আপনি কি অনেক কষ্ট করে, সময় দিয়ে চমৎকার একটি আর্টিকেল লিখছেন কিন্তু সেটি গুগল সার্চের প্রথম পাতায় আসছে না? হাজার হাজার ওয়েবসাইট মালিক এবং ব্লগার প্রতিদিন এই সমস্যার মুখোমুখি হন। তারা ভাবেন, হয়তো তাদের কন্টেন্ট যথেষ্ট ভালো নয়। কিন্তু আসল কারণটা হতে পারে অন্য কিছু। এর পেছনের মূল কারণ হলো অন পেজ এসইও এর সঠিক প্রয়োগ না করা। ভাবুন তো, আপনার দোকানের জিনিসপত্র খুব ভালো, কিন্তু দোকানটা যদি সাজানো-গোছানো না থাকে, তাহলে কি ক্রেতা আসবে?
ঠিক তেমনি, আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট যতই ভালো হোক না কেন, সার্চ ইঞ্জিনের জন্য একে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারলে ভালো র্যাঙ্কিং পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এই আর্টিকেলে আমরা সহজ ভাষায় জানবো অন পেজ এসইও কি, কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে আপনি নিজের ওয়েবসাইটের জন্য ধাপে ধাপে On Page SEO করে গুগল র্যাঙ্কিং-এ শীর্ষে যেতে পারেন।
অন পেজ এসইও কি এবং কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ? (What is On-Page SEO and Why is it so Important?)

অন পেজ এসইও হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের সেই অংশ, যেখানে আমরা একটি ওয়েবসাইটের ভেতরের বিভিন্ন উপাদানকে (যেমন – কন্টেন্ট, টাইটেল, ইমেজ, হেডিং) এমনভাবে সাজাই বা অপটিমাইজ করি, যাতে গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন সহজেই বুঝতে পারে আমাদের ওয়েবপেজটি কোন বিষয়ের উপর তৈরি। যখন সার্চ ইঞ্জিন আপনার পেজকে ভালোভাবে বুঝতে পারবে, তখন নির্দিষ্ট কীওয়ার্ডের জন্য সার্চ রেজাল্টে আপনার পেজকে দেখানো তার জন্য সহজ হয়ে যাবে।
আমার দশ বছরের বেশি এসইও ক্যারিয়ারে আমি দেখেছি, অনেকেই শুধু ব্যাকলিংক (Off Page SEO) তৈরির পেছনে ছোটেন, কিন্তু নিজের ঘরের দিকে, অর্থাৎ On Page SEO-এর দিকে মনোযোগ দেন না। ফলাফল? র্যাঙ্কিং-এ তেমন কোনো উন্নতি হয় না। মনে রাখবেন, একটি শক্তিশালী দালানের জন্য যেমন মজবুত ভিত্তি দরকার, তেমনি ভালো র্যাঙ্কিং এর জন্য একটি নিখুঁত On Page SEO ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
অফ পেজ এসইও কি এবং অফ পেজ এসইও করার নিয়ম (A-Z সম্পূর্ণ গাইডলাইন)
সহজ ভাষায় অন পেজ এসইও (On-Page SEO in Simple Terms)
আসুন একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝি। ধরুন, আপনি একটি লাইব্রেরিতে একটি নির্দিষ্ট বই খুঁজতে গেছেন। যদি বইগুলোর উপর কোনো নাম বা লেবেল না লাগানো থাকে এবং সেগুলো এলোমেলোভাবে রাখা থাকে, তাহলে আপনার বইটি খুঁজে পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাবে, এমনকি আপনি হয়তো খুঁজেও পাবেন না।
কিন্তু যদি প্রতিটি বইয়ের উপর তার নাম, লেখকের নাম লেখা থাকে এবং সেগুলো বিষয় অনুযায়ী আলাদা আলাদা শেলফে সাজানো থাকে, তাহলে আপনি খুব সহজেই আপনার কাঙ্ক্ষিত বইটি খুঁজে পাবেন।
এখানে, লাইব্রেরি হলো গুগল, বইগুলো হলো আপনার ওয়েবপেজ এবং বইগুলোকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখার প্রক্রিয়াটিই হলো অন পেজ এসইও। এর মাধ্যমে আমরা গুগলকে সিগন্যাল দিই যে, আমাদের এই পেজটি ‘ক’ বিষয়ের উপর এবং এখানে এই সম্পর্কিত তথ্য আছে। ফলে, যখন কোনো ব্যবহারকারী ‘ক’ লিখে সার্চ করে, গুগল সহজেই আপনার পেজটিকে তার সামনে তুলে ধরে। এটি ব্যবহারকারী এবং সার্চ ইঞ্জিন উভয়ের জন্যই আপনার কন্টেন্টকে সহজবোধ্য করে তোলে।
অন পেজ বনাম অফ পেজ এসইও: মূল পার্থক্য (On-Page vs. Off-Page SEO: The Key Difference)
এসইও-কে মূলত দুটি বড় ভাগে ভাগ করা হয়:
- On-Page SEO: এর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ আপনার হাতে। আপনার ওয়েবসাইটের ভেতরে যা কিছু পরিবর্তন বা অপটিমাইজ করা হয়, যেমন – আর্টিকেল লেখা, টাইটেল ঠিক করা, ইমেজ অপটিমাইজ করা, ইন্টারনাল লিংক যোগ করা ইত্যাদি, সবকিছুই অন পেজ এসইও-এর অন্তর্ভুক্ত।
- Off-Page SEO: এর নিয়ন্ত্রণ সরাসরি আপনার হাতে থাকে না। আপনার ওয়েবসাইটের বাইরে থেকে এর জনপ্রিয়তা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য যা কিছু করা হয়, যেমন – অন্য ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক আনা, সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করা, গেস্ট পোস্টিং করা ইত্যাদি অফ পেজ এসইও-এর অংশ।
সহজ কথায়, অন পেজ এসইও হলো আপনার বাড়িকে সুন্দর করে সাজানো, আর অফ পেজ এসইও হলো প্রতিবেশীদের কাছে আপনার বাড়ির সুনাম করা। ভালো ফলাফলের জন্য দুটোই সমানভাবে জরুরি, কিন্তু শুরুটা সবসময় অন পেজ এসইও দিয়েই করতে হয়। আপনার নিজের সাইট যদি ঠিক না থাকে, তাহলে হাজারটা ব্যাকলিংকও খুব বেশি কাজে আসবে না।
কেন আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য On-Page SEO অপরিহার্য? (Why is On-Page SEO essential for your website?)
- সার্চ ইঞ্জিন র্যাঙ্কিং বৃদ্ধি: সঠিক On-Page SEO ফ্যাক্টর প্রয়োগ করলে গুগল আপনার কন্টেন্টের বিষয়বস্তু সহজে বুঝতে পারে। ফলে, প্রাসঙ্গিক সার্চের জন্য আপনার র্যাঙ্কিং উন্নত হয়।
- অর্গানিক ট্রাফিক বৃদ্ধি: যখন আপনার ওয়েবসাইট গুগলের প্রথম পাতায় র্যাঙ্ক করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার সাইটে ভিজিটর বা ট্রাফিক বাড়তে থাকে। Ahrefs এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, গুগলের প্রথম রেজাল্টটি প্রায় ২৮.৫% ক্লিক পায়।
- ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা (User Experience) উন্নত করে: অন পেজ এসইও শুধু সার্চ ইঞ্জিনের জন্য নয়, এটি ব্যবহারকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুগঠিত, দ্রুত লোডিং এবং সহজে পাঠযোগ্য পেজ ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করে এবং তারা আপনার সাইটে বেশি সময় ধরে থাকে।
- ক্লিক-থ্রু-রেট (CTR) বাড়ায়: একটি আকর্ষণীয় এবং প্রাসঙ্গিক টাইটেল ট্যাগ ও মেটা ডেসক্রিপশন সার্চ রেজাল্টে আপনার পেজের ক্লিক পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
- বিশ্বাসযোগ্যতা ও কর্তৃত্ব (Trust and Authority) তৈরি করে: একটি পেশাদার, তথ্যবহুল এবং ভালোভাবে অপটিমাইজ করা ওয়েবসাইট ব্যবহারকারী এবং সার্চ ইঞ্জিন উভয়ের কাছেই আপনার ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। যখন আপনি ধারাবাহিকভাবে মানসম্মত কন্টেন্ট প্রদান করেন, তখন গুগল আপনাকে ওই বিষয়ের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে।
কিভাবে On-Page SEO করবেন: সবচেয়ে কার্যকরী ফ্যাক্টরগুলো (How to Do On-Page SEO: The Most Effective Factors)
এখন আমরা সেই মূল আলোচনায় প্রবেশ করব, যার জন্য আপনি অপেক্ষা করছেন। কিভাবে On-Page SEO করবেন? নিচে আমি একটি বিস্তারিত On-Page SEO checklist বাংলা আকারে ধাপে ধাপে বর্ণনা করছি। এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে আপনি যেকোনো পেজকে সহজেই অপটিমাইজ করতে পারবেন।
কন্টেন্টই রাজা: কোয়ালিটি কন্টেন্ট তৈরি (Content is King: Creating Quality Content)
যেকোনো এসইও কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হলো কন্টেন্ট। আপনি অন্য সব ফ্যাক্টর নিখুঁতভাবে করলেও, আপনার কন্টেন্ট যদি দুর্বল, অসম্পূর্ণ বা নকল হয়, তাহলে আপনি কখনোই র্যাঙ্ক করতে পারবেন না। গুগলের E-E-A-T (Experience, Expertise, Authoritativeness, Trustworthiness) গাইডলাইন অনুযায়ী মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরি করুন।
- ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য বুঝুন (Understand User Intent): একজন ব্যবহারকারী যখন একটি কীওয়ার্ড লিখে সার্চ করে, তখন সে আসলে কী জানতে চায়? সে কি কোনো তথ্য খুঁজছে (Informational), কিছু কিনতে চায় (Transactional), নাকি কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে যেতে চায় (Navigational)? আপনার কন্টেন্ট যেন ব্যবহারকারীর এই উদ্দেশ্য পূরণ করে।
- গভীর এবং বিস্তারিত তথ্য দিন: আপনার আর্টিকেলটি যেন വിഷയ উপর একটি সম্পূর্ণ সমাধান দেয়। শুধু উপর উপর আলোচনা না করে, গভীরে যান। ডেটা, পরিসংখ্যান, উদাহরণ এবং কেস স্টাডি ব্যবহার করে আপনার বক্তব্যকে সমর্থন করুন। যেমন, এই আর্টিকেলে আমি প্রায় ৩০০০ শব্দ ব্যবহার করে অন পেজ এসইও-এর প্রতিটি দিক তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
- সহজ ভাষায় লিখুন: এমনভাবে লিখুন যেন একজন ক্লাস ৫ এর ছাত্রও আপনার লেখা পড়ে বুঝতে পারে। জটিল শব্দ এবং লম্বা বাক্য পরিহার করুন। ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ এবং বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করে কন্টেন্টকে আকর্ষণীয় করে তুলুন।
- ইউনিক এবং কপি-মুক্ত কন্টেন্ট: কখনোই অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে কন্টেন্ট কপি করবেন না। গুগল এটা সহজেই ধরে ফেলে এবং আপনার সাইটকে প্যানাল্টি দিতে পারে। নিজের অভিজ্ঞতা এবং গবেষণার উপর ভিত্তি করে ইউনিক কন্টেন্ট তৈরি করুন। আপনি Copyscape এর মতো টুল ব্যবহার করে আপনার লেখা চেক করে নিতে পারেন।
টাইটেল ট্যাগ এবং মেটা ডেসক্রিপশন অপটিমাইজেশন (Title Tag and Meta Description Optimization)
টাইটেল ট্যাগ এবং মেটা ডেসক্রিপশন হলো সার্চ রেজাল্টে ব্যবহারকারীর সাথে আপনার ওয়েবসাইটের প্রথম পরিচয়। এটি আকর্ষণীয় না হলে ব্যবহারকারী আপনার লিংকে ক্লিক করবে না, vaikka আপনার র্যাঙ্কিং ভালো হয়।
- টাইটেল ট্যাগ (Title Tag):
- কীওয়ার্ড প্রথমে রাখুন: আপনার প্রধান কীওয়ার্ডটি টাইটেলের শুরুতে রাখার চেষ্টা করুন। যেমন, এই আর্টিকেলের টাইটেলে “অন পেজ এসইও কি” প্রথমে রাখা হয়েছে।
- দৈর্ঘ্য ঠিক রাখুন: টাইটেল ট্যাগ ৬০ অক্ষরের (characters) মধ্যে রাখুন, যাতে এটি সার্চ রেজাল্টে পুরোপুরি দেখা যায়।
- আকর্ষণীয় করুন: সংখ্যা (যেমন, “১০টি টিপস”), প্রশ্ন, বা পাওয়ার ওয়ার্ড (যেমন, “আল্টিমেট গাইড”, “সহজ উপায়”) ব্যবহার করে ব্যবহারকারীকে ক্লিক করতে উৎসাহিত করুন।
- উদাহরণ (খারাপ): এসইও টিপস
- উদাহরণ (ভালো): অন পেজ এসইও কি? সম্পূর্ণ গাইড (২০২৫ আপডেট)
- মেটা ডেসক্রিপশন (Meta Description):
- কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন: আপনার প্রধান কীওয়ার্ডটি মেটা ডেসক্রিপশনের মধ্যেও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করুন।
- দৈর্ঘ্য ঠিক রাখুন: মেটা ডেসক্রিপশন ১৬০ অক্ষরের মধ্যে রাখুন।
- সুবিধা তুলে ধরুন: ব্যবহারকারী আপনার লিংকে ক্লিক করলে কী পাবে বা কী শিখবে, তার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ দিন।
- কল-টু-অ্যাকশন (CTA) দিন: “এখানে জানুন”, “সম্পূর্ণ পড়ুন” – এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে ব্যবহারকারীকে ক্লিক করতে উৎসাহিত করুন।
হেডার ট্যাগ (H1, H2, H3) এর সঠিক ব্যবহার (Proper Use of Header Tags – H1, H2, H3)
হেডার ট্যাগ (H1, H2, H3, ইত্যাদি) আপনার কন্টেন্টকে একটি যৌক্তিক কাঠামো দেয়। এটি একটি বইয়ের অধ্যায় এবং উপ-অধ্যায়ের মতো কাজ করে।
- H1 ট্যাগ: প্রতিটি পেজে শুধুমাত্র একটি H1 ট্যাগ থাকবে এবং এটি আপনার পেজের প্রধান শিরোনাম বা টাইটেলের জন্য ব্যবহৃত হবে। এখানে আপনার প্রধান কীওয়ার্ডটি থাকা আবশ্যক।
- H2 ট্যাগ: আপনার কন্টেন্টের প্রধান বিভাগ বা টপিকগুলোকে H2 ট্যাগ দিয়ে ভাগ করুন। এখানে আপনার প্রধান বা সম্পর্কিত কীওয়ার্ডগুলো自然ভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
- H3 ট্যাগ: H2 ট্যাগের অধীনে থাকা উপ-বিভাগগুলোকে H3 ট্যাগ দিয়ে ভাগ করুন।
এই কাঠামোটি শুধুমাত্র ব্যবহারকারীদের জন্য পড়া সহজ করে না, বরং গুগল বটকেও আপনার কন্টেন্টের গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো বুঝতে সাহায্য করে।
ইউআরএল (URL) স্ট্রাকচার: সহজ এবং বোধগম্য (URL Structure: Simple and Understandable)
আপনার ওয়েবপেজের URL টি হওয়া উচিত ছোট, পাঠযোগ্য এবং বর্ণনামূলক। এটি ব্যবহারকারী এবং সার্চ ইঞ্জিন উভয়কেই পেজের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা দেয়।
- খারাপ URL:
https://www.yourdomain.com/index.php?p=123 - ভালো URL:
https://www.yourdomain.com/what-is-on-page-seo-guide
সেরা অভ্যাস:
- URL ছোট রাখুন।
- আপনার প্রধান কীওয়ার্ডটি URL-এ অন্তর্ভুক্ত করুন।
- শব্দগুলোকে আলাদা করতে হাইফেন (-) ব্যবহার করুন।
a, an, theএর মতো стоп ওয়ার্ডগুলো এড়িয়ে চলুন।
ইমেজ অপটিমাইজেশন এবং Alt Text (Image Optimization and Alt Text)
ছবি হাজার শব্দের সমান, কিন্তু ওয়েবসাইটের জন্য বড় আকারের ছবি পেজ লোডিং স্পিডকে অনেক কমিয়ে দিতে পারে। তাই ইমেজ অপটিমাইজেশন খুবই জরুরি।
- ইমেজ কম্প্রেস করুন: ছবি আপলোড করার আগে TinyPNG বা ShortPixel এর মতো টুল ব্যবহার করে এর ফাইল সাইজ কমিয়ে নিন, কিন্তু কোয়ালিটি ঠিক রাখুন।
- সঠিক ফাইল ফরম্যাট বেছে নিন: সাধারণত ফটোর জন্য JPEG এবং গ্রাফিক্স বা লোগোর জন্য PNG ফরম্যাট ভালো কাজ করে। WebP ফরম্যাট আরও দ্রুত লোডিং-এর জন্য একটি আধুনিক বিকল্প।
- বর্ণনামূলক ফাইলের নাম দিন:
image1.jpgএর পরিবর্তেon-page-seo-factors.jpgএর মতো বর্ণনামূলক নাম ব্যবহার করুন। - Alt Text যোগ করুন: Alt Text (Alternative Text) হলো ছবির একটি বর্ণনা। যদি কোনো কারণে ছবি লোড না হয়, তাহলে এই লেখাটি দেখা যায়। এটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের স্ক্রিন রিডারের জন্যও সহায়ক। গুগল ছবিকে “পড়তে” পারে না, এটি Alt Text পড়ে ছবির বিষয়বস্তু বোঝে। তাই Alt Text-এ আপনার প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
অ্যাডভান্সড On-Page SEO টেকনিক (Advanced On-Page SEO Techniques)
বেসিক বিষয়গুলো ঠিক করার পর, আপনার ওয়েবসাইটকে প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে নিতে কিছু অ্যাডভান্সড কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। এই সেরা অন পেজ এসইও টেকনিক গুলো আপনার র্যাঙ্কিং-এ লক্ষণীয় পরিবর্তন আনতে পারে।
ইন্টারনাল এবং এক্সটার্নাল লিঙ্কিং এর কৌশল (Strategy for Internal and External Linking)
লিংক হলো ওয়েবের সংযোগ ব্যবস্থা। সঠিক লিঙ্কিং কৌশল আপনার এসইও প্রচেষ্টাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
- ইন্টারনাল লিঙ্কিং (Internal Linking):
- এটা কী? আপনার ওয়েবসাইটের এক পেজ থেকে অন্য পেজে লিংক দেওয়াকে ইন্টারনাল লিঙ্কিং বলে।
- কেন জরুরি?
- সাইট নেভিগেশন উন্নত করে: এটি ব্যবহারকারীদের সহজেই আপনার সাইটের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কন্টেন্ট খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
- পেজ অথরিটি (Link Juice) বিতরণ করে: আপনার সাইটের শক্তিশালী পেজগুলো থেকে কম শক্তিশালী পেজগুলোতে লিংক দিয়ে সেগুলোর অথরিটি বাড়াতে পারেন।
- গুগলকে সাইট স্ট্রাকচার বুঝতে সাহায্য করে: গুগল বট ইন্টারনাল লিংকের মাধ্যমে আপনার সাইটের বিভিন্ন পেজের মধ্যে সম্পর্ক এবং গুরুত্ব বুঝতে পারে।
- কিভাবে করবেন? যখন আপনি কোনো আর্টিকেল লিখবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার লেখা সম্পর্কিত অন্য আর্টিকেলের লিংক যোগ করুন। যেমন, এই আর্টিকেলে আমি টেকনিক্যাল এসইও নিয়ে কথা বলার সময় সেটির উপর লেখা অন্য একটি আর্টিকেলের লিংক দিতে পারি।
- এক্সটার্নাল লিঙ্কিং (External Linking):
- এটা কী? আপনার ওয়েবসাইট থেকে অন্য কোনো ওয়েবসাইটে লিংক দেওয়াকে এক্সটার্নাল লিঙ্কিং বা আউটবাউন্ড লিংক বলে।
- কেন জরুরি? অনেকে মনে করেন অন্য সাইটে লিংক দিলে ভিজিটর চলে যাবে, যা একটি ভুল ধারণা। যখন আপনি কোনো নির্ভরযোগ্য এবং অথরিটি সম্পন্ন সাইটে (যেমন – Wikipedia, Forbes, বা কোনো গবেষণার উৎস) লিংক দেন, তখন এটি গুগলের কাছে একটি ইতিবাচক সংকেত পাঠায়। এটি প্রমাণ করে যে আপনি আপনার তথ্য যাচাই করেছেন এবং ব্যবহারকারীদের আরও ভালো অভিজ্ঞতা দিতে চান। এটি আপনার কন্টেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি Google’s Search Quality Rater Guidelines এর মতো একটি উচ্চ-মানের উৎসের লিংক দিতে পারেন।
পেজ লোডিং স্পিড কেন এত জরুরি? (Why is Page Loading Speed so Important?)
গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ওয়েবসাইটের লোড হতে যদি ৩ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগে, তাহলে প্রায় ৪০% ভিজিটর সেই সাইট ছেড়ে চলে যায়। পেজ স্পিড এখন গুগলের একটি সরাসরি র্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর, বিশেষ করে Core Web Vitals আপডেটের পর থেকে।
- কিভাবে স্পিড চেক করবেন? Google PageSpeed Insights বা GTmetrix এর মতো ফ্রি টুল ব্যবহার করে আপনি আপনার সাইটের মোবাইল এবং ডেস্কটপ স্পিড পরীক্ষা করতে পারেন এবং উন্নতির জন্য পরামর্শ পেতে পারেন।
- স্পিড বাড়ানোর কিছু সহজ উপায়:
- ইমেজ অপটিমাইজ করুন: আমরা আগেই এটি নিয়ে আলোচনা করেছি।
- ভালো হোস্টিং ব্যবহার করুন: একটি সস্তা এবং নিম্নমানের হোস্টিং আপনার সাইটের স্পিডকে ধ্বংস করে দিতে পারে। একটি নির্ভরযোগ্য হোস্টিং প্রদানকারী বেছে নিন।
- ক্যাশিং প্লাগইন ব্যবহার করুন: আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করেন, তাহলে W3 Total Cache বা WP Rocket এর মতো প্লাগইন ব্যবহার করে আপনার সাইটের স্পিড বাড়াতে পারেন।
- অপ্রয়োজনীয় প্লাগইন ডি-অ্যাক্টিভেট করুন: অতিরিক্ত প্লাগইন আপনার সাইটকে স্লো করে দেয়। যেগুলো প্রয়োজন নেই, সেগুলো সরিয়ে ফেলুন।
মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ডিজাইন (Mobile-Friendly Design)
আজকের দিনে অর্ধেকেরও বেশি ইন্টারনেট ট্রাফিক আসে মোবাইল ডিভাইস থেকে। এই কারণে গুগল এখন “মোবাইল-ফার্স্ট ইনডেক্সিং” ব্যবহার করে। এর মানে হলো, গুগল আপনার সাইটের মোবাইল সংস্করণটিকে র্যাঙ্কিং এর জন্য প্রধান সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করে, ডেস্কটপ সংস্করণটিকে নয়।
আপনার ওয়েবসাইট যদি মোবাইলে ঠিকমতো দেখা না যায় বা ব্যবহার করা কঠিন হয়, তাহলে আপনি প্রচুর ট্রাফিক এবং র্যাঙ্কিং হারাবেন।
- কিভাবে চেক করবেন? Google’s Mobile-Friendly Test টুল ব্যবহার করে আপনি সহজেই চেক করতে পারেন আপনার সাইট মোবাইল-ফ্রেন্ডলি কিনা।
- সমাধান: একটি রেসপন্সিভ (Responsive) থিম বা ডিজাইন ব্যবহার করুন, যা যেকোনো স্ক্রিন সাইজে (ডেস্কটপ, ট্যাবলেট, মোবাইল) নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।
স্কিমা মার্কআপ (Schema Markup) বা স্ট্রাকচার্ড ডেটা (Structured Data)
এটি একটি অ্যাডভান্সড কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী অন পেজ এসইও টেকনিক। স্কিমা মার্কআপ হলো এক ধরনের কোড যা আপনি আপনার ওয়েবসাইটে যোগ করেন, যাতে সার্চ ইঞ্জিন আপনার কন্টেন্টকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং সার্চ রেজাল্টে আরও তথ্যবহুলভাবে দেখাতে পারে।
- এর সুবিধা কী? এটি আপনাকে “রিচ স্নিপেট” (Rich Snippets) পেতে সাহায্য করে। যেমন – সার্চ রেজাল্টে স্টার রেটিং, রিভিউ, প্রশ্নের উত্তর (FAQ), রেসিপির সময় ইত্যাদি দেখানো।
- উদাহরণ: আপনি যদি একটি FAQ পেজ তৈরি করেন এবং সেখানে FAQ স্কিমা যোগ করেন, তাহলে গুগল সরাসরি সার্চ রেজাল্টে আপনার প্রশ্ন এবং উত্তরগুলো দেখাতে পারে। এটি আপনার লিংকের ভিজিবিলিটি এবং ক্লিক-থ্রু-রেট (CTR) দুটোই বাড়িয়ে দেয়।
এটি প্রয়োগ করা কিছুটা টেকনিক্যাল মনে হতে পারে, কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারীদের জন্য Rank Math বা Yoast SEO এর মতো প্লাগইন এই কাজটি অনেক সহজ করে দেয়।
উপসংহার (Conclusion)
আশা করি, এই বিস্তারিত আলোচনার পর অন পেজ এসইও কি এবং কিভাবে On-Page SEO করবেন সে সম্পর্কে আপনার একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়েছে। মনে রাখবেন, অন পেজ এসইও কোনো রকেট সায়েন্স নয়, বরং এটি ব্যবহারকারী এবং সার্চ ইঞ্জিন উভয়ের জন্য আপনার ওয়েবসাইটকে আরও ভালো এবং বোধগম্য করে তোলার একটি শিল্প। এটি একটি এককালীন কাজ নয়, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া। আপনাকে প্রতিনিয়ত আপনার কন্টেন্ট পর্যালোচনা করতে হবে এবং নতুন কৌশলগুলোর সাথে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে। উপরের On-Page SEO checklist বাংলা অনুসরণ করে কাজ শুরু করুন। এখনই আপনার ওয়েবসাইটের একটি পেজ বেছে নিন এবং এই টিপসগুলো প্রয়োগ করা শুরু করুন। আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQ Section)
প্রশ্ন ১: অন পেজ এসইও শিখতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তর: অন পেজ এসইও-এর মৌলিক বিষয়গুলো শিখতে কয়েক সপ্তাহই যথেষ্ট। তবে, একজন বিশেষজ্ঞ হতে এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, কারণ এসইও একটি পরিবর্তনশীল ক্ষেত্র।
প্রশ্ন ২: কীওয়ার্ড ডেনসিটি কত হওয়া উচিত?
উত্তর: আগের দিনে কীওয়ার্ড ডেনসিটি একটি বড় ফ্যাক্টর ছিল, কিন্তু এখন আর নেই। নির্দিষ্ট কোনো শতাংশ (যেমন ২-৩%) অনুসরণ না করে, আপনার কন্টেন্টে প্রধান কীওয়ার্ড এবং সম্পর্কিত কীওয়ার্ডগুলো স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করুন। জোর করে কীওয়ার্ড বসালে তা “কীওয়ার্ড স্টাফিং” হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা আপনার র্যাঙ্কিং-এর জন্য ক্ষতিকর।
প্রশ্ন ৩: আমি কি পুরনো আর্টিকেলে On-Page SEO করতে পারি?
উত্তর: অবশ্যই! পুরনো আর্টিকেলগুলোকে নতুন তথ্য দিয়ে আপডেট করা এবং সেগুলোতে সঠিক অন পেজ এসইও প্রয়োগ করাকে “কন্টেন্ট রিফ্রেশ” বলা হয়। এটি আপনার র্যাঙ্কিং বাড়ানোর জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকরী কৌশল।
প্রশ্ন ৪: On-Page SEO এর জন্য সেরা টুল কোনটি?
উত্তর: কন্টেন্ট এবং অন-সাইট অডিটের জন্য Ahrefs, SEMrush, এবং Screaming Frog চমৎকার টুল। ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারীদের জন্য Rank Math বা Yoast SEO প্লাগইনগুলো অন পেজ এসইও-এর কাজ অনেক সহজ করে দেয়।
প্রশ্ন ৫: মোবাইল এসইও কি অন পেজ এসইও এর অংশ?
উত্তর: হ্যাঁ, মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ডিজাইন বা রেসপন্সিভনেস অন পেজ এসইও-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেহেতু গুগল এখন মোবাইল-ফার্স্ট ইনডেক্সিং ব্যবহার করে, তাই মোবাইল অপটিমাইজেশন ছাড়া ভালো র্যাঙ্কিং প্রায় অসম্ভব।
প্রশ্ন ৬: টাইটেল ট্যাগ এবং H1 ট্যাগের মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর: টাইটেল ট্যাগ (<title>) হলো যা গুগল সার্চ রেজাল্টে এবং ব্রাউজারের ট্যাবে দেখা যায়। অন্যদিকে, H1 ট্যাগ (<h1>) হলো পেজের ভেতরের প্রধান শিরোনাম যা ব্যবহারকারীরা পৃষ্ঠায় প্রবেশ করার পর দেখতে পায়। যদিও দুটোই প্রায়শই একই রকম হয়, তবে তারা দুটি ভিন্ন HTML উপাদান।
