আপনার একটি সুন্দর ওয়েবসাইট আছে, দারুণ সব লেখা বা প্রোডাক্ট আছে, কিন্তু কেউ সেটি খুঁজে পাচ্ছে না। বিষয়টা ঠিক এমন যে, আপনি অনেক সুন্দর করে আপনার ঘর সাজালেন, কিন্তু কাউকে সেই ঘরের ঠিকানাটাই বললেন না। তাহলে কি কেউ আপনার ঘরে আসবে? একদমই না। ঠিক এখানেই আসে অফ পেজ এসইও-এর গুরুত্ব। অন-পেজ এসইও হলো আপনার ওয়েবসাইট বা ঘরকে সুন্দর করে সাজানো, আর অফ পেজ এসইও হলো আপনার সেই সুন্দর ঘরের কথা সবাইকে জানিয়ে দেওয়া, যাতে মানুষ আপনার ঘরে আসতে আগ্রহী হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানব অফ পেজ এসইও কি এবং এর পেছনের কিছু গোপন কৌশল যা আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম পাতায় নিয়ে আসতে সাহায্য করবে। আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি সহজ ভাষায় সবকিছু তুলে ধরব, যাতে আপনি সহজেই বুঝতে পারেন।
অফ পেজ এসইও আসলে কি? (What Exactly is Off-Page SEO?)
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, অফ পেজ এসইও হলো সেই সমস্ত কাজ যা আপনি আপনার ওয়েবসাইটের বাইরে করেন আপনার সাইটের র্যাঙ্কিং উন্নত করার জন্য। এর মূল উদ্দেশ্য হলো গুগল এবং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনকে বোঝানো যে আপনার ওয়েবসাইটটি কতটা জনপ্রিয়, বিশ্বাসযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাপারটা আরেকটু সহজ করে বোঝাই। ধরুন, আপনার এলাকায় দুজন ডাক্তার আছেন। প্রথম ডাক্তার নিজের সাইনবোর্ডে বড় বড় করে লিখেছেন “আমি সেরা ডাক্তার”। আর দ্বিতীয় ডাক্তারের কথা এলাকার দশজন প্রভাবশালী মানুষ এসে আপনাকে বলল যে, “উনি খুব ভালো ডাক্তার, উনার কাছে যাও।” আপনি কার কাছে যাবেন? অবশ্যই দ্বিতীয় ডাক্তারের কাছে।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রধান প্রকারভেদ: সম্পূর্ণ গাইডলাইন (বাস্তব উদাহরণসহ)
এখানে, প্রথম ডাক্তার যা করেছেন তা হলো অন পেজ এসইও (নিজের সাইটকে ভালো বলা), আর দ্বিতীয় ডাক্তারের জন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যা করেছেন, সেটাই হলো অফ পেজ এসইও (অন্যরা আপনার সাইটকে ভালো বলছে)। গুগলও ঠিক এভাবেই কাজ করে। যখন অন্য কোনো ভালো ওয়েবসাইট আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক শেয়ার করে, গুগল সেটাকে একটি ‘ভোট’ বা ‘সুপারিশ’ হিসেবে দেখে। যত বেশি কোয়ালিটি সম্পন্ন ওয়েবসাইট থেকে আপনি এমন ভোট পাবেন, গুগলের চোখে আপনার ওয়েবসাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা তত বাড়বে।
অফ পেজ এসইও কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শুধু ভালো কনটেন্ট লিখলেই গুগলে র্যাঙ্ক করা এখন প্রায় অসম্ভব। কারণ, একই বিষয়ে হাজার হাজার ওয়েবসাইট ভালো কনটেন্ট লিখছে। তাহলে গুগল কাকে আগে দেখাবে? গুগল তাকেই প্রাধান্য দেয় যার শুধু ভালো কনটেন্টই নেই, বরং যার একটি শক্তিশালী অনলাইন খ্যাতি বা অথরিটি আছে। অফ পেজ এসইও ঠিক এই খ্যাতিটাই তৈরি করে।
- র্যাঙ্কিং বৃদ্ধি করে: অফ পেজ এসইও-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি সরাসরি সার্চ ইঞ্জিন র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলে। ভালো ব্যাকলিংক গুগলকে শক্তিশালী সিগন্যাল পাঠায়।
- ডোমেইন অথরিটি (DA) বাড়ায়: ডোমেইন অথরিটি কি? এটি হলো Moz এর তৈরি একটি স্কোর যা দিয়ে বোঝা যায় একটি ওয়েবসাইট গুগলে র্যাঙ্ক করার কতটা সম্ভাবনা রাখে। যত ভালো অফ পেজ প্রোফাইল হবে, DA তত বাড়বে।
- ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে: যখন মানুষ বিভিন্ন বড় বড় সাইটে আপনার ব্র্যান্ড বা ওয়েবসাইটের নাম দেখে, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার প্রতি তাদের আস্থা তৈরি হয়।
- টার্গেটেড ট্রাফিক নিয়ে আসে: ধরুন, আপনি স্বাস্থ্য নিয়ে লেখেন। যদি Healthline এর মতো একটি বড় ওয়েবসাইট থেকে আপনি একটি লিঙ্ক পান, তবে সেখান থেকে যারা আপনার সাইটে আসবে, তারা অবশ্যই স্বাস্থ্য সচেতন। একে বলা হয় রেফারেল ট্রাফিক, যা কনভার্সনের জন্য খুবই কার্যকরী।
- ব্র্যান্ড পরিচিতি বাড়ায়: গেস্ট পোস্টিং, সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার বা ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে আপনার ব্র্যান্ডের নাম অনেকের কাছে পৌঁছে যায়, যা আপনার ব্র্যান্ডকে পরিচিত করে তোলে।
এক কথায়, অন-পেজ এসইও যদি গাড়ির ইঞ্জিন হয়, তাহলে অফ পেজ এসইও হলো সেই জ্বালানি যা ইঞ্জিনকে চালিয়ে বহুদূর নিয়ে যায়। একটি ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ।
সবচেয়ে কার্যকরী অফ পেজ এসইও করার নিয়ম (Proven Off-Page SEO Techniques)
অফ পেজ এসইও করার অনেক উপায় আছে, কিন্তু সবগুলো সমান কার্যকরী নয়। সময়ের সাথে সাথে গুগলের অ্যালগরিদম অনেক স্মার্ট হয়েছে। তাই এখন আর যেনতেনভাবে লিঙ্ক তৈরি করলে লাভ হয় না, বরং ক্ষতি হতে পারে। নিচে আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে সবচেয়ে কার্যকরী এবং নিরাপদ কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা করছি।
১. কোয়ালিটি লিঙ্ক বিল্ডিং (Link Building): অফ পেজ এসইও-এর রাজা
লিঙ্ক বিল্ডিং অফ পেজ এসইও-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এখানে সংখ্যার চেয়ে কোয়ালিটির গুরুত্ব অনেক বেশি। একটি হাই-অথরিটি ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া লিঙ্ক, ১০০টি লো-কোয়ালিটি সাইটের লিঙ্ক থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী। চলুন, কিছু সেরা লিঙ্ক বিল্ডিং কৌশল জেনে নিই।
ক) গেস্ট পোস্টিং (Guest Posting)
এটি হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কার্যকরী একটি কৌশল। সহজ কথায়, আপনি অন্য কারো জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে বা ব্লগে একজন অতিথি লেখক হিসেবে একটি আর্টিকেল লিখবেন এবং সেই আর্টিকেল থেকে নিজের ওয়েবসাইটের জন্য একটি লিঙ্ক নিবেন।
গেস্ট পোস্টিং করার নিয়ম:
- সঠিক ওয়েবসাইট খুঁজুন: প্রথমে আপনার বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত (relevant) এবং ভালো ডোমেইন অথরিটি সম্পন্ন ওয়েবসাইট খুঁজুন। Google-এ এভাবে সার্চ করতে পারেন:
আপনার বিষয় + "write for us"বাআপনার বিষয় + "guest post"। - সঠিক মানুষের সাথে যোগাযোগ করুন: ওয়েবসাইটের মালিক বা এডিটরের সাথে ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করুন। নিজেকে পরিচিত করুন এবং বলুন কেন আপনি তাদের সাইটে লিখতে আগ্রহী।
- আকর্ষণীয় টপিক পিচ করুন: তাদের সাইটের জন্য উপযুক্ত এবং ইউনিক কিছু আর্টিকেলের আইডিয়া পাঠান যা তাদের পাঠকদের ভালো লাগবে। গতানুগতিক আইডিয়া পাঠাবেন না।
- সেরাটা লিখুন: আপনার পিচ অ্যাপ্রুভ হলে, আপনার সেরা লেখাটা দিন। এমনভাবে লিখুন যেন মনে হয় এটা আপনার নিজের ব্লগের জন্যই লিখছেন। কোনোভাবেই কপি-পেস্ট বা নিম্নমানের লেখা জমা দেবেন না।
- সঠিকভাবে লিঙ্ক যুক্ত করুন: লেখার মধ্যে 자연스럽ভাবে আপনার ওয়েবসাইটের একটি প্রাসঙ্গিক পৃষ্ঠার লিঙ্ক যুক্ত করুন। চেষ্টা করবেন অ্যাংকর টেক্সট যেন ন্যাচারাল হয়।
আমার অভিজ্ঞতা বলে, গেস্ট পোস্টিং শুধু একটি ব্যাকলিংক পাওয়ার উপায় নয়, এটি ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করার এবং নিজের ব্র্যান্ডকে পরিচিত করার একটি দারুণ মাধ্যম।
খ) ব্রোকেন লিঙ্ক বিল্ডিং টেকনিক (Broken Link Building Technique)
এটি আমার সবচেয়ে পছন্দের একটি লিঙ্ক বিল্ডিং কৌশল। কারণ এখানে আপনি কারো কাছে লিঙ্ক ভিক্ষা করছেন না, বরং তাকে সাহায্য করে তার বিনিময়ে একটি লিঙ্ক পাচ্ছেন।
প্রসেসটা খুবই সহজ:
- ব্রোকেন লিঙ্ক খুঁজুন: আপনার বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত বড় ওয়েবসাইটগুলোতে এমন কোনো লিঙ্ক খুঁজুন যা এখন আর কাজ করে না (404 Error দেখায়)। এর জন্য Ahrefs বা Check My Links এর মতো টুল ব্যবহার করতে পারেন।
- বিকল্প কনটেন্ট তৈরি করুন: যে পেজটির লিঙ্ক ভেঙে গেছে, তার চেয়েও ভালো এবং আপডেটেড একটি কনটেন্ট আপনার ওয়েবসাইটে তৈরি করুন।
- ওয়েবসাইটের মালিককে জানান: এবার ওই ওয়েবসাইটের মালিককে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ইমেইল করুন। তাকে জানান যে, “আপনার এই পেজে একটি ব্রোকেন লিঙ্ক খুঁজে পেয়েছি যা আপনার ইউজারদের জন্য খারাপ অভিজ্ঞতা তৈরি করছে। আমি সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত আর্টিকেল লিখেছি, আপনি চাইলে পুরোনো লিঙ্কের বদলে আমার আর্টিকেলটি লিঙ্ক করতে পারেন।”
এই পদ্ধতিতে সফলতার হার অনেক বেশি, কারণ আপনি অন্যের উপকার করছেন।
গ) রিসোর্স পেজ লিঙ্ক বিল্ডিং (Resource Page Link Building)
অনেক ওয়েবসাইট তাদের পাঠকদের জন্য “Resources” বা “Useful Links” নামে একটি পেজ তৈরি করে যেখানে তারা বিভিন্ন দরকারি ওয়েবসাইটের লিঙ্ক শেয়ার করে। আপনার কাজ হলো এমন রিসোর্স পেজ খুঁজে বের করা এবং সেখানে নিজের ওয়েবসাইটকে যুক্ত করার জন্য অনুরোধ করা।
Google-এ এভাবে সার্চ করুন: আপনার বিষয় + "resources" বা আপনার বিষয় + "useful links"। এরপর পেজগুলোর মালিকদের সাথে যোগাযোগ করে বলুন আপনার সাইটটি তাদের পাঠকদের জন্য কতটা উপকারী হতে পারে।
২. ব্র্যান্ড বিল্ডিং এবং মেনশন (Brand Building and Mentions)
আজকের দিনে গুগল শুধু লিঙ্ক দেখে না, ব্র্যান্ড সিগন্যালকেও অনেক গুরুত্ব দেয়। আপনার ব্র্যান্ডের নাম যত বেশি অনলাইনে আলোচিত হবে, গুগল ততটাই আপনাকে গুরুত্ব দেবে।
- ব্র্যান্ড মেনশন কি? যখন কোনো ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার ব্র্যান্ডের নাম (যেমন: “Daraz“) উল্লেখ করা হয়, কিন্তু কোনো লিঙ্ক দেওয়া হয় না, তাকে বলা হয় Unlinked Brand Mention। গুগল এগুলোকেও পজিটিভ সিগন্যাল হিসেবে দেখে। আপনি Google Alerts ব্যবহার করে আপনার ব্র্যান্ডের মেনশন ট্র্যাক করতে পারেন এবং যেখানে লিঙ্ক দেওয়া হয়নি, সেখানে একটি লিঙ্ক দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারেন।
- অনলাইন রিভিউ: Google My Business, Trustpilot বা আপনার ইন্ডাস্ট্রির জন্য প্রাসঙ্গিক রিভিউ সাইটে পজিটিভ রিভিউ আপনার ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social Media Marketing)
অনেকে মনে করেন সোশ্যাল মিডিয়ার লিঙ্কগুলো “nofollow” হওয়ায় এসইও-তে এর কোনো দাম নেই। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। যদিও সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার সরাসরি র্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর নয়, তবে এর পরোক্ষ প্রভাব বিশাল।
- কনটেন্ট শেয়ার: যখন আপনার কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়াতে (যেমন: Facebook, Twitter, LinkedIn) অনেক বেশি শেয়ার হয়, তখন এটি গুগলের কাছে একটি সিগন্যাল পাঠায় যে কনটেন্টটি জনপ্রিয় এবং কার্যকরী।
- ট্রাফিক বৃদ্ধি: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আপনার সাইটে প্রচুর ভিজিটর আসে, যা আপনার সাইটের এনগেজমেন্ট বাড়ায়।
- ন্যাচারাল লিঙ্ক আকর্ষণ করে: আপনার কোনো লেখা যদি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়, তবে অনেক ব্লগার বা সাংবাদিক সেটি দেখে তাদের নিজেদের লেখায় আপনার লিঙ্কটি স্বাভাবিকভাবেই যুক্ত করতে পারে। একেই বলে ন্যাচারাল লিঙ্ক বিল্ডিং।
তাই, আপনার প্রতিটি কনটেন্ট অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন এবং মানুষকে শেয়ার করতে উৎসাহিত করুন।
৪. ফোরাম এবং ব্লগ কমেন্টিং (Forum and Blog Commenting)
কিছু বছর আগে স্প্যামাররা এই দুটি কৌশলকে প্রায় নষ্ট করে ফেলেছিল। হাজার হাজার অটোমেটেড কমেন্ট করে লিঙ্ক তৈরি করা হতো। কিন্তু আমি বলছি হোয়াইট হ্যাট অফ পেজ এসইও-এর কথা।
- ফোরাম পোস্টিং এসইও: Quora, Reddit বা আপনার ইন্ডাস্ট্রির নির্দিষ্ট ফোরামগুলোতে মানুষের প্রশ্নের সঠিক এবং বিস্তারিত উত্তর দিন। আপনার উত্তরে যদি প্রয়োজন হয়, তবে সাহায্যের জন্য আপনার ওয়েবসাইটের কোনো আর্টিকেলের লিঙ্ক শেয়ার করুন। উদ্দেশ্য হবে সাহায্য করা, লিঙ্ক দেওয়া নয়।
- ব্লগ কমেন্টিং এর সঠিক নিয়ম: অন্যের ব্লগে গিয়ে “Nice post” বা “Thanks for sharing” লিখে নিজের লিঙ্ক দিয়ে আসবেন না। এতে কোনো লাভ নেই। আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ুন এবং এমন একটি মন্তব্য করুন যা আলোচনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। যদি আপনার ওয়েবসাইটে ঐ বিষয়ে আরও তথ্য থাকে, তবে প্রাসঙ্গিকভাবে তার উল্লেখ করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি সম্পর্ক তৈরি করতে পারবেন এবং নিজের পরিচিতি বাড়াতে পারবেন।
এই কৌশলগুলো সরাসরি শক্তিশালী ব্যাকলিংক না দিলেও আপনার ব্র্যান্ডকে পরিচিত করতে এবং রেফারেল ট্রাফিক আনতে দারুণভাবে সাহায্য করে।
হোয়াইট হ্যাট বনাম ব্ল্যাক হ্যাট অফ পেজ এসইও: কোন পথে হাঁটবেন?
অফ পেজ এসইও-এর জগতে দুটি পথ খোলা আছে: একটি সৎ এবং টেকসই পথ (হোয়াইট হ্যাট), অন্যটি অসৎ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পথ (ব্ল্যাক হ্যাট)। একজন নতুন হিসেবে আপনার এই দুটি পথের পার্থক্য জানা অত্যন্ত জরুরি।
হোয়াইট হ্যাট অফ পেজ এসইও (White Hat Off-Page SEO)
আমরা এতক্ষণ যা যা আলোচনা করেছি (যেমন: কোয়ালিটি গেস্ট পোস্টিং, ব্রোকেন লিঙ্ক বিল্ডিং, ব্র্যান্ড বিল্ডিং) তার সবই হোয়াইট হ্যাট এসইও-এর অন্তর্ভুক্ত।
- বৈশিষ্ট্য:
- এটি গুগলের সব নিয়ম-কানুন মেনে চলে।
- এখানে ব্যবহারকারীদের মূল্য দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
- এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই কৌশল।
- ফলাফল আসতে সময় লাগে, কিন্তু সেই ফলাফল স্থায়ী হয়।
আমার পরামর্শ হলো, সবসময় এই পথেই হাঁটবেন। হয়তো আপনার কিছুটা বেশি সময় লাগবে, কিন্তু আপনি যা অর্জন করবেন, তা কখনো হারাবেন না। বাড়ি বানানোর সময় যেমন ভালো মানের ইট-সিমেন্ট দিয়ে বানালে সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়, হোয়াইট হ্যাট এসইও ঠিক তেমনই।
ব্ল্যাক হ্যাট অফ পেজ এসইও (Black Hat Off-Page SEO)
এটি হলো গুগলের অ্যালগরিদমকে ফাঁকি দিয়ে দ্রুত র্যাঙ্কিং পাওয়ার একটি অসৎ উপায়। যারা এই কৌশল ব্যবহার করে, তারা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবে না, তাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে সার্চ ইঞ্জিনকে ধোঁকা দেওয়া।
- কিছু ব্ল্যাক হ্যাট কৌশল:
- লিঙ্ক কেনা-বেচা (Paid Links): টাকা দিয়ে অন্য ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক কেনা।
- প্রাইভেট ব্লগ নেটওয়ার্ক (PBN): নিজের অনেকগুলো ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখান থেকে মূল সাইটে লিঙ্ক দেওয়া।
- অতিরিক্ত লিঙ্ক এক্সচেঞ্জ (Excessive Link Exchange): “তুমি আমাকে লিঙ্ক দাও, আমি তোমাকে দেব” – এই ধরনের অপ্রাসঙ্গিক লিঙ্ক বিনিময়।
- কমেন্ট স্প্যামিং: সফটওয়্যার ব্যবহার করে হাজার হাজার ব্লগে অটোমেটেড কমেন্ট করে লিঙ্ক তৈরি করা।
- ঝুঁকি:
- ব্ল্যাক হ্যাট কৌশল ব্যবহার করলে হয়তো আপনি অল্প সময়ের জন্য র্যাঙ্কিংয়ে ভালো ফল পেতে পারেন, কিন্তু গুগল যখনই এটি ধরতে পারবে, আপনার ওয়েবসাইটকে ভয়ানক পেনাল্টি দেবে।
- এই পেনাল্টির ফলে আপনার সাইট গুগলের সার্চ রেজাল্ট থেকে পুরোপুরি মুছে যেতে পারে। সেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব।
আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আমি অনেক ওয়েবসাইটকে ব্ল্যাক হ্যাট কৌশল ব্যবহার করে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেছি। তাই, এই লোভনীয় কিন্তু বিপজ্জনক পথ থেকে সবসময় দূরে থাকবেন।
উপসংহার
আশা করি, এই বিস্তারিত আলোচনার পর অফ পেজ এসইও কি এবং অফ পেজ এসইও করার নিয়ম সম্পর্কে আপনার ধারণা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়েছে। মনে রাখবেন, অফ পেজ এসইও কোনো একদিনের কাজ নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটিকে একটি সম্পর্ক তৈরির মতো করে দেখুন। আপনি যত মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করবেন, যত মানুষের উপকার করবেন, আপনার খ্যাতি তত বাড়বে।
ধৈর্য ধরুন, কোয়ালিটির ওপর ফোকাস করুন এবং সবসময় সৎ পথে থাকুন। ওপরের কৌশলগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম পাতায় আসা থেকে কেউ আটকাতে পারবে না। এবার আপনার ওয়েবসাইটের জন্য অফ পেজ এসইও শুরু করার পালা। কোন কৌশলটি আপনার সবচেয়ে ভালো লেগেছে বা আপনি কোনটি প্রথমে চেষ্টা করতে চান, নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান!
সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQ Section)
প্রশ্ন ১: অফ পেজ এসইও বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অফ পেজ এসইও হলো আপনার ওয়েবসাইটের বাইরে করা সমস্ত কার্যকলাপ, যেমন লিঙ্ক বিল্ডিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এবং ব্র্যান্ড মেনশন, যা আপনার সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সার্চ ইঞ্জিন র্যাঙ্কিং বাড়াতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ২: প্রতিদিন কয়টি ব্যাকলিংক তৈরি করা উচিত?
উত্তর: ব্যাকলিংকের সংখ্যা নিয়ে ভাববেন না, কোয়ালিটি নিয়ে ভাবুন। প্রতিদিন ১০টি খারাপ লিঙ্ক তৈরির চেয়ে মাসে একটি ভালো এবং প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইট থেকে লিঙ্ক পাওয়া অনেক বেশি মূল্যবান।
প্রশ্ন ৩: অফ পেজ এসইও কি খুব কঠিন?
উত্তর: অফ পেজ এসইও কঠিন নয়, তবে সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্য্যের ব্যাপার। সঠিক কৌশল জানা থাকলে এবং ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করলে যে কেউ এটি করতে পারে।
প্রশ্ন ৪: ডোমেইন অথরিটি (DA) কি এবং এটি কিভাবে বাড়ানো যায়?
উত্তর: ডোমেইন অথরিটি বা DA হলো Moz দ্বারা তৈরি একটি স্কোর (১-১০০) যা একটি ওয়েবসাইটের র্যাঙ্কিং ক্ষমতা নির্দেশ করে। হাই-কোয়ালিটি এবং প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক পাওয়ার মাধ্যমে DA বাড়ানো যায়।
প্রশ্ন ৫: অফ পেজ এসইও-এর ফলাফল দেখতে কত সময় লাগে?
উত্তর: এটি ওয়েবসাইট, প্রতিযোগিতা এবং আপনার কাজের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত, ভালোভাবে কাজ করলে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে আপনি উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেখতে শুরু করবেন।
প্রশ্ন ৬: গেস্ট পোস্টিং কি এখনও কাজ করে?
উত্তর: হ্যাঁ, কোয়ালিটি গেস্ট পোস্টিং এখনও অফ পেজ এসইও-এর সবচেয়ে কার্যকরী কৌশলগুলোর মধ্যে একটি। তবে স্প্যামি বা অপ্রাসঙ্গিক সাইটে গেস্ট পোস্টিং করলে কোনো লাভ হয় না।
প্রশ্ন ৭: সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার কি র্যাঙ্কিংয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলে?
উত্তর: সরাসরি না, তবে পরোক্ষভাবে ফেলে। বেশি শেয়ার মানে বেশি জনপ্রিয়তা এবং ট্রাফিক, যা গুগলকে একটি ইতিবাচক সংকেত পাঠায় এবং ন্যাচারাল ব্যাকলিংক পেতে সাহায্য করে।
