুটা কঠিন।
- জটিলতা: কিছু ক্ষেত্রে এর কনফিগারেশন শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের চেয়ে জটিল হতে পারে।
কাদের জন্য সেরা? যেসব ওয়েবসাইটের ট্র্যাফিক যেকোনো সময় অনেক বাড়তে বা কমতে পারে, বড় নিউজ পোর্টাল, অ্যাপ্লিকেশন, SaaS প্রজেক্ট এবং যারা কোনোভাবেই ওয়েবসাইট ডাউন দেখতে চান না, তাদের জন্য ক্লাউড হোস্টিং একটি আদর্শ সমাধান। Google এবং Amazon Web Services (AWS) এই ধরনের হোস্টিংয়ের বড় উদাহরণ।
৫. অন্যান্য জনপ্রিয় হোস্টিং
উপরে আলোচিত প্রকারগুলো ছাড়াও আরও কিছু বিশেষায়িত হোস্টিং সার্ভিস রয়েছে।
- ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং (WordPress Hosting): এই হোস্টিং বিশেষভাবে WordPress ওয়েবসাইটগুলোর জন্য তৈরি করা হয়। সার্ভারটি ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য অপটিমাইজ করা থাকে, ফলে সাইটের গতি, নিরাপত্তা এবং পারফরম্যান্স অনেক ভালো হয়। যারা ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার অপশন।
- রিসেলার হোস্টিং (Reseller Hosting): এর মাধ্যমে আপনি একটি বড় হোস্টিং প্ল্যান কিনে তা ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে অন্যদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। যারা নিজেরা ওয়েব হোস্টিং ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।
কিভাবে সঠিক হোস্টিং প্ল্যান বেছে নেবেন?
এতগুলো অপশন দেখে দ্বিধায় পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। সেরা ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস বেছে নেওয়ার জন্য নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করুন:
১. আপনার ওয়েবসাইটের ধরণ: আপনার ওয়েবসাইটটি কি একটি সাধারণ ব্লগ, নাকি একটি ই-কমার্স সাইট? একটি ব্লগের জন্য শেয়ার্ড হোস্টিংই যথেষ্ট, কিন্তু একটি ই-কমার্স সাইটের জন্য ভিপিএস বা ক্লাউড হোস্টিং প্রয়োজন।
২. বাজেট: আপনার বাজেট কত? শুরুতে কম বাজেট থাকলে শেয়ার্ড হোস্টিং দিয়ে শুরু করুন। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী আপগ্রেড করে নিতে পারবেন। হোস্টিং এর দাম একটি বড় ফ্যাক্টর।
৩. প্রত্যাশিত ট্র্যাফিক: আপনি আপনার ওয়েবসাইটে মাসে কতজন ভিজিটর আশা করছেন? কম ট্র্যাফিকের জন্য শেয়ার্ড হোস্টিং ঠিক আছে, কিন্তু বেশি ট্র্যাফিকের জন্য ভিপিএস বা ক্লাউড হোস্টিংয়ের দিকে যেতে হবে।
৪. টেকনিক্যাল জ্ঞান: আপনি কি সার্ভার ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে জানেন? যদি না জানেন, তাহলে ম্যানেজড হোস্টিং (যেখানে কোম্পানি সব সামলায়) আপনার জন্য ভালো হবে, যেমন শেয়ার্ড বা ম্যানেজড ভিপিএস হোস্টিং।
৫. আপটাইম এবং সাপোর্ট: সবসময় এমন কোম্পানি বেছে নিন যারা ৯৯.৯% আপটাইম গ্যারান্টি দেয়। এছাড়াও তাদের কাস্টমার সাপোর্ট (যেমন: লাইভ চ্যাট, ফোন) ২৪/৭ পাওয়া যায় কিনা তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে Namecheap বা Hostinger এর মতো জনপ্রিয় কোম্পানির রিভিউ দেখতে পারেন। বাংলাদেশে সেরা হোস্টিং প্রোভাইডার খোঁজার সময়ও এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন।
উপসংহার
আশা করি, হোস্টিং কি এবং হোস্টিং কত প্রকার ও কি কি এই বিষয়ে আপনার ধারণা এখন পুরোপুরি স্পষ্ট। হোস্টিং হলো আপনার ওয়েবসাইটের ভিত্তি। একটি মজবুত ভিত্তির উপরই একটি সফল ওয়েবসাইট গড়ে ওঠে। আপনার প্রয়োজন এবং বাজেট অনুযায়ী সঠিক হোস্টিং প্ল্যান বেছে নেওয়া আপনার অনলাইন যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। তাড়াহুড়ো না করে, প্রতিটি প্ল্যানের সুবিধা-অসুবিধা ভালোভাবে বুঝে আপনার স্বপ্নের ওয়েবসাইটের জন্য সেরা “জমি” নির্বাচন করুন। আপনার ওয়েবসাইট তৈরির এই রোমাঞ্চকর যাত্রার জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা! আপনার কোনো প্রশ্ন বা অভিজ্ঞতা থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন।
সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQ Section)
প্রশ্ন ১: হোস্টিং এবং ডোমেইনের মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর: ডোমেইন হলো আপনার ওয়েবসাইটের নাম বা ঠিকানা (যেমন: https://www.raozannews.com), যা মানুষ ব্রাউজারে টাইপ করে। আর হোস্টিং হলো সেই অনলাইন জায়গা বা সার্ভার, যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত ফাইল জমা থাকে।
প্রশ্ন ২: আমি কি ফ্রি হোস্টিং ব্যবহার করতে পারি?
উত্তর: শেখার জন্য বা পরীক্ষা করার জন্য ফ্রি হোস্টিং ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো পেশাদার বা বাণিজ্যিক ওয়েবসাইটের জন্য ফ্রি হোস্টিং ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে অনেক সীমাবদ্ধতা, কম নিরাপত্তা এবং স্লো স্পিড থাকে।
প্রশ্ন ৩: হোস্টিং কিনতে কি কি লাগে?
উত্তর: হোস্টিং কেনার জন্য আপনার একটি ডোমেইন নেম (যদিও অনেক কোম্পানি হোস্টিংয়ের সাথে ফ্রি ডোমেইন অফার করে) এবং পেমেন্ট করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় পেমেন্ট মাধ্যম (যেমন: ক্রেডিট কার্ড, পেপ্যাল, বা মোবাইল ব্যাংকিং) প্রয়োজন হবে।
প্রশ্ন ৪: SSD হোস্টিং কি ভালো?
উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই। SSD (Solid State Drive) হোস্টিং সাধারণ HDD (Hard Disk Drive) হোস্টিংয়ের চেয়ে প্রায় ২০ গুণ দ্রুতগতিতে ডেটা প্রসেস করে। এটি আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড অনেক বাড়িয়ে দেয়, যা ব্যবহারকারী এবং গুগল র্যাঙ্কিং উভয়ের জন্যই ভালো।
প্রশ্ন ৫: ব্যান্ডউইথ এবং স্টোরেজ কি?
উত্তর: স্টোরেজ হলো আপনার হোস্টিং অ্যাকাউন্টে ফাইল (ছবি, ভিডিও, লেখা) রাখার জন্য মোট জায়গা। আর ব্যান্ডউইথ হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনার সার্ভার থেকে ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে মোট কতটুকু ডেটা আদান-প্রদান হতে পারবে তার পরিমাণ।
প্রশ্ন ৬: কোন দেশের হোস্টিং সার্ভার কেনা উচিত?
উত্তর: আপনার ওয়েবসাইটের টার্গেট অডিয়েন্স বা ভিজিটররা যে দেশে বাস করেন, সেই দেশের কাছাকাছি লোকেশনের সার্ভার কেনা উচিত। যেমন, আপনার ভিজিটর যদি মূলত বাংলাদেশের হয়, তাহলে এশিয়া বা বাংলাদেশের কাছাকাছি কোনো ডেটাসেন্টার বেছে নিলে ওয়েবসাইটের গতি ভালো পাওয়া যাবে।
